যিলহজ্জের চাঁদ উঠার পর কুরবানীদাতা নখ চুল কাটলে পাপ হবে কী?

যিলহজ্জের চাঁদ উঠার পর কুরবানীদাতা নখ চুল কাটলে পাপ হবে কী?

হ্যাঁ যিলহজ্জের চাঁদ উঠার পর কুরবানীদাতা নখ চুল গোঁফ কাটলে পাপ হবে। (শরহে নববী ১৩/১৩৮; মাআলেমুস সুনান ২/২২৭)। কারণ এটা রসুল (সাঃ)-এর নির্দেশ। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানী দেওয়ার ইচ্ছা রাখে তারা যেন যিলহজ্জ মাসের চাঁদ উঠার পর হতে কুরবানী সম্পন্ন করা পর্যন্ত স্ব স্ব চুল ও নখ কর্তন করা হতে বিরত থাকে। (মুসলিম হাঃ ১৫৬৫, মিশকাত হাঃ ১৪৫৯)। তবে কোনো কুরবানীদাতা ভুলবশত বা অজ্ঞতার কারণে তা কেটে থাকলে পাপী হবেন না। কিন্তু নেকী থেকে বঞ্চিত হবেন। আর যদি ইচ্ছাপূর্বক তা করেন তাহলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

যারা কোরবানি করতে সক্ষম নয় তারাও এই আমল পালন করতে পারে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকবে। কেননা কোনো অসচ্ছল লোক যদি এ দিনগুলোতে চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি না কেটে ঈদের দিন কাটে তবে তাদের পূর্ণ কোরবানির সওয়াব দেওয়া হবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত  রসুল (সাঃ) বলেছেন  আমি কোরবানির দিন সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি (অর্থাৎ এই দিনে কোরবানি করার আদেশ করা হয়েছে।) আল্লাহ তা‘আলা তা এ উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি আরজ করল হে আল্লাহর রসুল (সাঃ) যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে অর্থাৎ যা শুধু দুধপানের জন্য দেওয়া হয়েছে? আল্লাহর রসুল (সাঃ) বললেন না, বরং সেদিন তুমি তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, গোঁফ ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটিই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কোরবানি বলে গণ্য হবে। (মুসনাদে আহমদ  হাঃ ৬৫৭৫)।



উক্ত হাদিসে রসুল (সাঃ) কোরবানি করতে অসক্ষম ব্যক্তিরাও যেন সচ্ছল মুসলমানদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ও খুশি উদযাপনে অংশীদার হতে পারে। তারা এই ছোট্ট আমলটির মাধ্যমেও পরিপূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে। অনুরূপভাবে হাজিদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী হবে। মহান আল্লাহ এতটাই মহান যে তিনি তাঁর কোনো বান্দাকেই নৈরাশ করেননি। সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment