পিতৃ পুরুষদের অন্ধ অনুসরণ

পিতৃ পুরুষদের অন্ধ অনুসরণ

মুসলমানদের অবশ্যই আল কুরআন এবং সহীহ হাদীস মোতাবেক চলতে হবে। আর এ দুটো বাদ দিয়ে বাপ-দাদা পিতৃকুল অলী ও পীর-দরবেশ এবং ফকির বা ধর্মীয় নেতা ও জননেতার ব্যক্তিগত মতামত দীনের ব্যাপারে মোটেই মানা চলবে না। দীনের ব্যাপারে একমাত্র হুকুমের মালিক হচ্ছেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা তথা মহান আল্লাহ। সৃষ্টি যে করতে পারে হুকুমের মালিক তো তারই সাজে। তাই মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন-

তোমরা তা মেনে চল যা তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবর্তীণ করা হয়েছে। আর ওটাকে (আল্লাহর বাণীকে) বাদ দিয়ে বিভিন্ন অলীদেরকে তোমারা মেনোনা। ( সুরা আর‘রাফ আয়াত নং ০৩)।

বাপ-দাদা বা পিতৃ পুরুষদের অন্ধ অনুসরণ আমরা কিভাবে করে থাকি। কুরআনুল কারীমের মধ্যে মহান আল্লাহ বিভিন্ন সূরায় বর্ণনা করেছেন। পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হল-

আর তাদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা তোমরা অনুসরণ করো, তারা বলে না আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে (ধর্মে) পেয়েছি তার অনুসরণ করব, যদিও তাদের পিতৃপুরুষগণ কিছুই বুঝতনা ও তারা সৎপতেও ছিল না। (সূরা বাকারা আয়াত নং ১৭০)।

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন  যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান এবং রসুলের দিকে এস ,তখন তারা বলে আমাদের জন্যে তাই যথেষ্ট যার ইপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞান না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয় তবুও কি তারা তাই করবে? ( সুরা মায়িদা আয়াত নং ১০৪)।

তারা যখন কোন মন্দ কাজ করে তখন বলে আমরা বাপ-দাদাকে এমনি করতে দেখেছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন। আল্লাহ মন্দ কাজের আদেশ দেন না। এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ করা যা তোমরা জান না। ( সুরা আরাফ আয়াত নং ২৮)।

যখন তিনি তাঁর পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বল্লেন এই মূর্তিগুলো কী? যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছো। তারা বল্ল আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে এদের পুজা করতে দেখেছি।  তিনি বললেন তোমরা প্রকাশ্য গোমরাহীতে আছ এবং তোমাদের কাছে সত্যসহ আগমন করেছ, না তুমি কৌতুক করছ? (সুরা আম্বিয়া আয়াত নং ৫২-৫৫)।

যখন (ইব্রাহীম আঃ) তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে বল্লেন তোমরা কিসের ইবাদত কর? তারা বল্ল আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি।

ইব্রাহিম (আঃ) বললেন তোমরা যখন আহব্বান কর তখন তারা শোনে কি? অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে? তারা বলল: না তবে আমরা আমাদের পিতৃপুষদের কে পেয়েছি তারা এরুপ করত। (সুরা আশ শুআরা আয়াত নং ৭০-৭৪)।

তাদেরকে যখন বলা হয় আল্লাহ যা নাযিল করেছন তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছি তারই অনুসরণ করব। শয়তান যদি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে দাওয়াত দেয় তবুও কি?  (সুরা লুকমান আয়াত নং ২১)।

সে বলত তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছ আমি যদি তদপেক্ষা উত্তম বিষয় নিয়ে তোমাদের কাছে এসে থাকি তবুও কি তোমরা তাই বলবে? তারা বলত তোমরা যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছ তা আমরা মানব না। ( সুরা যুখরুক আয়াত নং ২৪)।

এরপর আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরীয়তের উপর। অত এব আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞানদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না। ( সুরা জাসিয়াহ আয়াত নং ১৮)।

উপরোক্ত আয়াতগুলি হতে সুষ্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বাপ-দাদা বা পিতৃপুরুষ বা অন্য যে কোন প্রাচীণ প্রথা অনুযায়ী হোক না কেন এক্ষেত্রে আমরা একমাত্র কুরআন ও সুন্নাহর হুকুম মানব। কোন বিশ্বাস যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসে তার প্রতি মোহ চলে আসা স্বাভাবিক। কিন্তু তা রহিত করার আদেশ দিলে কোন প্রকৃত মুসলিম বা ঈমানদার জাতি সাথে সাথে না মেনে থাকতে পারে না। কিন্তু পরিপূর্ণ মানতে পারেনা। বা তৎক্ষনাৎ মানতে পারে না, সেই ব্যক্তি যার আল্লাহ ও রসুল (সাঃ-এর প্রতি ভালোবাসা কম বা  আদৌ ভালোবাসা নেই।

তোমরা আল্লাহর অহীর দিকে ও রসুল (সাঃ)-এর দিকে এসো এবং আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক, তখন তারা বলে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের রীতি-নীতির উপরই প্রতিষ্ঠত রয়েছে। এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ঠ। মানুষ কি বুঝেনা যে, তাদের পূর্ব পুরুষেরা বাতিল ও মিথ্যা  রীতি-নীতির উপর থাকতে পারে? তারাও হক ও সত্য থেকে দুরে ও হেদায়েত থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে? সুতরাং মানুষ কিভাবে পিতৃপুরুষদের অন্ধ অনুসরণ করতে পারে? এক মাত্র অজ্ঞ ও মূর্খ লোকেরাই এরুপ মন্তব্য করতে পারে।

যাহোক অনুকরণ প্রিয়া আত্নভোলা মুসলিম জাতিকে ভাবতে হবে সর্তকতার সাথে। আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে যারা আঁকড়ে ধরে চরম সফলতা অর্জন করেছেন সেই সাহাবায়ে কিরাম ও তার পরবর্তী যুগ হতে কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষকে জীবণ সাফল্যের সোপানে আরোহণ করার জন্যই তো জীবনের শেষ প্রান্তে মহানবী মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন, যতক্ষণ তোমরা এ দু‘টিকে আঁকড়ে ধরে থাকবে ততক্ষণ পশ্মিম কালেও পথভ্রষ্ট হবে না, তা হলো আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত!

আলোচ্য আয়াতের শিক্ষাঃ-

  • দীনের ব্যপারে হুকুম মানতে হবে একমাত্র আল্লাহর।
  • ইবাদতের ক্ষেত্রে রসুল (সাঃ)-এর অনুসরণ করতে হবে।
  • আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সাঃ) ছাড়া বাপ দাদা বা অন্যদের অনুসরণ বর্জণীয়।

কুরআনুল কারীমের উপরোক্ত বাণীগুলির শিক্ষা আমাদের দ্বীনের সকল ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন পূর্বক আমরা যেন ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ লাভ করি আল্লাহ আমাদের এ প্রচেষ্টা কবল করুন #আমিন!

Leave a Comment