স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর অবস্থা

স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর অবস্থাঃ

জাহান্নামবাসীর অধিকাংশই হবে নারী। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে স্বামীর অবাধ্য হওয়া এবং তার শুকরে আদায় না করা। স্বামীর সন্তুষ্টি বিহীন স্ত্রীর ইবাদত কবুল হবে না। জান্নাত লাভ করতে পারবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:নারীদের তেমনি ন্যায়নঙ্গত অধিকার আছে,যেমন আছে তাদরে উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের মর্যাদা আছে। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রঙ্গাময়।(সুরা বাক্বারাহ-২২৮)

পুরুষেরা নারীদের উপর কতৃত্বশীল। এজন্য যে আল্লাহ একের উপর অন্যের ওশ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এজন্য যে তারা তাদের অর্থ ব্যায় করে। সেমতে সৎ স্ত্রীগণ হয় আনুগত্যশীল এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন তা হেফাযত করেন। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশংকা রয়েছে তাদের সদুপদেশ দাও। তাদের শয্যা ত্যাগ করো এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান কর না। নিশ্চয় আল্লঅহ সবার শ্রেষ্ঠ। (সুরা নিসা-৩৪)

অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা অবাধ্য স্ত্রীকে সংশোধন করার তিনটি পন্থা উল্লেখ করেছেন। ১)উপদেশ দান করা,২)শয্যা ত্যাগ করা,৩)প্রহার করা। এই তিনটি পন্থায় স্ত্রী বাধ্য না হলে তাকে তালাক প্রদান করা যায়।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন,যখন স্বামী স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে আর স্ত্রী তা অমান্য করে। স্বামী তখন অসুন্তষ্ঠ অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে। ফেরেশতাগণ ঐ স্ত্রীর উপর সকাল পর্যন্ত অভিশাপ করে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে কোন ব্যাক্তি যদি তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে আর স্ত্রী তা অমান্য করে। তাহলে স্বামী স্ত্রীরি প্রত সন্তুষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ ঐ স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত থাকেন।(বুখারী,মুসলিম,মিশকাত হাঃ৩২৪৬;বাংলা ৬ষ্ঠ খন্ড: ৩১০৮ বিবাহ অধ্যায়)।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন, কোন স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতিবিহীন নফল ছিয়াম পালন করা জায়েয নয় এবং স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তিকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়া জায়েয নয়।(মুসলিম,মিশকাত হাঃ২০৩১;বাংলা ৪র্থ খন্ড :১৯৩৩ ছিয়াম অধ্যায়)

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন, আমি যদি কোন ব্যক্তিকে কারো জন্য সিজদা করতে বলতাম,তবে স্ত্রীকেই তার স্বামীকে সিজদা করার জন্য আদেশ করতাম।(তিরমিযি,মিশকাত হাঃ৩২৫৫)

হরত আনাস (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন,নারী যখন পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে,রমযানের ছিয়াম পালন করে,লজ্জাস্থানের হিফাযত রাখে ও স্বামীর আনুগত্য করে তখন সে যেন জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করে।(মিশকাত হাঃ৩২৫৪)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন ,সে মহিলার দিকে করুনার দৃষ্টি দেন না যে স্বামীর শুকরিয়া আদায় করে না। আর সে স্বামীকে নিজের জন্য পরিপূর্ণ মনে করে না।(ত্বাবারাণী হাঃ২৯৩)।

হযরত মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন,যখন কোন নারী তার স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দেয় ,তখন জান্নাতের হুরদের মধ্যে যে তার স্ত্রী হবে সে বলে হে (অভাগিণী) তুমি তাকে কষ্ট দিও না। আলআহ তোমাকে ধ্বংস করুন। তিনি তোমার কাছে পরবাস। অল্প দিনের মধ্যেই তিনি তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবে। (তিরমিযি,ইবনু মাযাহ,মিশকাত হাঃ৩২৫৮)।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাঃ) বলেন,রসুল (সাঃ) বলেছেন স্ত্রী ততক্ষন পর্যন্ত আল্লাহর হক্ব আদায় করতে পারে না,যতক্ষন পর্যন্ত সে তার স্বামীর হক্ব আদায় না করবে।যদি স্বামী উটের গদির উপর থাকা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করে,তবুও স্ত্রীকে সম্মতি প্রকাশ করতে হবে।(ইবনু মাযাহ হাঃ২৮৪পৃঃ)।

হুছাইন ইবনু মিহছান বলেন,আমার ফুফু আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, কোন প্রয়োজনে আমি রসুল (সাঃ)এর কাছে আসলাম। অতঃপর নবী করীম (সাঃ) বললেন হে উমুক মহিলা তোমার স্বামী আছে কি? আমি বললাম হ্যাঁ আছে। তিনি বললেনতুমি তার জন্য কেমন? সে বলল আমি তার আনুগত্য ও খিদমতে কমতি করি না।। তবে আমি তার পক্ষ থেকে কমতি পাই। রসুল (সাঃ) বললেন তুমি অপেক্ষা কর, তুমি তার থেকে কথায় যাবে? কেননা সে তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম।(আহমদ,আবি শায়বাহ,আদাবুল ফিকহ ২৮৫ পৃঃ)।

Leave a Comment