যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের গুরুত্ব কী?

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের গুরুত্ব কী?

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের নেক আমল মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় এবং এর ফজিলত জিহাদের চেয়েও বেশি। পৃথিবীতে চলমান এই “সময়” মহান আল্লাহ তা’আলাই সৃষ্টি করেছেন এবং বিভিন্ন ভাবে সুবিন্যস্ত করেছেন। বছর, মাস, সপ্তাহ, দিন, রাত, ইত্যাদি তিনিই সাজিয়েছেন। আর তিনিই আপন হিকমতে ও কুদরত বলে বছরের কিছু মাস, মাসের কিছু দিন এবং দিনের কিছু অংশকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছেন।

পবিত্র কুরআনে ভাষ্যমতে বছরের চারটি মাস অধিক সম্মানিত। আল্লাহ তাআলা বলেন,আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন সেইদিন থেকেই মাসসমূহের গণনা আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর বিধান মতে বারটি। তন্মধ্যে চারটি মাস অতি সম্মানিত ১,রজব ২,জিলক্বদ ৩,জিলহজ এবং ৪,মুহাররম। (সুরা তাওবা আয়াত নং ৩৬)।

জিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত যত দিন সম্ভব নফল রোযা রাখা আর রাতের বেলা বেশী বেশী ইবাদত করা যথা নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ,তাহলীল, তাওবা,ইস্তিগফার ও রোনাজারী ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে কাটানোর অনেক ফযীলত রয়েছে । এ দিনগুলোর ফযীলতের ব্যাপারে কুরআন,সুন্নায় অনেক দলীল রয়েছে-আল্লাহ তা‘আলা বলেন তারা যেন নির্দিষ্ট দিন সমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করে। (সূরা হজ্জ আয়াত নং ২৮)।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণীত তিনি বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন (বছরের) যে কোনো দিনের সৎ আমলের চেয়ে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল মহান আল্লাহর নিকট অধিকতর প্রিয়। লোকেরা জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রসুল (সাঃ) আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও কি? তিনি বললেন ‘হ্যা‘ আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও। তবে সেই ব্যাক্তির কথা স্বতন্ত্র, যে তার জান মাল নিয়ে জিহাদে বের হয়েছে এবং কোনো একটিও নিয়ে ফিরে আসেনি ( অর্থ্যাৎ শহীদ হয়ে গেছে) । ( আবু দাউদ হাঃ২৪৩৮, তিরমিযী হাঃ৭৫৭, ইবনু মাজাহ হাঃ ১৭২৭, মিশকাত হাঃ ১৪৬০)।



ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল (সাঃ) এ দশ দিনের তুলনায় অন্য কোন সময় আল্লাহর নিকট এতটা মর্যাদা পূর্ণ নয় বা তাতে আমল করা   এতটা পছন্দনীয় নয়। সুতরাং এ দিনগুলোতে তোমরা অধিক পরিমাণ তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তাকবীর,আল্লাহু আকবার, ও তাহমীদ,আল হামদুলিল্লাহ পাঠ কর। (মুসনাদ আহমদ)

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রসুল(সাঃ) বলেন, জিলহজ্বের দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট অন্য দিনের ইবাদত তুলনায় বেশী প্রিয়, প্রত্যেক দিনের রোযা এক বছরের রোযার ন্যায় আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের ন্যায়। (তিরমিযী হাঃ৭৫৮,সুনানে বায়হাকী কুবরা হাঃ৩৭৫৭,কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল হাঃ১২০৮৮)।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment