মানুষ সৃষ্টির ইতিহাস

মানুষ সৃষ্টির ইতিহাস

মানুষকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করার পর ফিরিষতারা আল্লাহর হুকুমে মানুষকে সেজদা করেছেন। এর দ্বারা আল্লাহর হুকুমে মানুষের সম্মান বৃদ্ধি করেছেন। এভাবে হযরত আদম (আঃ)-কে বেহেশতে স্থান দিয়েছেন। যখন হযরত আদম (আঃ)-কে বেহেশতের এত সুখে থাকার পর একাকীত্ব বোধ করছেন। তখন মহান আল্লাহ তার সঙ্গীরুপে হযরত হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন। তাই মহানন আল্লাহ বলেন,, অথ্যাৎ আর এক নিদের্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য  তোমাদের মধ্য হতে সঙ্গীনী সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পারিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।

পর্যায় ক্রমে আল্লাহ পাক মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। কোরআনে তিনি বলেন তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানুষকে। অতঃপর তাকে রক্ত বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কৃশীল করেছেন। তোমরা পালন কর্তা সব কিছুই করতে পারেন।

সমগ্র বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ রব্বুল আলামিনকে কেউ জন্ম দেননি আর তিনিও কাউকে জন্ম দেননি। পৃথিবী ও সৌর জগতে যা কিছু রয়েছে তা আল্লাহ পাক নিজেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রথমে আসমান জমিন সৃষ্টি করে আরশ কুরসী স্থাপন করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন –



নিশ্চয়ই তোমোদের মহান প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা। যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের অধিষ্ঠিত হয়েছেন। (সুরা আরফ আয়াত নং৫৪)।

কোন এক সময় এসে আল্লাহ তা‘আলা আসমান জমীন সৃষ্টি করার পর জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেন। জ্বীন জাতীকে মানব জাতির পূর্বে সষ্টি করা হয়েছে। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে-(ওয়াল জান্না খলাকনাহু মিন ক্ববলু) জ্বীনদেরকে আমি এর পূর্বে সৃষ্টি করেছি। জ্বীন জাতি এক পর্যায়ে ফিৎনা ফাসাদে লিপ্ত হওয়ায় আল্লাহ পাক মানব জাতি সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। জ্বীন জাতির বিপর্যায়ের পর আল্লাহ মানব জাতি সৃষ্টির পূর্বে ফেরেশতাদের নিয়ে পরামর্শ সভা ডাকলেন।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন- আর যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাদেরকে বললেন ,আমি পৃথিবীর প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে চাই । তখন ফেরেশতাগণ বল্ল, আপনি কি পৃথিবীতে এমন কোন প্রতিনিধী সৃষ্টি করবেন, যারা পৃথিবীতে রক্ত পাত, ফেৎনা-ফাসাত সৃষ্টি করবে। অতঃএব আমরাই তো আপনার গুন-কীতর্ন পবিত্রতা ঘোষনা করছি এবং প্রশংসা করছি। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন আমি যা জানি তোমরা তা জানো না। (সুরা বাক্বারাহ আয়াত নং ৩০)

হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করে আল্লাহ তা‘আলা তাকে সর্ববিষয়ে শিক্ষা দিলেন। ফেরেশতাদের সামনে এ সকল পেশ করে বললেন, তোমরা যদি সত্য বাদী হও তাহলে এগুলোর নাম বলে দাও ,কিন্ত তারা বলল আপনিই মহান পবিত্র, আমাদের আপনি যা শিক্ষা দিয়েছেন, তার বাইরে আমাদের কোন জ্ঞান নেই। বস্তুতঃ আপনি মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়। এ সময় আল্লাহ বললেন হে আদম ! তুমি তাদেরকে এগুলোর নাম বলে দাও। তখন সে তাদেরকে এগুলোর নাম বলে দিলেন, তখন আল্লাহ বললেন আমি কি বলিনি যে, আসমান জমীনের সকল অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমিই অবস্থিত আর তোমরা যা গোপন কর ও ব্যক্ত কর আমি সাম্যক অবগত। (সুরা বাক্বরা আয়াত নং ৩১০৩২)।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন এভাবে ফেরেশতাদের উপর আদমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতী স্বরুপ তাদের নির্দেশ দিলেন আদম (আঃ) কে সেজদা করতে। অতঃপর ইবলিস ব্যতিত সকলেই আদম কে সিজদা করল। সে অমান্য এবং অহংকার করলো অতঃপর সে বিদ্রোহীদের অনন্তর্ভুক্ত হলো। (সুরা বাক্বরা আয়াত নং৩৪)।

অভিশপ্ত ইবলিসের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদেরকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার। কারণ, জান্নাত যেহেতু তার চক্রানেন্তর উপযুক্ত ছিল না, সেহেতু সে সর্প আকৃত ধারন পূর্বক জান্নাতে প্রবেশ করে পরম হিতাকাক্ষীরুপে তাদের কাছে হাজির হোন। অতঃপর বিভিন্ন কলা-কৌশল অবলম্বন করে তাদেরকে নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ করাতে সক্ষম হয়।

তাঁরা যখন নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষন করল, তখন তাদের গায়ের পোশাক পরে গিয়ে তাদের লজ্জা স্থান তাদের সামনে প্রকাশিত হলো। তারা গাছের লতা-পাতা দিয়ে তা আবৃত করতে লাগলেন, তখন তাদের প্রতিপালক তাদের সম্বোধন করে বলেন, আমি কি তোমাদের এ বৃক্ষের ফল খেতে নিষেধ করিনি এবং বলিনি শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রূ? তারা বল্ল হ্যাঁ আমাদের প্রতিপালক আমরা আমাদের নিজেদের উপরে অত্যাচার করেছি, যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন তাহলে আমরা ক্ষতি গ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হব।

আল্লাহ আদেশ করলেন তোমরা সকলেই এ স্থান হতে নেমে যাও। এ আদেশের মধ্যে শয়তানও শামিল ছিল। কারণ আদেশ দ্বিবচনের নয় বহুবচনের ছিল। তাই আদম (আঃ)-এর সাথে শয়তানও পৃথিবীতে আগমন করে। আদেশের সাথে সাথে আল্লাহ আরো বলেন  পরে যখন আমার পক্ষ থেকে কোনো হেদায়েত যাবে তখন যারা এর অনুসরন করবে তাদের কোন ভয় নেই। এটা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে যুগে যুগে নবী রসুলে প্রেরণের ওয়াদা। যার পরিসমাপ্তি ঘটেছে আমাদের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে।



আর আদম ও হাওয়া (আঃ) যখনই জানতে পারলেন তারা অপরাধ করে ফেলেছে । তখন তারা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে কেঁদে ফেললে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। এর কারণ আদম ও হাওয়া ছিল মাটির সৃষ্টি আর শয়তান ছিল আগুনের সৃষ্টি । মাটির সৃষ্টি মানুষের কোন গর্ব ছিল না। কিন্তু আগুনের সৃষ্টি বলে তার গর্ব ছিল।

প্রকৃত পক্ষে নারী-পুরুষ সমবলিত আশরাফুল মাখলুকাত সৃষ্টি আল্লাহর বিশেষ রহমত। জ্বীন ও মানব জাতিকে আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন, তার দাসত্ব করার জন্য মযমন আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন- আমি জ্বীন এবং মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছি আমার দাসত্ব করার জন্য।

Leave a Comment