Toker bivinno somossa o tar protikar

Toker bivinno somossa o tar protikar

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও তার প্রতিকার

অনেক সময় দেখা যায় যে আপনি মন-প্রাণ ঢেলে নিয়মিত পরিচর্যা করার পরেও ব্রণ ব্যাকহেড ছুলি জাতীয় ত্বকের বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন। ত্বকের এসব সমস্যা সম্পর্কে আপনার জেনে রাখা ভালো। এমন সমস্যার কয়েকটি আপনি নিজেই বিশেষ পরিচর্যা করে সারিয়ে তুলতে পারেন। আর য়োড়া ধরনের বাকি সমস্যার জন্য অবশ্যই আপনার পারিবারিক চিকিৎসক বা কোনো চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করবেন। মনে রাখবেন সাদারণত আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ কোনো অঙ্গ যখনই রোগে ক্লান্ত হয়, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ত্বকে অর্থাৎ ত্বক আগে-ভাগেই আভ্যন্তরীণ রোগ সম্পর্কে সর্তক করে দেয়। সেজন্য ত্বকের ছোটখাট সমস্যাকে ককখনো হালকাভাবে নেবেন না।

১। ব্রণ বা বয়ঃব্রণ

সাধারণত বিভিন্ন বয়সে ও সদ্য যৌবনাপ্রাপ্ত তরুণীদের দু গালে, কপালে নাক ও চিবুকে কখনো দু চারটে কখনো বা খুব বেশি ফোলা ফোলা সামান্য লাল আভা যুক্ত ফুসকুড়ি অনেকটা অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সাময়ে সময়ে এসব ফুসকুঁড়িতে অল্প পুঁজও জমে। মুখমন্ডললের ত্বকে এ জাতীয় ব্রণ সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই প্রথম থেকেই বিশেষ সতর্কতা নিয়ে এগুলো সারিয়ে ফেলা উচিৎ। ত্বকের ক্ষেত্রে অবহেলার ফল মারাত্বক হতে পারে। বেশি অবহেলার ফলে এ জাতীয় ব্রণ ত্বকের কেন্দ্রীয় স্তবকের ওপর বরাবরের জন্য ক্ষতচিহ্নের সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আপনার সজীব প্রাণবত্ব ত্বকের ওপর কতগুলো ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াতে হবে সারা জীবণ ধরে।

যৌবনের প্রথম দিকেই শরীরে নানা রকম পরিবর্তন শুরু হয়। এ সময়ে শরীরে যৌনগ্রন্থ থেকে হরমোন নিঃসৃত হয় এ তৈলগ্রন্থি থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে তেল নিঃসৃত হয়। ফলে অনেকেই ব্রণ জাতীয় উৎপাতের সম্মুখীন হয়। যৌনগ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনই ব্রণ হবার মূল কারণ হিসাবে ধরা হয়। যারা অল্পবয়স্কা তরুণী তাদের উচিত ব্রণ দেখঅ দেবার সাথে সাথেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ও তাঁর কথামতো ব্রণের উপযোগী ঔষুধযুক্ত সাবান ও ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করে সঠিক পরিচর্যা শুরু করা। নিজে পরিচর্যার কাজ বিশদভাবে তুলে ধরা হলো-

১) প্রতিদিন চারবার ঔষুধযুক্ত সাবান যেমন: Benzoyl peroxide. Sulphur ও salicylic Acid-যুক্ত সাবান বা শিশু-উপযোগী সাবান যেমন Baby Soap ব্যবহার করে মুখমন্ডলের ত্বক ঠান্ডা করে ধুয়ে নেবেন।

২) ব্রণ থাকাকালীন অন্য কোনো রকম গায়ে মাখা সাবান ব্যবহার করবেন না।

৩) প্রতিদিন সকালে সাবান দিয়ে মুখমন্ডল পরিস্কার করার পর ফুটন্ত গরম পানিতে কিছু তুলসী পাতা ছেড়ে ফেলে দিয়ে মুখমন্ডলে ভাপ নেবেন।

৪) ভাপ নেওয়া হয়ে গেলে বরফ পানির ঝাপটা দিয়ে বড় হয়ে যাওয়া রোমকূপ সংকুচিত করে নিন।

৫) প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মুখ মন্ডলের ত্বক ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন ও এর পর ১০ মিনিট পরে চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্রণের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ যুক্ত ক্রিম বা লোশন পরিস্কার স্টেরিলাইজড তুলোর সাহায্যে বুলিয়ে লাগান।

৬) কখনো হাত বা অন্য কিছূর সাহায্যে ব্রণ খুটিয়ে বা ব্রণের ভেতরের শক্ত সাদা পদার্থ বের করতে যাবেন না।

৭)  খোঁটাখুঁটির ফলে ব্রণ সংক্রামিত হয়ে বিষিয়ে গিয়ে ফল মারাক্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

৮) ব্রণ থাকাকালীন মুখ মন্ডলের ত্বকে কোনো তৈলাক্ত পদার্থ বা ক্রিম লাগাবেন না। শুধু ব্রণের পক্ষে উপকারি এমন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করবেন।

৯) এ ক্ষেত্রে নামকরা প্রস্তুতকারকের তৈরি ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা উচিত ও ব্যবহার করার আগে প্রস্তুতকারকের তরফ দেওয়া ব্যবহারের নির্দেশাবলি ভালো করে পড়ে নেবেন।

১০) খাদ্যতালিকা তেকে শাক, ডাটা, বাদাম, কাঁচা লবণ, নোনা পানির মাছ বা সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি আইয়োডাইড (Iodide) যুক্ত খাবার বাদ দেবেন। এছাড়া চর্বিজাতীয় খাবার ও ভাজাভুজি বাদ দেবেন।

১১) এ সময় মিষ্টি পানির মাছ চর্বিহীন মাংস সরতোলা দুধ, টাটকা ফলের রস, মধু ইত্যাদি খাবেন।

১২) প্রতিদিন ৬তেকে ৭গ্লাস পানি খাবেন।

১৩) যদি বোঝেন কোনো বিশেষ খাবার খেলে ব্রণের উৎপাত বাড়ছে, সেটি অবশ্যই বাদ দেবেন।

১৪) অখুশি বা মানসিক দুঃশ্চিন্তা ব্রণের পক্ষে ক্ষতিকারক।

১৫) যথাসম্ভব প্রফুল ও হাসিখুশি থাকার চষ্টা করবেন।

১৬) অনেক সময় মাথায় খুশকি থাকলে মুখমন্ডলের ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে সপ্তাহে দু বার নামী উৎপাদকের খুশকির জন্য বিশেষভাবে তৈরি শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিস্কার করবেন।

১৭) জন্মনিয়ন্ত্রনের বড়ি শরীরের ওজন কমার জন্য ডায়েট বড়ি ও কাশির বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ইত্যাদির অতি ব্যবহারের ফলেও অনেক সময় বয়স্কা মহিলাদের মুখমন্ডলের ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়। এ ধরনের কোনো কিছু খাবার ফলে ব্রণ হচ্ছে মনে হলে অবশ্যই আপনার পারিবারিক চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে তার পরামর্শমতো চলবেন।

১৮) এ সময় যতটা সম্ভব খোলা আলো-হাওয়া ত্বকে লাগাবেন।

Leave a Comment