শুস্ক ও মিশ্র ত্বকের পরিচর্যার পদ্ধতি

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আশা করছি মহান আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ্য আছেন। আলোর বাণী.কম ওয়েব সাইটের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আলহামদু লিল্লাহ আপনাদের দো‘আয় আমিও ভালো আছি। আজকে আপনাদের সামনে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো শুস্ক ও মিশ্র ত্বকের পরিচর্যার পদ্ধতি, আশা বিষয়টি আপনাদেরকে ভালো লাগবে, আর ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ,,

শুস্ক ত্বকঃ এসে গেল শীত। এ ঋতু আমাদের অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু এই প্রিয় ঋতুতে আমরা অনেকেই ভুগি ত্বকের সমস্যায়। শীতের হিমহিম ছোঁয়া শরীরের জন্য আরামদায়ক হলেও ত্বকের জন্য নয়। আবহাওয়ার কারণে এ সময় ত্বকে কিছু সমস্যা তৈরি হয়। শীত যত বাড়তে থাকে, ত্বকের সমস্যা ততই বেশি হতে শুরু করে। ত্বকে সমস্যা তৈরি হওয়ার পর আর কিছু করার থাকে না। শীতের শুরু থেকে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলে আপনি থাকবেন সতেজ, তরতাজা। ত্বক তিন ধরনের হয়—তৈলাক্ত, শুষ্ক ও মিশ্র। তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা শীত ঋতুতে অতিরিক্ত তেল থেকে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেও মুখ ধোয়ার পরপরই ত্বকে দেখা যায় শুষ্ক টান টান ভাব। আর যাঁদের ত্বক এমনিতেই একটু শুষ্ক, তাঁদের কাছে শীত যেন এক দুঃস্বপ্ন।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার। তিনি বলেন, শীতে আবহাওয়ার কারণেই ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। আবার কিছু রোগের কারণেও এমন হতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরও অতিরিক্ত ত্বক ফাটলে এবং শুষ্ক হয়ে গেলে বুঝতে হবে, কোনো সমস্যায় এমন হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নানান কারণে ত্বক রুক্ষ বা শুস্কভাবে পরিনত হয়। শরীরে পানির অভাব হলে বা তেলগ্রন্থি থেকে কোনো কারণে তেল কম নঃসত হলে ত্বকে রুক্ষভাব ফুটে ওঠে। এ ধরনের ত্বক অপেক্ষাকৃত পাতলা হয়। প্রসাধনের পরেও মুখমন্ডলে চকচকে ভাব আসে না। ত্বকে সতেজ ভাব সজীবতা মোটেই থাকে না মাঝে মাঝেই ত্বক ফেটে যায় এবং শরীরে সাদা সাদা খড়ি ফোটা দাগ দেখা দেয়। এছাড়া কোনো কোনো অংশ খোসা ছাড়ানোর মতো উঠতে থাকে যা সাধারণত ত্বকের মরা কোষের জন্য হয়ে থাকে। খুব কম বয়সেও শুস্ক ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়, বিশেষ করে চোখের চারপাশে এবং মুখমন্ডলে। বেশি ক্ষার আছে এমন সাবানের অতিরিক্ত ব্যবহার ভুল প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবহার ইত্যাদির ফলে ত্বকে শুস্ক ভাবের সৃষ্টি হতে পারে। শীতকালে এ ধরনের ত্বকে বেশি শুস্ক ভাব দেখ দেয়। শুস্ক ত্বকের জন্য নামী উৎপাদকের গায়ে মাখার তেল ব্যবহার করে ত্বকে তৈলাক্ত ভাব বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত।

মিশ্র ত্বকঃ এ ধরনের ত্বক শুস্ক ওতৈলাক্ত ত্বকের সমন্বয় সাধারণত কপাল, নাক এবং চিবুকের অংশ থাকে তৈলাক্ত ও মুখমন্ডলের বাক অংশ, বিশেষ করে দু‘চোখের পাশে ও গলার অংশ শুস্ক থাকে পরিচর্যার সময় শুস্ক ও তৈলাক্ত অংশের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে সঠিক পরিচর্যার প্রয়োজন রয়েছে। আর এটা সতর্কভাবে করা উচিত।

প্রতিদিন হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ত্বকের শুষ্ক জায়গাগুলো অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। সিদ্ধ করা মিষ্টি কুমড়ো চটকে তার সঙ্গে মধু ও দুধ পরিমাণ মতো মিশিয়ে ২০ মি. রেখে তারপর ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এ প্যাকটি সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

এছাড়া ত্বকের যত্নে নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে পারেন, নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজ করুন
শীতে ত্বকের যত্নের শুরুতে একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। বাজার থেকে বাদাম তেল বা এভাকাডো সম্বৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার কিনুন। এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। প্রতিদিন অন্তত দুবার অথবা যতবার ত্বক শুষ্ক মনে হবে ততবার ব্যবহার করুন।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণী.কম এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *