সাময়িকভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রনে পাপ হবে কী?

সাময়িকভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রনে পাপ হবে কী?

সাময়িকভাবে হোক কিংবা স্থায়ীভাবে হোক খাদ্য প্রদানের ভয়ে কিংবা সুখী সংসারের উদ্দেশ্যে জন্ম বিরতি করণ পদ্ধতী গ্রহণ করা বা গর্ভের সন্তান ধারণের পর তা নষ্ট করা হারাম। অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিযিক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ। (সুরা বানী ইসরা আয়াত নং ৩১)।

মহান আল্লাহর সকল সৃষ্টির পিছনে সুষ্ঠ পরিকল্পনা রয়েছে বলেই তাঁর সৃষ্টিতে কোথাও কোনো অসামঞ্জসতা, বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম বা কোনোরূপ দোষত্রুটী লক্ষ্য করা যায় না। আল্লাহ তা’আলা আহকামুল হাকিমীন তাঁর কাজের জন্য কারো নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। তা সত্বেও তিনি এ বিশ্বজগত নির্দিষ্ট পরিমাণে ও সুপরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর এ ঘোষণার মধ্যে মানব জাতির জন্য রয়েছে বিসাল শিক্ষা। আর তা হল মানব জাতির বাস্তব জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে রসুল (সাঃ) বলেছেন তোমরা আল্লাহর গুণে গুণাম্বিত হও। তাই মানুষের উচিত সুপরিকল্পিত জীবন যাপন করা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন হে নবী! আপনি মুশরিকদের বলুন এসো আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শোনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। এগুলো হল, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-মাতার সঙ্গে সদয় ব্যবহার করো, নিজ সন্তানদেরকে দারিদ্রের ভয়ে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। আল্লাহ তোমাদেরকে এসব নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুদ্ধি খাটাও (ও সত্যকে মেনে নাও)। (সুরা আনআম আয়াত নং ১৫১)।



আমি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং উভয়ের মধ্যকার কোনো কিছুই খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি তো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। (সূরা সূরা আদ দুখান আয়াত নং ৩৮,৩৯)।

তবে শারীরিক কোনো সমস্যা থাকলে অথবা উল্লিখিত বিষয় গুলোর কোন একটিও না থাকলে সাময়িকভাবে আযল কিংবা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। জাবের (রাঃ) হতে বর্ণীত তিনি   বলেন আমরা আযল করতাম তখন কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল। ইমাম মুসলিম  (রাঃ) বৃদ্ধি করে বলেছেন আমাদের আযল করার  সংবাদ  রসুল (সাঃ)-এর নিকট পৌঁছল  কিন্তু তিনি আমাদের নিষেধ করেননি। (বুখারী হাঃ৫২০৮,মুসলিম হাঃ১৪৪০, মিশকাত হাঃ ৩১৮৪)।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment