সহবাসের পর করণীয় কী

সহবাসের পর করণীয় কী

 সহবাস শেষ করার পর স্বামী স্ত্রী উভয়েই পেশাব করে নেবে। না হলে দুবারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হবার আশংকা থেকে যায়। তাই পেশাব করলে আটকে থাকা বীর্য় পরিস্কার হয়ে যায়। হযরত আলী (রাঃ)-এর মতে সহবাসের পর লজ্জাস্থান ধোয়া না হলে দুাবারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে। সামান্য গরম পানি দিয়ে লজ্জাস্থান ধয়ে নেবে তাতে শরীর সুস্থ থাকবে।

প্রখ্যাত ফকীহ আবুল লাইস (রহ:) বলেছেন যে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সহবাসের পর লজ্জাস্থান ধুয়ে নিতে হবে। তাতে শরীর স্বাভাবিক ও সুস্থ থাকে আর মনও পবিত্র থাকে। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দিয়ে ধোয়া উচিৎ নয়। কারণ এতে লজ্জা স্থানের চামড়া কুঁচকে যেতে পারে আর জ্বর হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

গোসল ছাড়া দ্বিতীয় সহবাসঃ ইমাম গাজ্জালী (রহ:) তাঁর এহইয়াউল উলুম গ্রন্থে লিখেছেন যে, স্বপ্নদোষ হলে কিংবা দ্বিতীয়বার সহবাসের ইচ্ছা হলে পুরুষাঙ্গ ধোয়া কিংবা পেশাব করা ব্যতীত সহবাসে লিপ্ত হবে না। কেননা এত স্বাস্থ্যহানী হবার আশংকা রয়েছে। কোন কোন অভিজ্ঞ লোক ধারনা করেন যে, কারো স্বপ্নদোষ হলে গোসল করেই তার স্ত্রী সহবাস করা উচিৎ। তা না করলে সন্তান পাগল অথবা কৃপন হওয়ার সম্‌ভাবনা বেশী থাকে। তেমনি একবার সহবাসের পর দ্বিতীয়বার সহবাসের ইচ্ছা জাগলে এর আগে গোসল করে নেয়াই উত্তম। তবে হাদীসে এর কোন প্রমাণ নেই। আল্লাহর রসুল (সাঃ) সাহাবীদেরকে তারবিয়াতে দিয়েছেন যে, তোমাদের কেউ যদি নিজের স্ত্রীর সাথে দ্বিতীয়বার সহবাস করতে চায় তবে মাঝে তার অযু করে নেয়া উচিৎ।

সহবাসের পর পানি পান করাঃ স্ত্রী সহবাসের পর সাথে সাথে পানির তৃষ্ণা হলে পানি পান করার ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিষেধ রয়েছে। এত হাঁপানী রোগসহ অন্যান্য রোগ দেখা দিতে পারে। এ কারণে সাথে সাথেই পানি পান করা উচিৎ নয়। তবে কিছুক্ষণ পরে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে কিছু খাওয়ার পর বেশি করে পানি পান করা যেতে পারে।

স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয় কথাবার্তা প্রকাশ না করাঃ সাধারনত বাসর রাতের স্মৃতি স্ত্রী তার বান্ধবীদের আসরে আর স্‌বামী তার বন্ধূদের মাঝে বলে থাকে। অথচ আল্লাহর রসুল এসব গোপণ কথাবার্তা অপরের কাছে বলাকে সমীচীন মনে করেননি। এরুপ কাহ লজ্জাহীনতা ও অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে।

সহবাসের সময় লজ্জাস্থান দেখাঃ হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে যে, স্ত্রীর লজ্জা স্থানের দিকে তাকানো ‍উচিত নয়। কারন এত দৃষ্টিশক্তি লোপ পেতে পারে। শরীয়তের দষ্টিতে যদিও স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের লজ্জাস্থান দেখা মুবাহ এবং স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকেই একজন আরেকজনের শরীর সমস্ত অংশই ইচ্ছা করলে দেখতে পারে। কিন্তু ওলামায়ে কেরামেরম মতে স্ত্রীর লজ্জাস্থান দেখলে চোখের জো্যাতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সহবাস করার বিধানঃ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সহবাস করা স্বাস্থের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। আর ভরা পেটে সহবাস করলে সন্তান হাবাগোবা হয়ে থাকে। ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানের উল্লেখ আছে দাঁড়িয়ে সহবাস করলে কাঁপুনি জ্বর হতে পারে। সহবাসের সময় কথা বলা নিষেধঃ সহবাসের সময় কথ না বলাই উত্তম। একান্ত যদি বলতেই হয় তবে খুব আস্তে আস্তে বলতে হবে।

চোখ উঠলে সহবাস না করার পরামর্শঃ হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণীত, তিনি বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন, কারো স্ত্রীর চোখ উঠলে ভালো না হওয়া পর্যন্ত তিনি সে স্ত্রীর সাথে সহবাস করতেন না।উক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, স্ত্রী অসুস্থ থাকলে এবং সহবাসে তার আগ্রহ না থাকলে সেদিক খেয়াল করা  উচিৎ। এ অবস্থায় সহবাস হতে বিরত থাকা জ্ঞানী লোকের লক্ষণ। কেননা এ  কাজে উভয়ের আগ্রহ না থাকলে পূর্ণ স্বাদ উপভোগ করা যায় না।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বণী সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment