নানার ভাইয়ের মেয়েকে বিবাহ করা যাবে কি?

নানার ভাইয়ের মেয়েকে বিবাহ করা যাবে কি?

নানার ভাইয়ের মেয়ে তথা মায়ের চাচার মেয়েকে বিবাহ করা যাবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে যাদেরকে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন ,নানার ভাইয়ের মেয়ে তাদের অন্তর্র্ভক্ত নয়। আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,,,

হে নবী আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো বোন, ফুফাতো বোন, মামাতো বোন, খালাতো বোনকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে (অর্থাৎ নবীর কাছে মোহরানা না চায়) নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয় (নবী হিসেবে) আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সুররা আহযাব আয়াত নং ৫০)

এই আয়াতে আল্লাহর রাসূল ও যেসব নারীর সঙ্গে বিবাহ হালাল তাদের প্রসঙ্গে দিক-নির্দেশনা এসেছে। এগুলোর মধ্যে আল্লাহর রাসূলের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত একটি ক্ষেত্র ছাড়া বাকি সবগুলো ক্ষেত্রে রাসূল ও অন্য মুমিনদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আত্মীয়দের মধ্যে চাচাতো, মামাতো, খালাতো ও ফুফাতো বোনকে এবং অনাত্মীয়দের মধ্যে যেকোনো মুমিন নারীকে বিয়ে করার অনুমতি ইসলামে রয়েছে। তবে বিয়ের অলঙ্ঘনীয় শর্ত হচ্ছে মোহরানা নির্ধারণ করতে হবে।

হযরত আদি ইবনে ছাবেত (রাঃ) থেকে বর্ণীত তিনি বলেন হযরত আবু কায়েস ইবনে আসলামা (রাঃ) ছিলেন আনসারদের মধ্যে সৎলোক। তাঁর মৃত্যু পর তারাই আপন সন্তান কায়েস তার সৎমাকে বিবাহ করার প্রস্তা দেয়। তখন তার সৎ মা বলল আমি তোমাকে সন্তানের মত মনে করি  অন্যদিকে তুমি সম্প্রদায়ের অন্যতম একজন সৎলোক। তোমার পক্ষে এ জাতীয় প্রস্তাব প্রদান করা শোভনীয় নয়। অতঃপর মহিলাটি  (রাঃ)-এর নিকট গমন করে, পূর্বে সব ঘটনা বললেন।রসুল (সাঃ) তাকে বাড়িতে গিয়ে অপেক্ষা করতে বললেন। ইত্যবসরে আলোচ্য আয়াতটি নাযিল করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,,,

তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু। (সুরা নিসা আয়াত নং ২৩)।

Leave a Comment