ফল ও ফসলের  যাকাত

ফল ও ফসলের  যাকাতঃ

ইমাম আবু হানীফা (র) বলেন যমিনে উৎপাদিত ফল ও ফসল কম হোক আর বেশী হোক এবং নদী কিংবা ঝরনার পানি দ্বারা তা উৎপন্ন হোক বা বৃষ্টির পানি দ্বারা উৎপন্ন হোক উভয় অবস্থাতেই উৎপাদিত ফসলের এক দশমাংশ যাকাত দেয়া ওয়াজিব।কিন্তু কাঠ বাশঁ ও ঘাসের ক্ষেত্রে এক দশমাংশ যাকাত নেই। ইমাম আবু উসুফ ও মুহাম্মাদ (র) বলেন ,উৎপাদিত ফসল পাঁচ আওসাকের কম হলে ওশর তথা যাকাত ওয়াজীব নয়। নবী করীম (সাঃ)-এর সা অনুযায়ী এক ওসক ষাট সা-এর সমান। ইমাম আবু ইউসুফ ও মহাম্ম (র) এর মতে, তরিতরকারির মধ্যে ওশর নেই এবং যেসব যমীন বালতি বা যন্ত্র কিংবা উট দবারা সেচ দেয়া হয় তাতে উপরিউক্ত বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে। (তাওযীহুল কুদরীঃ ১৯৮, ১৯৯)।

ইমাম আবু ইউসুফ (র) বলেন যেসব জিনিস ওসক হিসাবে ওজন করা হয় না, যেমন জাফরান, তুলা এর মূল্য যদি উক্ত বস্তুর নিকৃষ্ট জাতীয় জিনিসের পাঁচ ওসকের সমমূল্যের হয়, তবে তার এক দশমাংশ যাকাত দেয়া ওয়াজীব। ইমাম মুহাম্মাদ (র) বলেন ,যেসব বস্তুর সাথে তাদের তুলনা করা হয়। উৎপাদিত ফসল যদি ঐ জাতীয় উৎকৃষ্টতম বস্তুর পাঁচটির সমান হয় তবে এক দশমাংশ যাকাত ওয়াজিব হবে। অতঃএব তুলাতে পাঁচ গাইট এবং জাফরানে পাঁচ সের ধর্ত্যব্য হবে। আর ওশরী যমীনে উৎপাদিত মধুতে এক দশমাংশ যাকাত দিতে হবে, পরিমানে বেশি হোক বা কম হোক। ইমাম আবু উইসুফ (র) বলেন ,দশ মশকের কম পরিমান মধুতে যাকাত ফরয ওয়াজিব হবে না। ইমাম মুহাম্মদ (র) বলেন পাঁচ ফরকের কম পরিমান মধুতে যাকাত ওয়াজীব হয় না। ছত্রিশ ইরাকী রতলে এক ফরক হয়। খেরাজী জমিতে অর্থাৎ যেসব জমির খারিজ খাজনা দিতে হয় উক্ত জমির উৎপাদিত ফসলের ওশর দিতে হবে না।

পাঁচ ওসকের হিসাবঃ পাঁচ ওসকের কম হলে যাকাত  ওয়াজিব হবে না। প্রতি ওসকে ৬০সা, আর প্রতি সা সমান সাড়ে তিন সের (প্রায়)। কাজেই প্রতি ওসক সমপরিমাণ ৫মন ১০সের। সুতরাং ৫ ওসকে হবে ২৬ মন ১০সের। অপর এক বর্ণনায় ২৮ মণ ৩৬সের ৪ ছটাক হয়। (তাওযীহুল কুদরীঃ ১৯৮, ১৯৯)।

খারাজী জমির ওশরঃ খারাজী জমির উৎপাদিত ফসলে ওসর ওয়াজিব নয়। যে দেশ সন্ধীর মাধ্যমে বিজিত হওয়ার পর মালিকদের অধীনে রেখে দেয়া হয়, আর মালিকগণ স্বীয় ধর্মে থাকাকে মেনে নেয়, এরুপ যমীনকে খারাজী বলা হয়। এমনিভাবে যে দেশ যুদ্ধে বিজিত হওয়ার পর মুসলিম খলীফা যমীন তার মালিকের নিকট রেখে দেয়, ঐ যমীনকেও খারাজী বলা হয়।

ওশর ও খারাজী জমির পরিচয়ঃ যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই যে দেশ সন্ধির মা্যেমে বিজিত হয় এবং তার অধিবাসীগণও মুসলমান হয়ে যায়, অথবা বিজিত রাষে্‌ট্রর ভূমি মুসলিম যোদ্ধাদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হয়। এরুপ ভুমি চিরদিন ওশরী ভূমি বলে গন্য হয়। সন্ধি বা যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত গওয়ার পর রাষ্ট্র উক্ত ভুমি তার নাগরিকদের অধীনে রেখে দেয় এবং বিনিময়ে রাষ্ট্র তাদের থেকে খেরাজ আদায় করে এরুপ জমি হতে উৎপাদিত ফসলে ওশর ওয়াজিব হয় না। (তাওযীহুল কুদরীঃ ২০০)।

Leave a Comment