যাকাত অনাদায় কারীর শাস্তি

যাকাত অনাদায় কারীর শাস্তিঃ

যে সব কাজ করলে মানুষ বড় ক্ষগ্রস্ত হয় এবং তওবা ছাড়া পাপ ক্ষমা হয় না। যাকাত অনাদায় তার মধ্যে একটি বড় পাপ। যাকাত আদায় না করলে মানুষের রুযী হারাম হয়ে যাবে।আর রুযী হারাম হলে কোন ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। (মুসলিম, মিশকাত হাঃ২৭৬০:বাংলা ৬ষ্ট খন্ড হাঃ২৬৪০;ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়)।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ অনুগ্রহে অর্থ-সম্পদ দান করেছেন, তারা কৃপণতা করে। তারা যেন ধরণা না করে যে তাদের অর্থ-সম্পদ তাদের কাছে মঙ্গল জনক বরং তা তাদের জন্য অত্যান্ত অনিষ্টপূর্ণ কাজ। তারা কৃপনতা করে যা জমা করেছে ক্বিয়ামতের দিন তা তাদের কাঁধে ঝুলিয়ে দেয়া হবে। (সুরা আল-ইমরানঃ১৮০)।

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ধ্বংস সুনিশ্চিত ঐ সকল মুশরিকদের জন্য যারা যাকাত প্রদান করে না। (সুরা হা-মীম সাজদাহঃ৭)।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন, সর্বপ্রথম তিন শ্রেণীর লোক জাহান্নামে যাবে। ১।স্বেচ্ছাচারী শাসক, ২।যাকাত আদায় করে না এমন ব্যক্তি, ৩।অহংকারী ফকীর। (আহমাদ,আল-কাবায়িরঃ৫৮পৃঃ)।

আর যারা র্স্বণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা আল্লার পথে ব্যয় করে না তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তাদের সম্পদগুলি উত্তপ্ত  করা হবে। অতঃপরঃ তা দ্বারা তাদের ললাট পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশ দগ্ধ করা হবে এবং বলা হবে এই হচ্ছে তোমাদের আত্মার জন্য জমাকৃত সম্পদ। তোমরা যা জমা করতে তার স্বাদ গ্রহন কর। (সুরা তওবাঃ৩৪-৩৫)।

অত্র আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, আমাদের সম্পদ ও স্বর্ণ রৌপ্য জমা কৃত অর্থের যাকাদ আদায় করতে হবে। যাকাত আদায় না করলে ক্বিয়ামতের দিন কঠিন আযাবের সম্মক্ষিন হতে হবে।

ইসলামের ইতিহাসের পাতা খুললেই আমরা দেখতে পাই, খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও কিছুসংখ্যক লোক যাকাত আদায়ে অবহেলা করত এবং এদের বিরাট একটি অংশ হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু- এর আমলে যাকাত আদায়ে অস্বীকৃতি জানায়।

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন , রসুল (সাঃ) বলেছেন আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন আর সে তার যাকাত আদায় না করে তাহলে ক্বিয়ামতের দিন তার সে সম্পদকে টেকো মাথা বিষাক্ত সাপে পরিনত করা হবে, তার দু‘চোখে দুটি কালো বিন্দু থাকবে। ক্বিয়ামতের দিন ঐ সাপকে তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর তার দু‘চোঁয়ালে কামড়িয়ে ধরে বলতে থাকবে আমি তোমার জমা করে রাখা সম্পদ। আমি তোমার জমা করে রাখা সম্পদ। তার পর আল্লাহ রসুল (সাঃ) সুরা আল ইমরানের ১৮০ নং আয়াত পড়ে সুনালেন। (বুখারী, মিশকাত হাঃ১৭৭৪)।

অত্র হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের যা সম্পদ তা আল্লাহর দান তাই এই সম্পদ থেকে আমাদের অবস্যই যাকাত দিতে হবে, তা না হলে এ গচ্ছীত সম্পদ ক্বিয়ামতের দিন সাপের আকৃতী ধরন করে কষ্ট দিতেই থাকবে।

এছাড়া পবিত্র কোরআনে ও হাদিস যে ভয়াবহতার কথা উল্লেখ রয়েছে, তা নিঃসন্দেহে হবেই। তাই কিয়ামত দিবসে ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে হলে সম্পদের নির্ধরিত যাকাত অবশ্যই আদায় করতে হবে। আল্লাহ পাক যেন প্রত্যেক ধনীকে যাকাত আদায়ের মাধ্যমে অভাবির হক ফিরিয়ে দেয়ার তাওফিক দেন, #আমিন

 

Leave a Comment