নব বধুর বাসর ঘর বা ফুলশয্যার রাত

নব বধুর বাসর ঘর বা ফুলশয্যার রাত

বিয়ের পিড়িতে পা দেবার পর থেকে বিয়ের সকল অনুষ্ঠান যখন শেষ হয়, তখন আশে বাসর ঘরে পদার্পনের পালা। যার জন্য বছরের পর বছর অধীক আগ্রহের অপেক্ষায় ছিল দু‘টি হৃদয়।স্বামী ও স্ত্রী সামাজিক প্রচলিত প্রথানুযায়ী একে অপরের মনে মনে জীবনের প্রথম ফূলশয্যার রাতটির আগমনের অপেক্ষায় অনেক স্বপ্নের প্রহর গুনে। অব্যক্ত আনন্দভরা মধুর রাতটির জন্য একটি কুমারি নারী ও একটি উম্মত্ত যৌবনা পুরুষ যৌবনেপদার্পণ করার পর অন্তেরে ভেবে আসছিল। যে মিলনের আশা আকাঙ্খায় দীর্ঘদিন ধরে তারা অপেক্ষামান ছিল। সেই মিলনের যাবতীয় আয়োজন আজ সমাপ্ত। তাই এ ফুলশয্যার রাতটি প্রথম যখন সামনে আসে, তখন তাদের অন্তরে এক পরম তৃপ্তির উদয় হয়।

সুতরাং মিলন রজনীটি একদিকে যেমন বহুদিনের কামনা বাসনা বাস্তব প্রাপ্তি আজকের এ রাত। তাই এটা একটি মহা আশা আকাঙ্খার ক্ষণ। মনে মনে ভাবে কি হয় কি হয়, কিভাবে চোখে চোখে দৃষ্টি বিনিময় হবে? কে কাকে প্রথমে স্পর্শ করবে, সে স্পর্শের মাঝে কত যে সুখ ইত্যাদি ইত্যাদি।

বিয়ের অনুষ্ঠানদি সম্পন্ন হবার পর কনে যখন বাসর ঘরে প্রবেশ করার উদ্যেগ নেবে, তখন তার হাত ধরে অথবা তার কপালের চূল ধরে দোয়া পড়বে,, আল্লাহুমমা ইন্নি আছআলুকা খইরুহা ওয়া খইরুমা জুবিলতাহা আলাইহা ওয়া আউযুবিকা মিন সাররিমা যুবিলতাহা আলাইহা। অর্থ হে আল্লাহ! তার মধ্যে যা কল্যাণকর, যা ভাল আমি তোমার কাছে তাই কামনা করি। আর তার মাঝে যা অকল্যাণকর যা মন্দ তা থেকে তোমার কাছে আমি পানাহ চাই।

এমন একটি দেনা পাওনার রাতে  স্বামীকে অধৈর্য হলে মোটেও চলবে না। তাকেও চাওয়া পাওয়ার মাঝে সমতা রক্ষা করতে হবে। স্বামীকে মধু মাখা আলাপ, মিষ্টি বাক্য আর আদরে আদরে ভরে তুলতে হবে নববধুর মন। সোহাগ মাখা বাক্যালাপে নববধুকে বোঝাতে হবে যে আজ মহাখুশি। প্রথম মিলনের আকাঙ্খায় কোন প্রকার জোর জবরতস্তি বা তাড়াহুড়া করবে না। হঠাৎ করে যৌবনের উম্মাদনায় যৌন লিপ্সা চরিতার্থ করতে গেলে, নববধুর তরফ হতে একটা প্রচন্ড বাধা আসা মোটেও অস্বাভাবিক ব্যপার নয়।



অতএব সুতরাং স্বামী বেচারাকে ধীর স্থিরভাবে শান্ত মেজাজে ও বিবেচনার সাথে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে স্ত্রীর সাথে আদর মাখা ব্যবহার করতে হবে। নচেৎ জীবনের প্রথম রজনীতেই স্ত্রীর অনিচ্ছা ও বাধাদানের চেষ্টাকে ভুল বুঝে স্বামীর পক্ষে একটা অনীহা ভাব তৈরী হতে পারে। আর এ অবস্থায় অনেকের বেলায় ঘটে থাকে। কেননা প্রথম রজনীতে স্ত্রীর পক্ষ হতে সবকিছু সমর্পণ করতে রাজী না হবার কারণে অনেক স্বামী তার স্ত্রীর সম্পর্কে ভুল ধারনা পোষণ করে থাকে। যা মোটেও ঠিক নয়। কেন এমন হবে, মিলনতো শুধু জৈবিক দেহের মিলন নয়, এটা দেহের সাথে মনের ও আত্মার মিলন বা দু‘টি প্রাণের একান্ত হওয়া।

বিশেষ কথা হলো এটা এক রজনীতেই পূর্ণ হয় না, এর জন্য অনেক সময় প্রয়োজন, প্রয়োজন পরম ধৈর্যের। ফুলশয্যার রজনী বিবাহিত জীবনের শুরু মাত্র। অনেক কিছুই তো পাওয়ার বাকী যা সারা জীবণ পেতেই থাকবো। এ রাতেই সব কিছু শেষ হয়ে গেলে সামনে কি পাবে! আরো অনেক রজনী অপেক্ষায় আছে। সুতরাং ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করতে হবে। অতএব পরম আদর দিয়ে ধৈর্য্য ধরে স্ত্রীকে ফুলশয্যার প্রথম রজনীতে বিভিন্ন মধুমাখা কথা-বার্তা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ রাত অতিবাহিত করতে হবে। এর মাধ্যমেই স্বর্গীয় সুখ পাওয়া যাবে।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে উৎশাহ করে এবং সব সময় আলোর বণী সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment