শরীয়তের দৃষ্টিতে আযল ও কনডম ব্যবহার করা কী?

শরীয়তের দৃষ্টিতে আযল ও কনডম ব্যবহার করা কী?

বর্তমান বিশ্বে পরিবার পরিকল্পনার প্রোপাগান্ডায় প্রবাহিত হয়ে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকলেই কম বেশি কনডম ব্যবহার করতে শুরু করেছে। ফলে এ বিষয়ে কিছু আলোকপাত করাও জরুরী হয়ে পড়েছে।

সাহাবাদের কিছু ঘটনায় আমরা অবগত হতে পারি যে রসূল (সাঃ) এর আমলেও মানুষ জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য আযল করত এবং রসূল (সাঃ) তা নিষেধ করেননি। সহবাসকালে স্বামী যখন অনুভব করবে যে, এখন বীর্যপাত হয়ে যাবে, তখন তাঁর নিজের যৌনাঙ্গকে স্ত্রীর যৌনি হতে বের করে বীর্য বাইরে ফেলে দেয়াকে আযল বলে। এভাবে স্বামীর বীর্যৃ স্ত্রীর জরায়ুতে প্রবেশ না করায় গর্ভ সঞ্চারের প্রশ্নই আসে না।কনডম ব্যবহারেও এ উদ্দেশ্য সাধন হয়ে থাকে। তাই মহানবী (সাঃ) আযলের অনুমতি অনুযায়ী কনডম ব্যবহার করার অনুমতি মিলে।

আল্লামা উইসুফ কারযাবী এ ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, এক হাদীসে আছে জনৈক ব্যক্তি রসুল (সাঃ)-এর খেদমতে হাযির হয়ে বলেন, যে আল্লাহর রসুল ! আমার একটি দাসী আছে। তার সাথে তো আমি আযল করে থাকি তার প্রতি আমার ঐ আকর্ষণ রয়েছে যা মহিলাদের প্রতি পুরুষদের হয়ে থাকে। কিন্তু আমি এটা পছন্দ করি না যে, তার গর্ভে সন্তান আসুক। ইহুদীরা তো আযলকে এক ধরনের সন্তান হত্যা মনে করে থাকে। শুনে রসুল (সাঃ) বললেন ইহুদীরা ভুল বলছে আল্লাহ তা‘আলা সন্তান পয়দা করতে ইচ্ছা করলে তুমি তা ঠেকাতে পারবে না।

ইমাম গাযযালী (রহ.) লিখেছেন হযরত জাবের (রাঃ) এর সূত্রৈ বর্ণিত একটি সহীহ হাদীসে আছে যে, এক ব্যক্তি রসুল (সাঃ) এর খেদমতে হাজির হয়ে বলল আমার একটি কৃতদাসী আছে। সে আমার খেদমত করে ও গাছে পানি দেয়। আমি  তার সাথে সহবাস করতে চাই। কিন্তু তার গর্বে সন্তান হোক তা আমি চাই না।এজন্য আযল করতে পারব কি? শুনে রসুল (সাঃ) বললেন ইচ্ছা হলে তুমি আযল কর, কিন্তু মনে রেখ তার তাকদীরে যা লেখা আছে তা হবেই। এর কিছুদিন পর লোকটি পুনরায় রসুল (সাঃ) এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, হুজুর সেই দাসীতো অন্তঃস্বত্বা গেল। একথা শুনে রসুল (সাঃ) বললেন আমি তো আগে বলেছিলাম যে, যা কিছু তার তাকদীরে আছে তা ঘটবেই।



এছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় যে, গর্ভ নিরোধের জন্য অনেক সতর্কতা ও ব্যবস্থা অবলম্বনের পরও অনেক ব্যর্থ হয়েছে এবং গর্ভ সঞ্চার হয়ে গেছে এবং অনেক চেষ্টা সত্বেও আর গর্ভপাত ঘটাতে পারেনি। এ ধরনের উদাহরণ সমাজে বহু রয়েছে।

পুরুষের বীর্যের এক একটি ফাটায় লক্ষ লক্ষ শুক্রকীট থাকে। যা পুরুষের যৌনাঙ্গে জোকের মত লেগে থাকে এবং পুরুষ স্ত্রীর যৌনি পথের বাইরে বীর্যপাত করার পর অনেক সময় পুনরায় সহবাস করে। এতে পূর্ব থেকে যৌনাঙ্গে লেগে থাকা শুক্রকীটগুলো স্ত্রীর জরায়ুতে ঢুকে পড়ে যার ফলে গর্ভসঞ্চার হয়ে যায় এবং মানুষের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থতার পর্যবসিত হয়।হযরত মূসা (আঃ)-এর জন্ম এবং ফেরআউনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ঈমাণদারেদের জন্য হিদায়তের বাণী বহণ করে। সুতরাং গর্ভ নিরোধের ব্যবস্থা অবলম্বন করা আত্মতৃপ্তি বৈধ কিছু নয়। বাস্তবে যিনি পৃথিবীতে আগমন করার তিনিতো আসবেই।

এখন প্রশ্ন হলো আযল করা বা কনডম ব্যবহার করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয আছে কিনা? এ বিষয়ে ফুকাহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। হানাফি মাযহাবের বিশিষ্ট আলেমে দ্বিন হযরত মাওলানা শাহ্ ইসহাক সাহেব দেহলবী (রহ.) আজ থেকে অনেক দিন আগে স্বীয় গ্রন্থ মাসায়েলে আরবাঈ‘নে লিখেছেন যে, দাসীর (যার বর্তমান  সময় কোন অস্তিত্ব নেই) সাথে তার অনুমতি ব্যতীত আযল করা জায়েয। কিন্তু স্বাধীন স্ত্রীর সাথে তার অনুমতি ব্যতিত আযল করা জায়েয নেই। কারণ স্ত্রীর জরায়ুতে স্বামীর বীর্য পড়ার সময় স্ত্রীর এক প্রকার স্বাদ অনুভব করে থাকে। আর সহবাসের আনন্দ উপভোগে স্ত্রীর ভাগ বা অংশ রয়েছে। মহানবী (সাঃ)-এর বাণী থেকে স্পষ্ট হল যে, মানুষের সকল চেষ্টা আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সফল হয় না। সুতরাং এ নিস্ফল চেষ্টা হতে বিরত থাকা কর্তব্য।

আলোচ্য বিষয়টি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে উৎশাহ করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment