মানুষের যৌবনকাল

মানুষের যৌবনকাল

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের জীবনকে  চারটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে যথা-শৈশব, যৌবন, প্রৌঢ় ও বার্ধক্য। এর মধ্যে আবার যৌবনই হল মানুষের জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টির মহিমা বুঝা মানুষের পক্ষে খুবই কঠিন।একটি ক্ষুদ্র বীজ হতে যেমন বিরাট বৃক্ষের জন্ম হয়ে থাকে তদ্রুপ এক বিন্দু নাপাক পানি থেকে ক্রমান্বয়ে কোটি কোটি মানব জাতির সৃষ্টি করে  তার সৃষ্টির অপার মহিমা প্রকাশ করে থাকেন। ছোট বেলায় অর্থাৎ শৈশবকালে ছেলে-মেয়েরা খাওয়া-দাওয়া ও খেলা-ধুলা ব্যতীত অন্য কিছুর দরকার মনে করে না। কিন্তু জীবনের প্রারম্ভ শৈশবের শেষ হবার সাথে সাথে যৌবণকালের অদ্ভদয় প্রকাশ পেয়ে থাকে।

আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর ইবাদতের জন্য এবং আবাদের জন্য এ পৃথিবীতে মানব জাতীকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন-  হে মানব মন্ডলী ,আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও। (সুরা হুজরাত আয়াত নং১৩)।মানব জাতীকে তিনি নর ও নারী হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আরো বলেন, আর আমি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি। (সুরা নাবা আয়াত নং ৮)।



বয়স বাড়ার সাথে সাথে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন জিনিসের সাথে পরিচিত ও আকৃষ্ট হতে থাকে। এ  অবস্থায় বালক-বালিকাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেড়ে ওঠতে থাকে। ফুটে উঠে তাদের শরীরের প্রতিটি  যৌবণের আনন্দ। পাপড়ি মেলে ধরে গোলাপের মত।  তখন ছেলেদের মুখে দাড়ি-গোঁফ এবং নাভির নীচে লোম গজাতে থাকে, স্বপ্নে দেখে তাদের স্বপ্নের রাণীকে। কিন্তু স্বপ্ন যখন দেখে তখন তারা জানে না তাদের যে বিয়ে হয়নি। তাই সে স্বপ্নকে স্বপ্ন দোষ বলা হয়।আর মেয়েদের নাভীর নীচের লোম গজাতে থাকে এবং তাদের বুক উন্নত ও স্ফীত হয়। স্তনগুলো ডালিমের মত উন্নত হতে থাকে ও প্রতি মাসে হায়েজ  বা ঋতুস্রাব শুরু হয়ে থাকে। এ অবস্থায় যুবক-যুবতীরা মনের আনন্দে সুখের নেশায় রঙ্গিন স্বপ্ন দেখে, ভবিষৎ জীবনের আরাম আয়েশের জন্য মনে বিভিন্ন প্রকারে জল্পনা-কল্পনা করে থাকে।

এ যৌবনকালেই যুবক-যুবতীদের মধ্যে কামোত্তেজনার জন্ম হয়। উন্দ্রিয়ের যাতনায় কাল-লিপ্সা চরিতার্থ করবার মানসে যুবক-যুবতীর সান্নিধ্য এবং যুবতী-যুবকের সান্নিধ্য লাভ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে এ রকম বয়সে যুবক-যুবতীরা যৌন বিষয়ক আলাপ-আলোচনা এবং অশ্লীল বই-প্রস্তুক পড়া পছন্দ করে। সিনেমায় যেয়ে কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল ছবি দেখে মনের আনন্দ লাভ করে থাকে।

মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের মনের গতি অনেক পরিবর্তন হয়ে থাকে। এ সময় তাঁদের মাঝে যৌন মিলনের আকাঙক্ষা দেখা দেয়। পুরুষ নারী এবং নারী পুরুষের সাথে যৌন মিলনের চেষ্টা চালায়। নারী-পুরুষের পরস্পরের প্রতি আসক্তকারী সময়কে যৌবনকাল বলা হয়। যৌবন মানব জাতির অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ যৌবনকে কাজে লগিয়ে মানুষ অসাধ্যকে সাধন করেছে। আবার এ যৌবনের উত্তেজনায় মানব তার শক্তি ও প্রতিভা কু-পথে পরিচালনা করে দেশ ও জাতির ধ্বংশ টেনে আনে। তাই যৌবনকালে সাময়িক কাম উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে কু-পথে পরিচালিত হওয়া মানব জীবনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেয়। এর ফলে স্বাস্থ্য নষ্ট হয় পড়াশোনায় মন বসে না, মন বসে না কোন কাজে। নারী-পুরুষের পরস্পর বৈধ মিলনের মাধ্যমে প্রেম ও ভালোবাসায় আবদ্ধ হয়ে নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করতে পারে। আর এ জন্যই মহান আল্লাহ তাঁর দুনিয়ার বাগান সাজাতে মানুষের এই  পবিত্র মিলনের ব্যবস্থা করেছেন।

Leave a Comment