বীর্য সম্পর্কিত আলোচনা

বীর্য সম্পর্কিত আলোচনা-

ইমাম শাওকানী তার নাইলুল আওতার নামক গ্রন্থে বলেছেন, মযী হচ্ছে চটচটে সাদা অতি তরল পানি যা উত্তেজনায় এবং বিনা উত্তেজনায় বের হয় কিন্তু টপকে টপকে পড়ে না এবং এর পরে ক্লান্ত আসেনা। কখনো কখনো যে ব্যক্তির মযী হয়, বের হবার সময় সে তা টের পায় না।

আর যেটা ঘন গাঢ় বীর্য, সেটা মযীর তুলনায় অত্যন্ত বেশী আঠালো এবং ধবধবে সাদা যা স্ত্রী মিলনের শেষ মহূর্তে বের হয়। এটা বের হলে মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমে যায়। এর পরিমান এতোটা যে কাপড়ের খানিকটা ভিজে যায়।

মানুষ যখন তার মধ্যে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করতে আরম্ভ করে, যখন নিজের শরীরে আশ্চর্য এক আবেগ অনুভব করে, অর্থাৎ তের চৌদ্দ বছর বয়সে যখন কিশোরীরা ঋতুস্রাব বা বীর্যপাতের বয়স শুরু হয, পলক অনুভব করতে শুরু করে। তখন বিশেষ করে যুবক যুবতীদের মনে অনেক প্রশ্ন দেখা দেয়। তখন তাদের ভীষণ ইচ্ছে করে এ সম্পর্কিত অনেক তথ্য হুকুম আহকাম, নিয়ম পদ্ধতি বা মাসআলা জানার জন্য। লজ্জার কারণে খোলাখুলি কোন কথা জিজ্ঞেস করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে মহিলারা তারা তো লজ্জাশীলা।আল্লাহ পাকই তাদের এ রকম করে সৃষ্টি করেছেন। তার চেয়ে  খোলাখুলি  জানিয়ে দেয়াই ভাল।

আজ আমি ভাবছি একজন সাধারণ লোকেরও যৌন বিষয়ে একান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা দরকার। কারণ ইচ্ছা থাকলেও এসব বিষয়ে প্রশ্ন করে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভম হয় না। লজ্জার কারনে মনের প্রশ্ন মনেই চাপা থেকে যায়। বর্তমানে স্কুল কলেজে যৌন বিষয়ে সুশিক্ষা দেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। তাই আল্লাহ পাকের হক এবং সত্যকে প্রকাশ করতে লজ্জা বোধ করেন না। কারো কারো কাছে এটা একটু অন্য রকম লাগলেও এর প্রয়োজন আছে।



আমরা চাই না মানুষ অশিক্ষিত লোকদের কাছ থেকে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল শিক্ষা গ্রহণ করুক, আমি চাই না আমাদের সন্তানরা ত্রটিপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করুক। জীবণের এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যদি ভুল থেকে যায় তবে আজীবন পবিত্রতার অভাবে নামায,রোযা ইত্যাদি ইবাদত বন্দেগীতেও ভুল হয়ে যাবার সম্ভবনা আছে। আর ইবাদত বন্দেগী ত্রটিপূর্ণ হলে পরকালে নাজাত পাওয়ার কোনই সম্ভাবনা নেই। পুরুষের লিঙ্গ থেকে ধাতু বের হলো বা মেয়েদের ঋতুস্রাব (হায়েয) কিভাবে কি করতে হয়, এ ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারনা দূর করা আবশ্যক। ওরা এখানে জিজ্ঞাসা খুঁজবে না, আজে বাজে লোকের মুখে ভুল তথ্য জানবে না যে, এক ফোঁটা মযী বের হলেই গোসল করতে হয়। আবার কারো কারো ধারনা কৃত্রিম উপায়ে বীর্যপাত ঘটালে গোসল করার প্রয়োজন নেই ইত্যাদি।

অনেকে মনে করে স্বামী-স্ত্রী মিলনের পর তাদের পরিধানের কাপড়-বিছানা চাদর,বালিশের কভার ইত্যাদি নাপাক হয়ে গেছে। তাদের ধারনা সহবাসের কারণে যে বীর্য বের হয়েছে তা সম্পূর্নই নাপাক আর সহবাসের পর বিছানার চাদরে অথবা বালিশের কভার অথবা অন্য কোন কাপড় সামান্য একটু বীর্য লেগে গিয়েছে সন্দেহ সমস্তই কাপড়-চোপড় খুব ভালোভাবে ধুয়ে পরিস্কার করে ফেলে। কিন্তু তাদের এ ধৌত করাটা অনর্থক কষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ বীর্য বের হলে যে জায়গায় লাগে ঐ জায়গা ছাড়া আর কোন কিছুই ধৌত করতে হয় না।

উক্ত বিষয়টি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বণী সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment