মহান আল্লাহর অনুগ্রহ

মহান আল্লাহর অনুগ্রহ

মানব জাতির দুই বৈপরীতের সমম্বয়। দোস্ত-দুশমন ভালো ও মন্দ সৎপ্রবত্তি ও অসৎপ্রবৃত্তি উভয় দিকই তার মধ্যে বিদ্যমান।। মানব জাতি আল্লাহর যমীনে আল্লাহর প্রতনিধি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে এবং আল্লাহর মনোনীত নবী-রসুল (সাঃ) মানবজাতির মধ্য থেকেই প্রেরিত হয়েছে, এটা মানবিক যোগ্যতার একটি দিক। পক্ষান্তরে যারা ফেরআউন হামান শাদ্দাদ নমরুদ সেজে যুগে যুগে জঘন্য লোমহর্ষক ও ধ্বসাত্নক কার্যকলাপ সংঘটিত করেছে, তারাও মানব জাতির মধ্যে শামিল।

আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামত এত বেশি যে দুনিয়ার সব মানুষ সমবেত ভাবে সেগুলো গুনতে চাইলে তা গুনে শেষ করতে পারবে না। মানুষের নিজের অস্তিত্বই একটি বিশাল জগৎ। চোখ কান নাক হাত পা, এবং দেহের প্রতিটি গ্রন্থি ও শিরা-উপশিরায় আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য নিয়ামত রয়েছে। সূক্ষ্মতম ও বিস্ময়কর হাজারো যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত প্রতিটি মানবদেহ। মানুষের শরীর যেন একেকটি ভ্রাম্যমাণ কারখানা। এর বাইরে আসমান জমিন পাহাড় নদী ও অন্য অসংখ্য সৃষ্টিতে জড়িয়ে আছে আল্লাহর নিয়ামতরাজি। আধুনিক বিজ্ঞান এখনো এসব সৃষ্টির রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি। এসব নিয়ে চিন্তা করলে বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলার নিয়ামতরাজি গুনে শেষ করা বনি আদমের পক্ষে সম্ভব নয়।

মহান আল্লাহ তা‘আলার সহস্র শোকরিয়া, তাঁর অনুগ্রহের হস্ত সর্বৃদা প্রসারিত এব সদাসর্বদা এমন অদৃশ্য উপায়-উপকরণের ব্যবস্থা হয়েছে, যাতে ভাঙ্গা-গড়ার এবং ধ্বংস-সৃষ্টির রুপ পরিগ্রহ করেছে। মহান আল্লাহ মানব জাতীর মধ্য হতে সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে রহমাতুল্লিল আলামীন, বিশ্ব জাহানের রহমত রুপে উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এব আমার নেয়ামত তোমাদের ওপর পূর্ণ করে দিলাম। আর তোমদের জন্য দ্বীন ইসলামেকে একমাত্র দ্বীন হিসাবে মনোনীত করে দিলাম। (সুরা আল মায়েদা আয়াত নং ৩)।

তোমরা আল্লাহর কাছে যা যা চেয়েছ তার সবই তিনি তোমাদের দিয়েছেন। তোমরা যদি আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করতে চাও, তাহলে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। অবশ্যই মানুষ অত্যধিক সীমা লঙ্ঘনকারী ও অকৃতজ্ঞ। (সুরা ইবরাহিম আয়াত নং৩৪)।



এ ঐতিহাসিক ঘোষনা দান করে কুরআকে মানুষের সর্বশেষ কার্যবিধিরুপে নির্ধারন করেছেন যা মানবজাতির জন্য এক সর্বব্যাপী ও পূর্ণাঙ্গ জীবণ ব্যবস্থা স্বরুপ। মানব জীবনের এমন কোন দিক ও বিভাগ নেই যে সম্পর্কে এ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

মানব বংশধারাঃ- মহান আল্লাহ পৃথিবীতে মানব জাতির স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণকল্পে তাদের বংশবৃদ্ধির যে ধারা প্রচলিত করেছেন, নারী-পুরুষ নামের দুটি ভিন্নজাতি সৃষ্টি করে, ‍উভয়ের মধ্যে পরস্পরের প্রতি প্রেম-প্রীতি. আকর্ষণ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন, নারী-পুরুষ প্রত্যেকটি শ্রেণীর মধ্যে অপর শ্রেণীর প্রতি আসক্তির তাকীদ সংরক্ষণ করেছেন, তারই ফলে উভয়ে পরস্পরকে স্বীয় সুখ-শান্তি ও আরাম-আয়েশের উপায় উপকরণ হিসাবে ভাবতে বাধ্য। এক কথায় নারী-পুরুষ একজনের জবীন অন্যজন ব্যতীত অসম্পূর্ণ ও অপরিপূর্ণতা।

ইসলামী শরীয়ত জবীনের অন্যান্য বিভাগে যেভাবে মানব জাতিকে স্বাভাবিকতার সীমায় এনে দাঁড় করছে, তেমনি ভাবে যৌন সংসর্গের ক্ষেত্রে তাকে একটি স্বাভাবিক ও প্রকৃতি সম্মত কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে চায়। তাই ইসলামে বিধি-বিধানের একটি স্বতন্ত্র ধারাই এ ক্ষেত্রে প্রবর্তৃন করা হয়েছে। আমরা এক বিশেষ ভঙ্গিতে এই মানব জীবনধারাটি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার সৌভাগ্য অর্জন করছি। যাদের অন্তরে আল্লাহর ভীতি রসুলের মাহাত্ন্য ও আখেরাতের ভয় বিদ্যমান হয়ত এ গ্রন্থটি তাদের সংশোধনের অগ্রপথিক হতে পারে।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment