ফরয গোসলের বিবরণ

ফরয গোসলের বিবরণ

ফরয গোসল একটি আবশ্যক গোসল যা না করলে শরীর পাক-পবিত্র হয় না। এই জন্য হাদীস শরীফে ফরয গোসলের উপর এত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অতএব ফরয গোসল করার ক্ষেত্রে অত্যান্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। এপর্যায়ে হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে-

হযরত আলী (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রসুল (সাঃ) এর কাছে এসে বলল, আমি ফরয গোসল করেছি এবং ফজরের নামায আদায় করেছি, অতঃপর দেখি এক নখ পরিমাণ স্থানে পানি পৌঁছায়নি, আমার গোসল হয়েছে কি? রসুল (সাঃ) বললেন, তুমি যদি তখন ঐ জায়গায় তোমার ভিজা হাত দিয়ে ঘষে নিলেই হয়ে যেত। তবেই তোমার ফরয গোসল আদায় হত।(ইবনে মাজাহ)

উক্ত হাদীস থেকে পরিস্কার ভাবে প্রমাণিত হয় যে, ফরয গোসল এমনভাবে করতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশ শুক্ন না থাকে। এমনকি নখ পরিমান জায়গাও পানি না পৌঁছলে তার ফরয গোসল আদায় হবে না। তবে গোসল করার পর যদি কেউ শরীরের কোন স্থানে পানি পৌঁছেনি, তখন শুধুমাত্র ঐ জায়গাটুকু ধুলে অথবা ভিজা হাত দিয়ে ঘষে দিলেই চলবে। এর জন্য পুনঃ গোসল করতে হবে না।



হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন ,তিনি বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি জানাবাতের (ফরয) গোসলে এক চুল পরিমাণও ছেড়ে দিবে অর্থাৎ পানি পৌঁছাবে না (কিয়ামতের দিন) তার সাথে আগুনের শাস্তির ব্যবস্তা করা হবে। আলী (রাঃ) বলেন এ সময় থেকেই আমি আমার মাথার সাথে শত্রূতা পোষন করেছি। (আবু দাউদ,আহমাদ)

মাথার সাথে শত্রূতা পোষণ করেছি অর্থাৎ যদিও বাবরি রাখা সুন্নাত এবং রসুল (সাঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের অপর তিনজন হজ্জ ব্যতীত সব সময়ে বাবরি রেখেছেন। কিন্তু আলী (রাঃ) বাবরি থাকলে মাথার চামড়ায় পানি পৌঁছাতে অসুবিধা হবে মনে করে তিনি তা থেকে বিরত থাকেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রসুল (সাঃ) এর স্ত্রী মা মাইমূনা (রাঃ) বলেছেন রসুল (সাঃ)-এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। অতঃপর একটি কাপড় দ্বারা তাকে পর্দা করলাম। তিনি প্রথমে দু‘হাতে পানি নিয়ে (কবজি পর্যন্ত) ধৌত করলেন অতঃপর ডান হাত দ্বারা বাম হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং মুখমন্ডল তা দ্বারা লিঙ্গ ধুলেন। এরপর হাত মাটিতে ঘষে মুছলেন এবং পরে হাত ধুলেন (ওযুর জান্য)।অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং মুখমন্ডল ও হাত (কনুই পর্যন্ত) ধৌত করলেন। অতঃপর মাথার উপর পানি ঢাললেন এবং সমস্ত অঙ্গে পানি ছড়িয়ে দিলেন। এরপর তিনি (পূর্বস্থায় হতে) কিছু সরে গিয়ে দু‘পা ধৌত করলেন। তৎপর আমি পানি মুছে ফেলার জন্য তাঁকে কাপড় দিলাম কিন্তু তিনি তা না নিয়ে দু‘হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন। (বুখারী,মুসলিম)

উম্মুল মু‘মিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণীত, তিনি বলেন রসুল (সাঃ) যখন ফরয গোসল করতে ইচ্ছে করতেন তখন পানি পাত্রে হাত না ঢুকিয়ে আগে হাত দু‘টি ধুয়ে নিতেন। তারপর লজ্জাস্থান ধুতেন এবং নামাযের ন্যায় ওযূ করতেন। অতঃপর তাঁর মাথায় তিন অন্জলি পানি দিতেন। (তিরমিযী)



হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণীত তিনি বলেন রসুল (সাঃ) ফরয গোসলের সময় হেলাবের (হেলাব এমন পাত্র যাতে চার সেরের মত পানি ধরে) মত একটি পাত্র চেয়ে নিতেন। এরপর প্রথমে মাথার ডান দিক ও বাম দিকে পানি ঢালতেন। তারপর মাঝখানে দু‘হাত দিয়ে পানি ঢালতেন।

যে সব নাপাকী থেকে পাক হওয়ার জন্য ফরয গোসলের প্রয়োজন হয় সে গোসলে নামাযের ওযুর মত ওযু করতে হবে। তবে পা ধৌত করতে হবে না। প্রথমে মাথার ও ঘাড়ের ডান দিক ও পরে বাম দিকে পানি ঢালতে হবে। এর পর মাথার মাঝখানে পানি ঢালতে হবে। অতঃপর পুরা শরীরে পানি প্রবাহিত করতে হবে এবং পরে পা দুটি ধুয়ে ফেললেই তার ওযু ও গোসল পূর্ণভাবে আদায় হয়ে যাবে। গোসলের পরে নামাযের জন্য নতুন ভাবে আর ওযূ করার কোন প্রয়োজন নেই। সহীহ হাদীস থেকে একথাই প্রমাণীত হয়।এবং হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) ফরয গোসলের পর ওযু করতেন না।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment