সদাকা বন্টনের নিয়ম

সদাকা বন্টনের নিয়ম

দান ও সদকা এমন অভাবগ্রস্তদের প্রাপ্য,যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে জীবিকার সন্ধানে ঘোরা ফেরা করতে পারে না, তারা কিছু চায় না বলে অবিবেচক ব্যক্তিরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। কিন্তু তুমি তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে। তারা মানুষের কাছে ব্যাকুলভাবে কিছু চায় না। তোমরা যা কিছু দান কর,আল্লাহ তা জানেন। (সুরা বাকারা আয়াত নং ২৭৩)।

ইসলাম মুসলিম সমাজে ন্যায় ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব পরামর্শ দেয়, সেসবের মধ্যে অন্যতম হলো, দান-খয়রাত করা। অর্থাৎ ইসলাম ধনী ও সম্পদশালীদেরকে তাদের সম্পদের কিছু অংশ দরিদ্র ও বঞ্চিতদের দান করতে বলে। এই আয়াতে দান করার একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে,যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও হিজরতের কারণে সম্পদ হারিয়েছে এবং আয়-উপার্জনের কোন ক্ষমতাও যাদের নেই তাদেরকে যেন দান করা হয়। সংযমী হওয়ার কারণে এই শ্রেণীর মানুষ অন্যদের কাছে কিছু চায় না এবং নিজেদের অভাবের কথাও তুলে ধরে না। তাই সাধারণ মানুষ তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। কিন্তু মুমিনদেরকে এই সম্মানিত ব্যক্তিদের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে এবং এইসব দ্বীনি ভাইয়েরা যেন কষ্ট না পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,,  নিশ্চয় সদাকা হচ্ছে ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য (তা বণ্টন করা যায়) দাস আযাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা তওবা আয়াত নং ৬০)।



এ আটটি খাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনির্ধারিত। তিনি জানেন বান্দাদের স্বার্থ কোথায় আছে। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুসারেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লক্ষণীয় যে, এ আটটি খাতকে আমরা দু’ভাগে ভাগ করতে পারি। এক. এমন কিছু খাত আছে যেগুলোতে ঐ লোকদেরকে তাদের প্রয়োজন পূরণার্থে ও উপকারার্থে দেয়া হচ্ছে যেমন, ফকীর, মিসকীন ইত্যাদি। দুই. এমন কিছু খাত আছে যেগুলোতে তাদেরকে দেয়া হচ্ছে তাদের প্রতি আমাদের প্রয়োজনে ইসলামের উপকারার্থে কোন ব্যক্তির প্রয়োজনার্থে নয়। যেমন, মুআল্লাফাতি কুলুবুহুম আমেলীন ইত্যাদি। এভাবে আল্লাহ তা’আলা যাকাত দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের সাধারণ ও বিশেষ যাবতীয় প্রয়োজনীয় পূরণের ব্যবস্থা করেছেন। যদি ধনীগণ শরীআত মোতাবেক তাদের যাকাত প্রদান করত, তবে অবশ্যই কোন মুসলিম ফকীর থাকত না। তাছাড়া এমন সম্পদও মুসলিমদের হস্তগত হতো যা দিয়ে তারা মুসলিম দেশের সীমান্ত রক্ষা করতে সমর্থ হতো। আর যার মাধ্যমে তারা কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করতে পারত এবং যাবতীয় দ্বীনী স্বার্থ সংরক্ষণ সম্ভব হতো।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment