সৃষ্টি কর্তার সাথে সম্পর্ক

সৃষ্টি কর্তার সাথে সম্পর্ক

হে মানব সম্প্রদায় ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ইবাদত করো। যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারিতা অর্জন করতে পারবে। (সুরা বাক্বারাহ আয়াত নং২১) । মহান আল্লাহ বলেন আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তার সাথে কাউকে কোনো কিছু শরীক করো না। (সুরা নিসা আয়াত নং ৩৬)।

সৃষ্টিকর্তার সাথে নিবিড় সম্পর্ক মানুষের জীবনে বড় হতে সহযোগিতা করে। সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হচ্ছে মনের প্রশান্তি। যেমন আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, আল্লাহর উপর ভরসা, আল্লাহর নিকট দো‘আ ও সাহায্য প্রার্থনা আল্লাহর নিকট নিজের ভুলের ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদি। এগুলো সবই দীর্ঘ জীবণের চলার পথে মনের খাদ্যসরুপ। মানুষের এই শরীরটা দুনিয়াতে তৈরি হলেও মানুষের অন্তরের খাদ্যস্বরুপ আসমান থেকে ফেরেশতার মাধ্যমে। তাই এই অন্তরের খাদ্যস্বরুপ আসমানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা জরুরী।  আধ্যাত্নিক সম্পর্ক ছাড়া অন্তর মারা যায়। মানষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষ সুখে থাকলে মহান আল্লাহকে ভুলে যায় এবং শুধু বিপদে পড়লে মহান আল্লাহকে স্বরণ করে।

এজন্যই মহান আল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন তাকে বিপদে স্পর্শ করে, তখন সে অস্থির হয়ে যায়। আর যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে তখন সে কৃপণ হয়ে যায়। (সুরা মারিজ আয়াত নং ১৯-২১)।

তিনিই তোমাদের রব । তিনি ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই। তিনি সবকিছুর স্রষ্টা। সুতরাং তোমরা তারই ইবাদত করো। তিনি সকল কিছুর তত্ত্বাবধায়ক। (সুরা আন আম আয়াত নং১০২)।




ক্ষমতা ও ধন-দৌলত থাকার পরও দাউদ ও সুলায়মান (রাঃ) কোনো সময় অহংকারী হননী। মহান আল্লাহ তাদেরকে যত নেআ‘মত দিয়েছেন তারা মহান আল্লাহর দরবারে তত নত হয়েছেন। মহান আল্লাহর সামনে মানুষের এই নত হওয়া ও শুকরিয়া আদায় করা মানুষের উপর আল্লাহর দয়া ও রহমতকে স্থায়িত্ব দান করে। অন্যথায় মানুষের অহংকার তাকে ধ্বংস করে দেয়।

মহান আল্লাহ বলেন, হে নবী বলুন, ওহে মূর্খের দল ! তোমরা কি আামাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উপাসনা করার আদেশ করছ? অথচ আপনার নিকট ও আপনার পূর্বে যারা এসেছেন তাদের সকলের কাছে অহি করা হয়েছিল এই মর্মে যে, যদি আপনি শির্ক করেন তাহলে আপনার আমল বরবাদ হয়ে যাবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তরর্ভুক্ত হয়ে যাবেন। বরং আপনি আল্লাহরই ইবাদত করুন এবং কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত থাকুন। (সুরা যুমার আয়াত নং ৬৪-৬৬)। আর এটাই হচ্ছে কালেমায়ে তাওহীদ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- এর প্রকৃত দাবি। সেই সাথে মুহাম্মাদ (সাঃ)- আল্লাহর বান্দা ও রসুল, এই স্বীকৃতি দেওয়া তাওহীদের দাবি।

Leave a Comment