হায়েয-নেফাসের সময় নিষিদ্ধ কাজসমূহ

হায়েয-নেফাসের সময় নিষিদ্ধ কাজসমূহ

হায়েয নিফসের সময় মনের একান্ত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর কতগুলো বিধি-বিধান থেকে বিরত থাকতে হয়। যেমন—           ১। নামায আদায় করা, ২। রোযা রাখা, ৩। কুরআন তিলাওয়াত, অবশ্য পৃথকভাবে শব্দ বানান করা নিষিদ্ধ নয় আর প্রার্থনা বা দোয়ার নিয়তে মুনাজাতের আয়াতও পড়তে পারে, ৪। মুনাজাতের নিয়ত ছাড়া কোন সুরা বা আয়াত পাঠ করবে না, ৫। তিলাওয়াত সিজদাহ করা, ৬।বায়তুল্লাহ শরীফ তওয়াফ করা,৭। কুরআন মাজিদ স্পর্শ করা, ৮। মসজিদে প্রবেশ করা, ৯। কুরআন মাজিদের কোনো কালাম বা আয়াত লিখে কাগজ স্পর্শ করাম, ১০। স্বামী-স্ত্রী সবাস করা, অবশ্য স্বামীর সাথে একত্রে শোয়া ও খাওয়া দাওয়া করায় কোন দোষ নেই। হায়েয নিফাস অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা নাজায়েয নয়, তবে তার নাভী হতে হাঁটু পর্যন্ত স্পর্শ করা মাকরুহ তাহরীমী।



মাসআলাঃ হায়েয নিফাসের সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে বিনা গোসলে স্বামী সহবাস জায়েয নেই, তবে তা বন্ধ হওয়ার পরে একটি নামাযের ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর বিনা গোসলেও স্বামী সহবাস করা বৈধ, তবে নামায ছেড়ে দেয়ার কোন হুকুম নেই। কেননা হায়েযে বন্ধ হবার সাথে সাথে গোসল করে নামায আদায় করা ফরয।

মাসআলাঃ যদি কোন মহিলার হায়েযের নির্দিষ্ট সময় থাকে। যেমন প্রতি মাসে ছয়দিন হায়েয হতো কিন্তু এক মাসে হঠাৎ পাঁচদিন পর বন্ধ হয়ে গেলে। এরুপ অবস্থায় হায়েযের উর্ধ্বতম সময় দশদিন অপেক্ষা না করে স্বামী সহবাস করে না।কারণ, কোন কারণ বশত সাময়িক ভাবেও স্রাব হতে পারে এবং হয়তো তার হায়েযের পূর্ববর্তী নিদির্ষ্ট সময়ে পরিবর্তন ঘটতে পারে। এটা সহসা বোঝা সম্ভব নয়। এজন্যই দশদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

মাসআলাঃ কারো নফল নামাযের মধ্যে হায়েয আরাম্ভ হয়ে গেলে নামায ছেড়ে দেবে; কিন্তু হায়েয বন্ধ হওয়ার পরে উহার কাযা আদায় করবে। তবে ফরয নামাযের মধ্যে এরুপ অবস্থা হলে তাও ছেড়ে দেবে, কিন্তু পরে তার কাযা করতে হবে না।

মাসআলাঃ যদি কোন হায়েযের দশম দিনে কোন নামাযের ওয়াক্তের এমন সময় হায়েয বন্ধ হয় যে, ঐ ওয়াক্তের মধ্যে গোসল করে আল্লাহ আকবার পর্যন্ত বরার সময় পাওয়া যায়, তবে ঐ নামায ঐভাবেই আদায় করতে হবে। না করলে পরে তার কাযা আদায় করতে হবে।

মাসআলাঃ যদি কোন হায়েয ওয়ালী মহিলা রমযান মাসের দিনের প্রথম অর্ধাংশ অতিক্রান্ত হওয়ার পর পাক হয়, তবে ঐ দিনের বাকী সময় পানার হতে বিরত থেকে রোযার ইজ্জত রক্ষা করবে এবং পরে তার কাযা আদায় করবে।

মাসআলাঃ ইস্তেহাযাকে যদি হায়েযের মত মনে হয় তথাপিও এ সময় নামায রো সবই আদায় করবে। যদি কেউ তরক করে তবে গুনাহগার হবে।

Leave a Comment