হজ্জ ও ওমরাহ

হজ্জ ও ওমরাহঃ

আরাফার দিনের ফজিলতঃ আরফার দিন মানুষের পাপ মোচনের দিন। সেদিন মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষমা পায়।

আয়েশা (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ আরাফার দিন মানুষকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তিনি তাদের অতি নিকটবর্তী হন এবং তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব প্রকাশ করে বলেন, তারা কী চাচ্ছে? (মুসলিম হাঃ ১৩৪৮, ইবনে মাজাহ হাঃ৩১২৮, মিশকাত হাঃ২৫৯৪)।

এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় আল্লাহ তা‘আলা আরাফার দিন মানুষকে যত বেশি ক্ষমা করেন অন্য কোনো দিন তত ক্ষমা করেন না। আরাফার মাঠের হাজীদেরকে নিয়ে আল্লাহ ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন এবং তারা যা চায় তাই দেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বকর্ণীত রসূল (সাঃ) বলতেন , নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আরাফার দিন বিকালে আরাফায় অবস্থানকারী ব্যক্তিদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করে বলেন, তোমরা আমার বান্দাদের দিকে লক্ষ্য করো, তারা আমার কাছে এসেছে এলোমেলো চুল নিয়ে এবং ধুলোয় মলিন হয়ে। (আহমাদ হাঃ৭২৮৮)।

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) আরাফার মাঠে দাঁড়ালেন, তখন সূর্য প্রায় ডুবো ডুবো ভাব । রসুল (সাঃ) বললেন হে বেলাল তুমি আমার জন্য মানুষকে চুপ থাকতে বলো। বেলাল (রাঃ) দাড়িঁয়ে বললেন তোমরা চুপ থাকো মানুষ চুপ হয়ে গেল। রসুল (সাঃ) বললেন হে লোক সকল একটু আগে আমার নিকট জিবরীল (আঃ) এসেছিলেন, তিনি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকৈ আমাকে সালাম দিলেন এবং বললেন ,নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আরাফার মাঠের লোকজনকে ও মাশআরে হারামের লোকজনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তাদের সব দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তখন ওমর (রাঃ) দাড়িয়ে বললেন হে আল্লাহর রসুল (সাঃ) এটা কি আমাদের জন্য খাজ? তিনি বললেন এটা তোমাদের জন্য এবং যারা তোমাদের পরে ক্বিয়ামত পর্যন্ত আসবে তাদের জন্য। তখন ওমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর  কল্যান খুব বেশি হলো এবং উত্তম ও সুন্দর হলো। (তারগীব হাঃ১১৫১)।

অত্র হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যারা  আরাফার মাঠে উপস্থিত হয় তাদের গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং তাদের দায়-দায়িত্ব আল্লাহ গ্রহণ করেন। এক্ষমা ক্বিয়ামত পর্যন্ত সবার জন্য।

হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন এক জন আনছারি ব্যক্তি রসুল (সাঃ)-এর নিকট এসে বলল ‘ হে আল্লাহর রসুল (সাঃ) আমাকে বলেন তো আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য এসেছি? তখন রসুল (সাঃ) বললেন তুমি হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য এসেছ। তুমি জিজ্ঞেস করতে চাও হজ্জের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে তার জন্য কী সওয়াব রয়েছে? আরাফায় অবস্থান করলে তার জন্য কি? জামরায় পাথর মারলে কি সওয়াব রয়েছে? মাথা ন্যারা করাতে কী সওয়াব রয়েছে? বিদায়ী ত্বওয়াফে কী সওয়াব রয়েছে? আনছারী বললেন হে আল্লাহর রসুল (সাঃ) সেই সত্তার কসম যে আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন আমার অন্তরে যেসব জিজ্ঞেসা ছিল তাই বলেছেন।বিন্দু মাত্র ভূল করেননি।

অতঃপর রসুল (সাঃ) বললেন যখন তোনো ব্যক্তি হজ্জের জন্য বাড়ি থেকে বের হয় তখন তার বাহনের প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে সওয়াব লিখে দেওয়া হয় এবং একটি করে পাপ মিটিয়ে দেওয়া হয়। আর যখন আরাফার মাঠে অবস্থান করবে, তখন আল্লাহ প্রথম আকাশে নেমে এসে বলেন, হে ফেরেশতা সকল তোমরা আমার বান্দাদের দেখ,তারা এলো মেলো চুল নিয়ে ধুলোয় মলিন হবে। ফেরেশতা সকল তোমরা সাক্ষী থাকো আমি তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিলাম। তাদের গুনাহ আকাশের বৃষ্টিফোটার পরমাণ হলেও এবংস্তৃপীকৃত বালুকণার সমান হলেও। আর যখন জামরায় পাথর মারে, তখন তার কত সওয়াব লেখঅ হয় তা কেউ জানে না। এমনকি ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ জানতে পারবে না।আর যখন শেষ ত্বাওয়াফ করে, তখন সে পাপ থেকে বের হয়ে সে দিনের মতো হয়ে যায়, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছে। (ইবনে হিব্বান হাঃ১৮৮৭, তারগীব হাঃ১১৫৫)।

ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণীত, রসুল (সাঃ) বলেছেন আল্লাহর পথে জিহাদ করে ফিরে আসে এমন গাযী আর হজ্জ পালনকারী এবং ওমরা পালনকারী ব্যকি্‌তরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ তাদেরকে ডেকেছেন, তার ডাকে তারা সাড়া দিয়েছেন তারা আল্লাহর নিকট চেয়েছে তিনি তাদেরকে দিয়েছেন। (ইবনে মাজাহ হাঃ২৮৯৩)।

উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণীত হয় যে, হজ্জ এমন একটি ইবাদত যা পালন করার সময় মানুষ আল্লাহর মেহমান হতে পারে আর অন্য কোনো ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর মেহমান হতে পারে না।আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান অর্জন করার তৌফিক দিন এবং হজ্জ ও ওমরা পালন করার তৌফিক দিন আমিন।

Leave a Comment