Kibhabe cula gojay

কীভাবে চুল গজায়

সাধারণত মাথার ত্বকে প্রায় লক্ষ হেয়ার ফলিকল থাকে। ব্যাক্তিবিশেষে এর হেরফের হতে পারে। এই ফলিকলে দেহজ প্রোটিন চুলে রুপান্তরিত হয়। সদ্য জন্মনো শিশুর ফলিকল আকারে খুব ছোট হয়, যার ফলে খুব পাতলা মসৃণ চুল এ ফলিকল থেকে তৈরি হয়। সাধারণত ১২ বছর বয়স পর্যন্ত এমন পাতলা চুল দেখা যায়। সাধারণত ১২ বছর থেকেই কিশোরীর শরীরে বয়োসন্ধির সমস্ত লক্ষণ ফুটে ওঠে। এ সময়  ফলিকল আকারে বড় হয় ও ঘন চুল তৈরি করতে শুরু করে। আবার শেষ বয়সে এই ফলিকল আবার সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে পাতলা চুল তৈরি করে। ফলিকলের গঠনের ওপর চুলের গঠন নির্ভর করে। গোলাকার ফলিকল সোজা স্বাভাবিক চুল তৈরী করে। সামান্য বাঁকা ফলিকল ঢেউ-খেলানো চুল তৈরি করে। আঁকাবাঁকা ফলিকল থেকে কোঁকড়ানো চুল তৈরি হয়। প্রতিটি ফলিকলের সাথে তেলগ্রন্থির যোগ থাকে। তেলগ্র্রন্থি থেকে নিঃসৃত তেল ফলিকলে জমা হয় এবং এই তেলই চুলকে তৈলাক্ত চকচকে ও মসৃণ করে তোলে। তেলগ্রন্থি থেকে  যদি কম তেল নিঃসৃত হয়, তাহলে চুল শুস্ক হয়ে যায়। অনুরুপভাবে বেশি তেল নিঃসৃত হলে চুল অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়। প্যাপিলা হতে চুলের গোড়া পুষ্টি গ্রহণ করে বাড়তে শুরু করে। সাধারণত চুল এক মাসে আধ ইঞ্চি বাড়ে। গোড়া হতে চুল বাড়তে থাকে ও ডগার অংশকে পর্যায়ক্রমে ওপরে ঠেলে বার করে দেয়। ত্বকের ওপর আমরা চুলের  মরা অংশকে দেখি। জীবন্ত অংশটা থাকে ত্বকের ভেতর ফলিকলের মধ্যে। একটা চুল যখন মাসে আধ ইঞ্চির মত লম্বা হয়, তখন চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। সাধারণত ১০ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হবার পর চুল মাসে আধ ইঞ্চি বাড়তে থাকে। বেশি বয়সে চুলের এই বৃদ্ধির হার বেশ কমে যায়। অনেকের ধারনা আছে চুলের ডগা ছেটেঁ দিয়ে চুল তাড়াতাড়ি বাড়ে বা মাথা নেড়া করলে চুল বেশি ঘন হয়ে তাড়াতাড়ি এমন ধারনা একেবারেই ভুল।

একটা চুলের গড় আয়ু ৩মাস থেকে ২বছর পর্যন্ত হতে পারে। এটা নির্ভর করে ফলিকল একনাগাড়ে কতদিন পর্যন্ত চুল তৈরি করতে থাকবে তার ওপর। সাধারণত প্রায় ১ হাজার দিন ধরে একটা ফলিকল চুল তৈরি করে যেতে থাকে। তার পর সেই ফলিকল ১০০ দিন বিশ্রাম নেয়। এ সময় ফলিকল থেকে চুলের গোড়া আলগা হয়ে চুল খসে পড়ে। যদি না খসে যায় তাহলে ফলিকল থেকে নতুন গজানো চুল পুরনো চুলকে ঠেলে খসিয়ে নিজে জায়গা করে নেয়। সব ফলিকলই কিনরউ একই মসয়ে চুল তৈরি করতে থাকে না বা বিশ্রাম নেয় না। যদি তা হতো তাহলে মাঝে মধ্যেই আমাদের মাথা চুলহীন হয়ে যেত।  যখন প্রায় শতকরা ১০ ভাগ ফলিকল বিশ্রাম নেয় তখন বাকি ৯০ ভাগ সক্রিয় থেকে চুল বাড়িয়ে যেতে থাকে। আমরা প্রায়ই কিছু চুল উঠে  যেতে দেখি। রোজ ৩০ থেকে ৪০ চুল যদি উঠে যায় তবে চিন্তার কিছু নাই।

তুলনামুলকভাবে শীতকাল অপেক্ষা গরমকালে চুল তাড়াতাড়ি বাড়ে। আবার রাতে বিশ্রামের সময় চুল বড় হয় তাড়াতাড়ি। অনেক মহিলারই কোমর পর্যন্ত লম্বা চুল দেখা যায়। তাদের চুলের বৃদ্ধির হার খুব বেশি ও চুলের গড় আয়ু স্বাভাবিকের তুনলনায় বেশি। সাধারণত যৌবন অবস্থায় এ রকম হয়ে থাকে।

চুলের দ্বিতীয় স্তরে যে বর্ণকোষ বা পিগমেন্ট থাকে সেটাই চুলের রং নির্ধারণ করে। এই বর্ণকোষ তিন রংয়ের হতে পারে। তাহলো কালো, সামান্য লালচে ও হালকা হলুদ। কালো বর্ণকোষ চুলের রং হবে ঘন কালো। লালচে বর্ণকোষ থাকলে চুল হবে লালচে বা কটা। সাধারণত এই দু রকমের বর্ণকোষই বাঙ্গালি মেয়েদের মধ্যে দেখা যায়।

চুলের গঠন নির্ভর করে জিন-এর ওপর। কিন্ত চুলের উজ্জ্বলতা মসৃণতা ও ঝলমলে ভাব নির্ভর করে আপনি কি ধরনের পরিচর্যা করেছেন তার ওপর। সুন্দর মসৃণ চুলের জন্য দরকার পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ। চুলের জন্য প্রোটিনপূর্ণ খাবার যথা মাছ ডিম দুধ ও টাটকা ফল শাক-সবজি একান্ত দরকার। বিশেষ করে আয়োডিন, আয়রন ও কপার আছে এমন খাবার খুব প্রয়োজজনীয়। শরীরে আয়োডিনের অভাবে চুলের বরাবরের জন্য ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া ভিটামিন বি- কমপেক্স, ভিটামিন ও ও সি- পূর্ণ খাবারও খুব দরকার। কম বয়সে অপুষ্টিজনিত কারণে চুল পেকে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছুদিন ভিটামিন বি খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *