লাওয়াতাত বা সমকামিতার আলোচনা

লাওয়াতাত বা সমকামিতার আলোচনা-

এক পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে কিংবা বালকের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এবং যৌন লালসা চরিতার্থ করাকে পুরুষদের সমকামিতা বলে। এ খারাপ অভ্যাস সর্ব প্রথম হযরত লুত (আঃ)-এর জাতির মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল। হযরত লূত (আঃ) আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাদেরকে এ অপকর্ম থেকে বিরত রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু যখন তাঁর জাতির লোকেরা কোন ভাবেই তাঁর কথা গ্রাহ্য করল না, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে ভয়াবহ আযাবে নিক্ষেপ করা হয় এবং সেই জালিম ও নাফরমানদের সকল বসত ভিটা উল্টা পাল্টা করে দেওয়া হয়।এ উদাহরন থেকে বুঝা যায় যে, এধরনের অপকর্মের জন্য আমাদের উপরও এমন আজাব আসতে পারে।এ কাজে আল্লাহ তা‘আলা যতটুকু অসন্তোষ হন অন্য কোন গুনাহের উপর তিনি তা হন না। এ থেকে আল্লাহ মুসলমানদেরকে হেফাযত করুন।

আজকের যুগে আমেরিকা বৃটেন ও পশ্চিমা দেশগুলোতে এ অপকর্মের সর্বাপেক্ষা বেশি ঘটার ফলে আজ সেখানে জাহান্নামের অশান্তি নেমে এসেছে। কারণ তারা এটাকে কোন অন্যায়ই মনে করছে না। তাই আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে নেমে এসেছে ‘এইডস‘ নামক এক ঘাতক ব্যাধি। মৃত্যুই যার শেষ পরিণাম। এধরনের গজবের মূল কারণ তাদের সমকামিতা নামের অপকর্ম।

যেহেতু এ সমকামিতা কাজটি প্রাকৃতির চাহিদা পরিপন্থি কাজ, সেহেতু যে এ কাজ করে আর করায় উভয়েই দুনিয়াতেও এর সাজা ভোগ করছে। এ ধরনের অপকর্মকারীর যৌনাঙ্গ বাঁকা,চিকন ও দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যৌনাঙ্গের শিরায় অস্বাভাবিক চাপ পড়ায় এ অবস্থা দেখা দেয়। ফলে সে নারী মিলনের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। আর যার সাথে সমকাম করা হয় বাইরে চাপের ফলে তার  পায়খানা ধারনের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়।



খোজ নিয়ে জানা যায় যার সাথে এ কু-কাজ করা হয়, কিছুদিন পর তার এমন বদ-অভ্যাস হয়ে যায়, সে নিজেই পয়সা দিয়ে পর্যন্ত একাজ করিয়ে নিজের মনোস্কামনা পূর্ণ করে। কারণ পুরুষের শুক্রাকীট তার পিছন রাস্তায় এমন সুড়সুড়ি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে যার ফলে ঐ পাপীষ্ট এ কাজ করার জন্য ‍উন্মাদ হয়ে যায়।

নারীদের মধ্যে কতিপয় খারাপ অভ্যাসঃ ইসলামী শরীয়তের বিধান নারী-পুরুষ সকলের জন্য সমান। যে কাজ পুরুষের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ তা নারীদের জন্যও সমান ভাবে হারাম। তাই পুরুষের ন্যায় নারীদের মধ্যেও যেহেতু কু-অভ্যাস পাওয়া যায়,সেহেতু তাদেরকেও এহেন অপকর্ম থেকে বিরত রাখা একান্ত আবশ্যক। কারণ এ কু-কর্মের জন্য এহকালিন ও পরকালিন শাস্তির বেলায় নারী-পুরুষ সকলেই সমানভাবে দায়ী। আমাদের দেশে বর্তমানে অনেকে মনে করেন যে তার কন্যা এখনও ছোট্র খুকি। আবার কারো কারো বেলায় দেখা যায় যে, অন্যের  মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে বিভিন্ন খোজাখুজি কিন্তু নিজের মেয়েটির দিকে খেয়াল নেই। যে কারনে বিবাহ দিতে দেরী করা, বা খারাপ সঙ্গ দোষে নারীরাও এ ধরনের পাপের পথে ঝুকে পড়তে পারে। নারীদের অভিভাবকদের কর্তব্য নিজেদের কন্যা, বোন, তালাকপ্রাপ্ত ও যুবতী মহিলাদেরকে নিষ্পাপ ও উপযুক্ত পন্থায় নিয়নন্ত্রণে রাখা কিংবা বিবাহের ব্যবস্থা করা যাতে তাঁরা গোনাহ হতে বিরত থাকতে পার।

আলোচ্য বিষয়টি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে উৎশাহ করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment