বিদ‘আত ও তার পরিণাম কী?

বিদ‘আত ও তার পরিণাম কী?

বিদ‘আত অর্থ হলো নতুন সৃষ্টি। এর আভিধানিক অর্থে বিদ‘আত হলো- ঐ সকল নতুন সৃষ্টি যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত ছিল না। এবং আল্লাহর নৈকট্য হাছিলের উদ্দেশ্যে ধর্মের নামে নতুন কোন প্রথা চালু করা, যা শরী‘আতের কোন সহীহ হাদীসের উপরে কোনো ভিত্তি নেই। পারিভাষিক অর্থে সুন্নাতের বিপরীত বিষয়কে বিদ‘আত বলা হয়।

ব্যক্তি সমাজ, ধর্মীয় মাসআলা মাসায়েলের উপর বিদ’আতের কুপ্রভাব অত্যন্ত ভয়ানক। তবে বিদ’আতের স্তর রয়েছে । স্তরভেদে বিদ’আতের ক্ষতিকর কুপ্রভাবগুলো প্রযোজ্য । একটি কথা মনে রাখতে হবে ক্ষেত্র বিশেষে বিদ’আতকে যত ছোটই হোক তা রসূল (সাঃ)-এর শরী’আতের মাঝে প্রত্যেক নবাবিস্কারই বিদ’আত আর প্রত্যেক বিদ’আত ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। অতএব বিদ’আতের ভয়ানক ক্ষতিকর কুপ্রভাবগুলো আমাদের জানা দরকার। হযরত মা আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণীত তিনি বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের শরী‘আতে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই তা প্রত্যাখ্যাত। (মিশকাত হাঃ ১৪০)।

তিনি আরো বলেন তোমাদের উপরে পালনয় হলো আমার সুন্নাত ও আমার খুলাফয়ে রাশেদীনের সুন্নাত। তোমরা উহা কঠিন ভাবে আঁকড়ে ধর এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড় দিয়ে ধর। ধর্মের নামে নতুন সৃষ্টি হতে সাবধান! নিশ্চয়ই প্রত্যেক নতুনিআবিস্কারকই বিদ‘আত ও প্রত্যেক বিদ‘আতই গোমরাহী। নাসাঈ শরীফে অন্য সহীহ বর্ণনা এসেছে যে, প্রত্যেক গোমরাহী ব্যক্তি জাহান্নামী। (আবু দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হাঃ১৬৫, নাসাঈ হাঃ১৫৭৯) ঈদায়েন এর খুৎবা অধ্যায়। রসুল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করবে বা কোন নববিষ্কার কারীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের অভিশাপ তার ফরয ইবাদাত বা তাওবাহ নফল ইবাদাত বা ফিদইয়া কবুল করা হবে না। (বুখারী হাঃ ৩১৮০ কিতাবুল জিযিয়াহ)।



খোলাফয়ে রাশেদীনের সুন্নাত মূলত রসুল (সাঃ)-এরই  সুন্নাত। কারণ তাঁরা কখনোই রসুলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদনের বাইরে কোন কাজ করতেন না। যুগে যুগে বৈষয়িক প্রয়োজনে সৃষ্টি বিভিন্ন আবিস্কার সমূহ যেমন সাইকেল, ঘড়ি, চশমা, মটরগাড়ী, উড়োজাহাজ ইত্যাদি বস্তু সমূহ আভিধানিক অর্থে বিদ‘আত বা নতুন আবিস্কার হলেও শারঈ পরিভাষায় কখনোই বিদ‘আত নয়। তাই এগুলোকে গুনাহের বিষয় বলে গন্য করা অন্যায়। অনেকে এগুলোকে অজুহাত করে ধর্মের নামে সৃষ্টি মীলাদ, ক্বিয়াম, শবেবরাত, কুলখানি, চেহলাম ইত্যাদিকে শরী‘আতে বৈধ কিংবা বিদ‘আতে হাসানাহ বলে থাকেন, যেটা আরো অন্যায়। বরং বিদ‘আতকে দু‘ভাগে ভাগ করাই আরেকটি বিদ‘আত।

আলোচ্য প্রশ্ন উত্তরগুলি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন প্রশ্ন উত্তর পোষ্ট করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment