নফল সিয়াম ও এর নিষিদ্ধকাল প্রসঙ্গ

নফল সিয়াম ও এর নিষিদ্ধকাল প্রসঙ্গঃ

হযরত আবু ক্বাতাদা আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণীত। তিনি বলেন রসুল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো- আরাফার দিনে রোযা সম্পর্কে , তিনি বললেন এর দ্বারা বিগত দিনের ও বাকি এক বছরের গুনাহ মোচন হয়। এরপর  জিজ্ঞাসা করা হলো আশুরার দিনের রোযা রাখা সম্পর্কে। তিনি বললেন বিগত দিনের এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়।এরপর জিজ্ঞেসা করা হলো- সোমবারের দিনে রোযা রাখা সম্পর্কে তিনি বললেন এটা সেদিন যেদিন আমি জন্মেছি এবং নবুয়ত লাভ করেছি আর আমার উপর কোরআন নাযিল হয়েছে। (মুসলিম হাঃ১১৬২)।

হযরত আবু আইয়ুব আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণীত । রসুল (সাঃ) বলেছেন,যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রেখেছে এর পর শাওয়াল মাসের ৬টি রোয়া পালন করল সে যেন পুরো একটি বছর রোয়া রাখল।(মুসলিম হাঃ১১৬৪) (তিরমিযি হাঃ৭৫৯) (আবু দাউদ হাঃ২৪৩৩) (ইবনে মাযাহ হাঃ১৭১৬)।

হযরত আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণীত। তিনি বলেন রসুল (সাঃ)  বলেছেন যে বান্দা আল্লাহর পথে একটি দিন রোযা রাখবে আল্লাহ এর বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দুরত্বে রাখবেন। (বুখারী হাঃ২৮৪০) (মুসলিম হাঃ১১৫৩) (তিননমিযি হাঃ১৬২৩) (নাসাঈ হাঃ২২৪৮)।

হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণীত। তিনি বলেন রসুল (সাঃ) এমন ভঅবে (নফল) রোযা  রাখতেন, আমরা বলতাম যে তিনি ইফতার করবেন না। আবার তিনি এমন ভাবে ইফতার করতেন এতে আমরা বলতাম তিনি সহসাই আর রোযা পালন করবেন না। আমরা এমন দেখিনি যে, রমযান ছাড়া কোন কেটি পুরো মাস তিনি রোযা পালন করেছেন। আর তাকেঁ আমরা শা‘বান মাসের ন্যায় অন্য কোনো মাসে  এত বেশি রোয়া রাখতেও দেখিনি। (বুখারী হাঃ১৯৬৯) (মুসলিম হাঃ১১৫৬/১১৫৭) (আবু দাউদ হাঃ২৪৩০/২৪৩৪) (নাসাঈ হাঃ২১৭৭)।

হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণীত।। তিনি বলেন রসুল (সাঃ) আমাদেরকে প্রতি মাসে তিন দিন:১৩,১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। (তিরমিযি হাঃ৭৬১) (ইবনে হিব্বানঃ৩৬৪৭,৩৬৪৮)।

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণীত। তিনি বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন স্বামীর উপস্থিতিতে স্বামীর অনুমতি বিহীন কোনো মহিলার পক্ষে রোযা রাখা জায়েয হবে না। আবু দাউদ এ কথা ও আছে রমযানরে রোযা বাদে। (বুখারী হাঃ৫১৯৫) (মুসলিম হাঃ১০২৬) (আবু দাউদ হাঃ১৬৮৭)।

হযরত আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণীত। রসুল (সাঃ) দুদিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন ও ঈদুল আযহার দিন।(বুখারী হাঃ১১৯৭,১৯৯৫) (মুসলিম হাঃ১৯২১/১১৩৮)।। তিরমিযি হাঃ৭৭২) (আহমাদ হাঃ২৭৯২০)

হযরত নুবায়শাতুল হুযালী (রাঃ) থেকে বর্ণীত তিনি বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন ,তাশরীকের দিনগুলো হলো- খাওয়া-দাওয়া করা ও পান করা এবং আল্লাহর তা‘আলার যিকর আযকারের দিন। (মুসলিম হাঃ১১৪১)।

হযরত আয়েশা (রাঃ) ও আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণীত। তাঁরা বলেছেন তাশরীকের দিনগুলোতে আমাদেরকে রোযার পালনের কোনো অবকাশ দেয়া হয়নি। কিন্তু (হজ্জে তামাত্ত ও হজ্জে কিরান আ্দায়কারীদের মধ্যে) যারা কুরবাণী পায়নী তারা ছাড়া। (বুখারী হাঃ১৯৯৮)।

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণীত। তিনি বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন, রাতগুলোর মধ্যে থেকে তোমরা শুধু জুমু‘আর রাতকে কিয়ামের (তাহাজ্জুদের) জন্য নিদির্ষ্ট করে নেবে না। আর দিনগুলোর মধ্যে শুধু জুমু‘আর দিনটিকে রোযা রাখার জন্য নির্ধারন করে নিবে না। কিন্তু তোমাদের কেউ রোযা রেখে আসছে সে তারিখটি যদি জুমু‘আর দিন পড়ে যায় তাহলে কোনো দোষ হবে না। (মুসলিম হাঃ১১৪৪)

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে ভর্ণীত । রসুল (সাঃ) বলেছেন শা‘বানের মাঝামাঝি (১৫ দিন গত) হলে তোমরা কোনো নফল রোয়া রাখবে না। (আবু দাউদ হাঃ২৩৩৭) (নাসাঈ হাঃ২/১৭২) (তিরমিযি হাঃ৭৩৮)।

হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণীত। রসুল (সাঃ) অধিকাংশ সময় শনি ও রাবিবারেই রোযা রাখতেন। আর তিনি বলতেন এ দুটি দিন মুশরিকদের (পৌত্তলিকদের) ঈদ (খুশীর) উদযাপনের দিন আমি তাদের বিপরিত করতে চাই।(নাসাঈ হাঃ২/১৪৬) (তিরমিযি হাঃ৭৪৪) (আবু দাউদ হাঃ২৪২১)।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণীত। তিনি বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি সব সময় লগাতার রোযা রাখে সেটা রোযা নয়। (বুখারী হাঃ১৯৭৭) (মুসলিম হাঃ১১৫৯) (নাসাঈ হাঃ২৩৭৭,২৩৯৭,২৩৯৯)।

মুসলিম শরীফে আবু কাতাদা থেকে বর্ণীত আছে তার রোযা ও ইফাত কোনোটিই গৃহীত হয় না। (মুসলিম হাঃ১১৬২) (তিরমিযি হাঃ৭৬৭) (আবু দাঊদ হাঃ২৪২৫) ( নাসাঈ হাঃ২৩৭৮)।

Leave a Comment