স্বর্ণ ও রুপার যাকাত

স্বর্ণ ও রুপার যাকাতঃ

স্বর্ণের যাকাতঃ স্বর্ণের পরিমান বিশ মিসকাল অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলার কম হলে তাতে যাকাত দিতে হবে না। কাজেই যখন বিশ মিসকাল পরিমান স্বর্ণ কারো মালিকানায় এক বছর অতিক্রম হয় তাতে অর্ধ মিসকাল দিতে হবে। অতঃপর প্রত্যেক চার মিসকালের জন্য অর্ধ মিসকাল তথা দু কিরাত যাকাত দিতে হবে। আর ইমাম আবু হানীফা (রঃ)-এর মতে চার মিসকালের কম হলে যাকাত নেই। সাহেবাইন (রঃ) বলেন বিশ মিসকালের ওপর যা বেশি হবে তার যাকাত হিসাব অনযায়ী দিতে হবে। খনি হতে উত্তোলিত অশোধিত স্বর্ণ-রৌপ্যের তৈরি অলংকার ও তৈজসপত্রের যাকাত দিতে হবে। (তাওযীহুল কুদরী, কিতাবুয যাকাতঃ১৯৩ পৃঃ)

মিসকালের ব্যাখ্যাঃ স্বর্ণে যাকাতের নেসাব বিশ মিসকাল। একশ যবে এক মিসকাল হয়। ব্রিটিশ পদ্ধতিতে এক মিসকালে হয় সাড়ে চার মাসা। আট রত্তিতে এক মাসা, আর বারো মাসায় এক তোলা। এ হিসাবে বিশ মিসকালে সাড়ে সাত তোলা হয়। স্বরণ রাখতে হবে যে ,মহানবী (সাঃ)-এর সময়ে এক মিসকাল স্বর্ণের মূল্য ছিল দশ দিরহাম। এ হিসাবে বিশ মিসকাল স্বর্ণের দাম দু‘শ দিরহাম হবে। এতে বোঝা যায় যে, সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ ও সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা পুজি হিসাবে সমান। অবশ্য বর্তমান বাজার দর হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অপেক্ষঅ মাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের দাম তুলনা মূলকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশী।

রুপার যাকাতঃ দু‘শ দিরহামের কম হলে যাকাত দিতে হবে না। যখন দু‘শ দিরহাম হবে এবং কারো মালিকানায় পূর্ণ এক বছর থাকবে তখন তার জন্য পাঁচ দিরহাম যাকাত দিতে হবে। আর ইমাম আবু হানীফা (রঃ) এর মতে দু‘শতের ওপর চল্লিশের কম হলে অতিরিক্তের জন্য কোনো যাকাত নেই। তবে প্রত্যেক চল্লিশ হলে আর এক দিরহাম যাকাত দিতে হবে। অতঃপর প্রত্যেক চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম যাকাত দিতে হবে। ইমাম আবু ইুউসুফ ও মুহাম্মাদ (রঃ) বলেন ,দু‘শ দিরহামের বেশি হলে তার যাকাত ঠিক সে হিসাব অনুযায়ী দিতে হবে। কোনো মুদ্রায় যদি রুপার ভাগ বেশী হয় তবে তাকে রুপার হিসাব ধরতে হবে। কিন্তু যদি তার মধ্যে খাদ বেশী হয় তবে তাকে আসবাপত্রের হিসাবে ধরতে হবে। এসব বস্তুর দাম নেসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে। (তাওযীহুল কুদরী, কিতাবুয যাকাতঃ১৯২ পৃঃ)

Leave a Comment