সন্ত্রাস নির্মূলে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

সন্ত্রাস নির্মূলে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিঃ

সন্ত্রাস বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা সমূহের অন্যতম। সন্ত্রাসের বিষাক্ত ছোবলে বিশ্ব সভ্যতা আজ হুমকির সম্মুখীন। আমাদের দেশসহ পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র সন্ত্রাস এক সমালোচিত বিষয় হিসাবে রুপ ধারন করেছে। সন্ত্রাস একটি প্রাচিন সমস্যা হলেও একবিংশ শতাব্দীর এই বিজ্ঞান ও প্রাযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে সেটি পুণরায় নতুন ভাবে আর্বিভুত হয়েছে। সন্ত্রাস একদিকে যেমন বিশ্ব শান্তিকে হুমকির মুখে দাঁড় করিয়েছে অন্যদিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বিশ্ব সভ্যতাকে।

একটি বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সাধারন জনগণের মাঝে আতস্ক সৃষ্টি করার পন্থাই হলো সন্ত্রাসবাদ। সামাজিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কোন সরকার ,বেসকারি জনগণ বা অন্য যে কোন অংশকে ভীতি প্রদর্শন বা দমনের জন্য ব্যক্তিবর্গ বা সম্পদের উপর অবৈধ শক্তি প্রয়োগ করাকেই সন্ত্রাস বলা হয়।

সন্ত্রাস প্রতিরোধে আল-কুরআনের নির্দেশনঃ নিঃসন্দেহে সন্ত্রাস পৃথিবীতে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি করে থাকে। অথচ পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ হারাম। এ ব্যাপারে মহাগ্রন্থ আল কুরআনে নির্দেশ এসেছে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,, দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর তোমরা তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিও না আর তাকে ভয় ও আশা সহকারে ডাকবে। নিশ্চয় আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্ম পরায়ণশীলদের নিকটবর্তী। (সুরা আল-আ‘রফ আয়াত নং ৫৬)।

মানব জীবণ মহান আল্লাহর নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র।ইসলামে মানব হত্যা এক জঘন্য অপরাধ। আল্লাহ তা‘আলা একজন মানুষকে সমগ্র মানবগোষ্ঠীর হত্যার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন,,, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করার কিংবা ভূপৃষ্ঠে কোনো গোলযোগ সৃষ্টি করার অপরাধ ছাড়াই কাউকে হত্য করল, সে যেনো সমগ্র মানব জাতিকেই হত্যা করল, আর যে ব্যক্তি কোনো একজন মানুষের প্র্রাণ রক্ষা করল সে যেন সমগ্র মানব জাতীকেই রক্ষা করল। অতঃপর যদিও তাদের নিকট আমার রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছিল এরপরও তাদের মধ্যে অনেকেই সীমালঙ্ঘনকারীই থেকে গেল। (সুরা আল মায়িদাহ আয়াত নং৩২)

সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য জঘন্যতম যে পন্থা অবলম্বন করে থাকে তা হলো আত্নাঘাতী হামলা। অথচ আল্লাহ তা‘আলা নিজের জীবণকেও ধ্বংস করতে চরম দৃষ্টান্ত প্রদান করেছেন। তিনি বলেন তোমরা  নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না। (সুরা বাক্বরাহ আয়াত নং১৯৫)। তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করওি না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর দয়ালু। (সুরা আন-নিসা আয়াত নং২৯)।

সন্ত্রাস প্রতিরোধে হাদীসের নির্দেশনঃ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভয়াবহতা সম্বন্ধে রসুল (সাঃ) অত্যন্ত কঠোর ঘোষনা দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণীত, রসুল (সাঃ) বলেছেন সমস্ত দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবশ্যই মহান আল্লাহর নিকট একজন মুসলমানকে হত্যা করার তুলনায় অধিক তুচ্ছ ও নগণ্য। (তিরমিযী হাঃ১৩৯৫)।

হে আমার বান্দাগণ নিশ্চয় আমি আমার জন্য অত্যাচার হারাম করেছি এবং তা তোমাদের উপরেও হারাম করে দিয়েছি। সুতরাং তোমরা পরস্পরে অত্যাচারে লিপ্ত হয়ো না। বিদায় হজ্জের সময় সোয়া লক্ষ মানুষের সামনে রসুল (সাঃ) দ্ব্যার্থহীন কন্ঠে ঘোষনা দিলেন, একজনের রক্ত, সম্পদ, সমমানহানী করা অপরজনের জন্য হারাম। তিনি আরো বলেন তোমাদের রক্ত তোমাদের সম্পত  তোমাদের সম্মান পরস্পরের জন্য ঐরুপ হারাম যে রুপ হারাম তোমাদের এ মাস এবং তোমাদের এই দিন। (সহীহুল বুখারী আল ঈমান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ কওলুন নাবিয়্যি (সাঃ)।

আল কুরআন ও সহীহ হাদীসের দলীল প্রমাণ দ্বারা বুঝা যায় ইসলাম হলো শান্তি, শৃঙ্খলা, দয়া, দক্ষিণ্য্রতার ধর্ম এবং সন্ত্রাসবাদ ও ইসলাম দুই মেরুতে অবস্‌থানকারী দু‘টি বিষয়। সুতরাং ইসলামের সাথে এর দুরতম কোনো সম্পর্ক নেই। যারা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের নামে বিভিন্ন পন্থায় জনগণকে হয়রানিসহ বোমা হামলা করে হত্য্রা করে তারা নিছক সন্ত্রাসী ও নাশকতা মূলক কাজ করছে। যারা এ সকল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তারা ইসলামে ও মুসলমানদের দুশমন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সন্ত্রাসের বিষাক্ত ছোবল থেকে মুক্ত থাকার তাওফীক্ব দিন-আমিন।

Leave a Comment