মু‘মিন কখনো অপবিত্র হয় না

মু‘মিন কখনো অপবিত্র হয় না

বহু হাদীস থেকে প্রমাণীত হয় যে, বীর্য বা ধাতু নাপাক নয়। অবশ্য কেউ কেউ নাপাক বললেও তাদের অভমত বীর্য নাজাসে হুকুমী মনী বের হলে খুটিঁয়ে ফেলে দিলেই যথেষ্ট হবে।এতে মানুষের মল-মূত্রের ন্যায় নাজাসে আইন হয়ে যায় না। যেমন মল-মূত্র কাপড় থেকে ভালভাবে ধৌত না করলে ঐ কাপড় পরিধান করে নামায পড়লে তো কবুল হবেই না; বরং কবরে ভয়ানক আযাবের সম্মূখীন হতে হবে বলে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে বীর্য (মনী) বের হলে সেটা যদি নাপাক নাই হতো তবে গোসল ফরয হয়ে যায় কেন? আসল মানুষের শরীর থেকে যখন বীর্য (মনী) বের হয়ে আসে, তখন তার সমস্ত শরীর একটা ক্লান্তি এবং দুর্বলতা ও অলসতার ভাব বিশেষ করে ঐ অবস্থায় যদি কেউ নামাযে বা অন্য কোন ইবাদতে দাঁড়ায় তার মনে আল্লাহর একগ্রতা বা সুন্দর ও উৎফুল্ল মন নিয়ে ইবাদত বন্দেগী করা আদৌ সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই যখনই সে ব্যক্তি গোসল সেরে ফেলে তখনই তার ঐ অলসতা ও ক্লান্তি ভাবটা কেটে যায় এবং আনন্দে আল্লাহ তা‘য়ালার ইবাদতে মনোযোগ দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু বাস্তবে ঐ বীর্য (মনী) শরীরে লেগে যাওয়ার জন্য কেউ নাপাক বা অপবিত্র হয় ন, যা সহীহ বুখারী হাদীস থেকে প্রমাণিত।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণীত তিনি বলেন একদা আমার সাথে রসুল (সাঃ)-এর সাক্ষাত হল। তখন আমি (বীর্য পাতের কারণে অপবিত্র) ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমি তাঁর সাথে চলতে ছিলাম যে পর্যন্ত না তিনি বসলেন। তখন আমি চুপি চুপি কেটে পড়লাম এবং নিজ বাড়িতে এসে দেখি মহানবী (সাঃ) সেখানে বসা ছিলেন। তিনি বললেন এতক্ষণ কোথায় ছিলে হে আবু হুরায়রা! আমি তাকে ব্যাপারটি খুলে বললাম।



মুসলিম শরীফের অপর বর্ণনায় আছে যে, আমি উত্তরে রসুল (সাঃ)-কে বললাম যখন আমার সাথে আপনার সাক্ষাত হল, তখন আমি নাপাক ছিলাম। অতঃএব আপনার সাথে বসাটাকে অপছন্দ করলাম যে পর্যন্ত না গোসল করি। শুনে রসুল (সাঃ) বললেন সোবহানাল্লাহ! (কি আশ্চর্য) মুমিন কখনো অপবিত্র হয় না। (বুখারী)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, মহানবী (সাঃ)-এর স্ত্রী একটি গামলাতে গোসল করলেন। অতঃপর রসুল (সাঃ) ঐ পানি দিয়ে ওযু করার ইচ্ছা করলেন। তাঁর স্ত্রী বললেন হে আল্লাহর রসুল! আমি নাপাক ছিলাম। রসুল (সাঃ) বললেন পানি নাপাক হয় না। যদি তার হাতে বা শরীরে মল-মূত্রের নাপাকী না থাকে। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

বীর্য নাপাক বলে গোসল ফরয হয় না। বরং শরীরের ক্লান্তি ভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য গোসল ফরয হয়ে যায়। যেমন লিঙ্গ স্পর্শ করলে ওযু ভেঙ্গে যায় অথচ লিঙ্গ শরীরেরই পাক অংশ। রসুল (সাঃ) বলেন কায়েস বিন তালক বিন আলী আলখাফী তার পিতা হতে তিনি মহানবী (সাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, রসুল (সাঃ) প্রশ্নোত্তরে বলেন, লিঙ্গতো শরীরে একটুকরো গোশত মাত্র।

এখানে পরিস্কার ভাবে প্রমানিত হয় যে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন নাপাক নয় তেমনিভাবে লিঙ্গ নাপাক নয়,বরং শরীরের এক পবিত্র অঙ্গ।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বণী সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment