মনী বা বীর্য সম্পর্কে আলোচনা

মনী বা বীর্য সম্পর্কে আলোচনা

হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণীত তিনি বলেন, আমি রসুল (সাঃ)-কে মযী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তদুত্তরে তিনি বলেন মযী বের হলে অযু করতে হবে। আর মনীতে (বীর্যপাত হলে) গোসল করতে হবে। (তিরমিযী)

হযরত আলী (রাঃ) হতে রসুল (সাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, মযী বা পাতলা আঠালো পানি দু‘এক ফোঁটা বা আরো অধিক পরিমাণে বের হলেও গোসল করতে হবে না, বরং ওযু করলেই যথেষ্ট হবে। আর মনী (ঘন গাঢ় বীর্য) বের হলে গোসল করতে হবে।

হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণীত, তিনি বলেন আমার প্রায়াই মযী নির্গত হত এবং গোসল করতাম এমন কি এ কারণে (ঠান্ডায়) আমার পিঠে ব্যাথা হতো। অতঃপর আমি এ বিষয়টি রসুল (সাঃ)-এর কাছে বর্ণনা ককরি। (রাবী বলেন) অথবা অন্য কারো দ্বারা বালানো হয়। রসুল (সাঃ) বলেন তুমি এরুপ করবে না, বরং যখনই তুমি মযী দেখবে ,তখনই তা ধৌত করবে, এবং নামায আদায়ের জন্য যে ওযু করো সে অনুযায়ী ওযূ করে নিবে। অবশ্য যদি উত্তেজনা বশতঃ বীর্য (মনী) বের হয়ে যায়, তবে গোসল করতে হবে। (আবূ দাউদ)



রসুল (সাঃ)-এর সহীহ হাদীম থেকে আরো প্রমাণিত হয়। মযী কাপড়ে লেগে গেলে, তা ভালোভাবে পরিস্কারর করার কোন প্রয়োজন হয় না, বরং মযী লেগে যাওয়ার স্থানে পানি ছিটিয়ে ধুয়ে ফেললেই যথেষ্ট হয়।

হযরত সাহল বিন হোনাইফ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমার অত্যাথিক লিঙ্গো উত্তেজনায় বার বার মযী বের হতো। ফলে আমি বার বার গোসল করে নিতাম। একেদা আমি রসুল (সাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, তদু্ত্তরে মহানবী (সাঃ) বলেন এ কারণে তোমার শুধু ওযু করাই যথেষ্ট হবে। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর (সাঃ)!আমার কাপড়ে মযী লেগে গেলে তখন কি করতে হবে? তিনি বললেন তমি পানি নিয়ে যেখানে তোমার কাপড়ে মযী লেগেছে সেখানে ছিটিয়ে দেবে। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

উক্ত হাদীস থেকে পরিস্কার ভাবে প্রমাণিত হয়, মযী বা পাতলা আঠালো পানি কাপড়ে লেগে গেলে উক্ত কাপড় ধ্যেত করার কোন প্রয়োজন নেই; বরং কাপড়ে ঐ মযী লাগার স্থানে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে। তাছাড়া মযী লেগে আছে এ দ্বিধা সংকোচ দুর করার জন্য রসুল (সাঃ) পানি ছিটিয়ে দিতে বলেছেন এবং তিনি নিজেও তাই করতেন। বিশেষ করে প্রত্যেক ওযুর শেষে লজ্জা স্থানে পানি ছিটিয়ে দেয়ার ব্যপারে সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন আমার কাছে হযরত জিবরাঈল (আঃ) এসে বললেন হে মুহাম্মাদ (সাঃ) যখন আপনি ওযূ শেষ করবেন তখন (লজ্জা স্থানে) পানির ছিটা দিবেন। (তিরমিযী)

হযরত আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণীত, তিনি বলেন আমার অধিক পরিমানে মযী বের হত। আমি অন্য একজনকে এ বিসয়ে রসুল (সাঃ) থেকে অবগত হতে অনুরোধ করি। কেননা তাঁর কন্যা (ফাতিমা) আমার স্ত্রী আমার অধীনে ছিল। ঐ ব্যক্তি হুযুর (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন ওযূ করবে এবং লিলঙ্গ ধুয়ে ফেলবে। (বুখারী)

হযরত আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণীত, তিনি বলেন আমি অত্যাধিক মযী বিশিষ্ট লোক ছিলাম। আমি আল্লাহর রসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করলাম আমি  মিকদাত বিন আসওয়াদকে বললাম যেন সে এ ব্যাপারে রসুল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করে। অতঃপর মিকদাদ রসুল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এতে ওযু করতে হবে। (বুখারী-মুসলিম)

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বণী সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment