স্ত্রী কথা না শুনলে তাকে তালাক দিলে পাপ হবে কি?

স্ত্রী কথা না শুনলে তাকে তালাক দিলে পাপ হবে কি?

স্ত্রী বেশির ভাগ সময়ই রাগাররাগি ও চেঁচামেচি করে এবং কথা শুনে না, এমন্তস্থায় তাকে তালাক দিলে গুনাহ হবে কি?

এমন্তস্থায় তাকে বার বার উপদেশ দিতে হবে। তার পর শয্যা পৃথক করে দিতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষামূলক কিছু শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে। তবে সর্বপ্রকার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলে বিচ্ছেদের চিন্‌তা করা যায়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন,,,

যদি স্ত্রীদের অবাধ্যতার আশংকা কর তবে প্রথমে তাদের সৎ উপদেশ দাও। এরপর তাদের শয্যা থেকে পৃথক কর এবং তারপরও অনুগত না হলে তাদেরকে শাসন কর৷ এরপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের সাথে কর্কশ আচরণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমু্ন্নত-মহীয়ান। (সুরা নিসা আয়াত নং ৩৪)।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণীত তিনি বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন মহিলাদের (স্ত্রীদের) প্রতি ভালো উপদেশ দাও। এ কারণে যে তারা বক্র হাড্ডি হতে সৃষ্টি এবং সবচেয়ে বক্র  উপরের  পাজরের আস্থি। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও তবে তা ভেঙ্গে ফেলবে আর ছেড়ে দিলে সর্বদা বাঁকা থাকবে। অতএব স্ত্রীদের উপদেশ দিতে থাকবে। (বুখারী হাঃ৫১৮৬, মুসলিম হাঃ১৪৬৮, মিশকাত হাঃ৩২৩৮)।

যদি উপদেশ দেয়া ও সতর্ক করার পরও কাজ না হয় তাহলে স্বামী তার ওপর রাগ করে কিছুকাল দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীকে উপেক্ষা করতে পারে এবং এভাবে তার উপর নিজের ক্ষোভ বা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারে। যদি এরপরও স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব পালনে বিরত হয় এবং কিছুটা কঠোর হওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ বাকী না থাকে তাহলে স্ত্রীকে শাসন করার অনুমতি স্বামীকে দেয়া হয়েছে। অবশ্য হালকা ও মোলায়েম শাসন স্ত্রীকে তার ভুল ধরিয়ে দিতে পারে। স্ত্রীর অবাধ্যতার মাত্রা অনুযায়ী যে তিন পর্যায়ের ব্যবস্থার কথা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে তা স্ত্রীর সাথে স্বামীর সম্ভোগ সম্পর্কিত৷ অনেক সময় স্ত্রীরা কথাবার্তার মাধ্যমে স্বামীর অবাধ্য হয়। এক্ষেত্রে মৌখিক উপদেশই যথেষ্ট৷ কখনো কখনো স্ত্রীরা কাজ কর্মের মাধ্যমে স্বামীর অবাধ্য হয়। এক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং স্ত্রীর শয্যা থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু অনেক সময় স্ত্রীর অবাধ্যতার মাত্রা হয় অত্যন্ত কঠোর। এ অবস্থায় শারীরিকভাবে তাকে শাসন করা উচিত। একইভাবে স্বামী যদি তার দায়িত্ব পালনে বিমুখ হয় তাহলে বিচারকের মাধ্যমে তার বিচার এবং প্রয়োজনে শারীরিকভাবেও তাকে শাসন করতে হবে। কারণ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করা স্বামীর দায়িত্ব সত্ত্বেও তা থেকে বিমুখ হওয়া স্ত্রীর অধিকারের লঙ্ঘন এবং তাই বিয়ের চুক্তির লঙ্ঘনের দায়ে আদালতে স্বামীর বিচার হতে পারে। কিন্তু স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পারিবারিক ও ব্যক্তিগত হওয়ায় ইসলাম এ ধরনের সমস্যা পরিবারের মধ্যেই মিটিয়ে ফেলাকে প্রাধান্য দেয়৷ পুরুষ যেখানে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বাদী সেখানে স্ত্রীকে শারীরিকভাবে শাসন করার ক্ষমতা থাকার কারণে তা প্রয়োগ করা হলে পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হবে। আগেই বলা হয়েছে, এই শাসন হতে হবে অবশ্যই মোলায়েম, কঠোর বা প্রতিশোধ মূলক নয়। ইসলামের এই বিধানের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ইসলাম বিভিন্ন পর্যায়ে অত্যন্ত সুক্ষ্ম পন্থায় পরিবার ব্যবস্থাকে ক্ষতি ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে।

শরী‘আত সম্মত পদ্ধতীতে তাকে উপদেশ দেওয়ার পরও যদি সংশধন না হয় তাহলে তাকে তালাক দিতে হবে। এতে কোনো পাপ হবে না। উল্লেখ্য যে কোনো উপায়ে স্বামীকে কষ্ট দেওয়া নিন্দিত ও গহিত। এর জন্য জান্নাতের হূররা উক্ত স্ত্রীর জন্য বদ দু‘আ করেন। (তিরমিযী হাঃ১১৭৪, ইবনু মাজাহ হাঃ২০১৪) আর অবাধ্য স্ত্রীর ব্যাপারে রসুল (সাঃ) কঠোর হূঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। (সিলসিলা ছহীহ হাঃ২৮৮)

এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো, স্বামীর আনুগত্য করা দুর্বলতার লক্ষণ নয় বরং পরিবারের প্রতি সম্মান ও পরিবার টিকিয়ে রাখার জন্যই তা জরুরি। শুধু নামায রোজাই সত্‍ কাজ নয় পরিবারের অধিকার রক্ষা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনও সত্কাজের অন্তর্ভূক্ত। এছাড়া স্ত্রীর ভুল বা অপরাধের ব্যাপারে অজুহাত প্রবণ বা প্রতিহিংসা পরায়ণ হওয়া উচিত নয়। তাঁর কল্যাণ ও সংশোধনের ইচ্ছাকেই এ ক্ষেত্রে আচরণের মাপকাঠি করতে হবে। পুরুষদের এটা মনে রাখতে হবে, পরিবার পরিচালনার দায়িত্বটা তাদের ওপর অর্পণ করা হলেও আল্লাহ তাদের আচরণ ও তৎপরতা লক্ষ্য করছেন এবং স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে আচরণের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে।

Leave a Comment