ব্যবসার মালের যাকাত

ব্যবসার মালের যাকাতঃ

ব্যবসায়ের মালামালের ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে, তা যে প্রকারেরই হোক না কেন। যখন তার মূল্য সোনা অথবা রুপার হিসাবে নেসাব পরিমাণ হবে যাকাত দেয়ার মূল্য সোনা ও রুপার যে মূল্য ধরা হলে ফকির ও মিসকিনরা লাভবান হয় তাই নির্ধারণ করবে। আর ইমাম আবু ইউসুফ (রঃ) বলেন যা দ্বারা সেগুলো ক্রয় করা হয়েছে তা দ্বারাই মূল্য ধরা হবে। অতঃপর যদি তা মুদ্রা মান ব্যতীত ক্রয় করা হয়ে থাকে তাহলে শহরের অধিক প্রচলিত মু্দ্রা দ্বারা মূল্য নির্ধারন করতে হবে। আর ইমাম মুহাম্মাদ (রাঃ) বলেন সর্বাবস্থায় শহরের অধিক প্রচলিত মূল্য ধরা হবে। আর বছরের শুরুতে ও শেষে পূর্ণ নিসাব পরিমান মাল থকলে মাঝখানে তা কমলেও যাকাত রহিত হবে না। ব্যবসায়ের মালের মূল্য সোনা ও রুপার দামের সাথে মিলিয়ে নেসাবের হিসাব করতে হবে। এমনি ভাবে ইমাম আবু হানিফা (রঃ)Ñএর মতে সোনার দাম ধরে রুপার সাথে যোগ করতে হবে, যাতে নিসাব পরিপূর্ণ হয়। আর সাহেবাইন (রঃ) বলেন সোনার দাম ধরে রুপার সাথে যোগ করা যাবে না।বরং অংশ হিসাবে মিলানো যাবে।(তাওযীহুল কুদরীঃ১৯৫ পৃঃ)

ব্যবসায়ের মালের যাকাতের বিধানঃ শুধু স্বর্ণ ও রুপার উপরেই যাকাত ফরয নয়; বরং ইসলামি শরীয়তে ব্যবসার পণ্য সামগ্রীর ও উপর যাকাত নির্ধারন করা হয়েছে। তাই নিম্নে ব্যবসার পণ্যের যাকাত ফরয হওয়ার শর্ত বর্ণনা করা হলো।

ব্যবসায়ী পণ্যে যাকাত ফরয হওয়ার শর্তঃ যেহেতু ব্যবসায়ের পণ্য সম্পদের অর্ন্তভুক্ত এবং এতে প্রবৃদি্‌ধ সাধিত হ, তাই এতে যাকাত ওয়াজিব। ফকীহদের পরিভাষায় ব্যবসার পণ্যে যাকাত ফরয হওয়ার দুটি শর্ত রয়েছে। যথাঃ ১)পণ্যের মূল্য নেসাব পরিমান হওয়া ২)পূর্ণ বছর বা বছরৈর উভয়প্রান্তে মাল বিদ্যমান থাকা।

যে প্রকার ব্যবসার মালের যাকাত ফরযঃ  ব্যবসায়ের পণ্য হয়ত এমন মাল হবে ,যার ওপর যাকাত ওয়াজিব যেমন- সায়েমা পশু, স্বর্ণ ও রুপা। অথবা এমন মাল হবে যার ওপর যাকাত ওয়াজিব হয় না। যেমন- কাপড়, গাধা কিংবা খচ্চব ইত্যাদি। তবে এতদুভয় প্রকার ব্যবসায়ের পণ্যের ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়। যদি এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন(৫২.৫) তোলা রৌপা অথবা সাড়ে সাত (৭.৫) তোলা স্বর্ণের মূল্যের সমপরমান হয়।

ব্যবসায়ের মালের যাকাত আদায় পদ্ধতিঃ ব্যবসায়ের মাল তথা মূলধন নেসাব পরিমান অর্থাৎ ৫২,৫ তোলা রুপা অথবা ৭.৫ তোলা স্বর্ণের সমান বা তদূধ্ব হলে তার চল্লিশ ভাগের একভাগ তথা শতকরা আড়াই (২.৫%) টাকা হারে যাকাত দিতে হবে। তবে পর্ণ্যের মূল্য কিসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে এ ব্যপারে হানাফী ইমামগণ মতবিরোধ করেছেন। যেমন-

ক) ইমাম আযম আবু হানীফা (রঃ) বলেন স্বর্ণ ও রুপার মধ্যে যার দাম ধরলে গরীবদের বেশি উপকার হবে, তা দ্বারাই মূল্য নির্ধারন করতে হবে। কেননা দরিদ্ররা দরিদ্রতা দুর করার জন্যই ইসলামে যাকাত ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।

খ) ইমাম আবু ইউসুফ (রঃ) এর মতে যে মুদ্রা দ্বারা মাল খরিদ করা হবে, তার ভিতিততে মূল্য নির্ধিারন করতে হবে। এবং সর্বাবস্থায় নগরের অধিক ও বহুল প্রচলিত মুদ্রা দ্বারা মূল্য নির্ধারন করতে হবে।

Leave a Comment