ধর্মীয় ভিত্তিক শবেবরাত-

ধর্মীয় ভিত্তিক শবেবরাত-

মানুষ যে এতো পয়সা ও সময় ব্যায় করে, এর অন্তর্নিহিত প্রেরণা নিশ্চয়ই কিছু আছে। মোটামুটি দু‘টি ধর্মীয় আক্বীদাই এর ভিত্তি হিসাবে কাজ করে থাকে। ঐ রাতে বান্দাহর গুনাহ মাফ হয়। আগামী এক বছরের জন্য ভালমন্দ তাক্বদীর নির্ধারিত হয় এবং এই রাতে কোরআন নাযিল হয়। ঐ রাতে রুহগুলি ছাড়া পেয়ে মর্ত্যে নেমে আসে। মোমবাতি আগরবাতি, পটকা-আতশবাজি হয়তো বা আত্মাগুলিকে সাদর অভ্যর্থনা জানাবার জন্য করা হয়। হালুয়া-রুটি সম্পর্কে বরা হয়ে থাকে যে, ঐ দিন আল্লাহর রসুল (সাঃ)-এর দাঁত মোবারক উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল। ব্যথার জন্য তিনি নরম খাদ্য হিসাবে হালুয়া-রুটি খেয়েছিলেন বিধায় আমাদেরও সেই ব্যথায় সমবেদনা প্রকাশ করার জন্য হালুয়া-রুটি খেতে হয়। অথচ উহুদের যুদ্ধ হয়েছিল ৩য় হিজরীর শাওয়াল মাসের ১১তারিখ শনিবার সকাল বেলা। (বায়হাক্বী,দালায়েলুন নবুঅত ৩য় খন্ড ২০১/২০২পৃষ্ঠা)। আর আমরা ব্যথা অনুভব করছিতার প্রায় দু‘মাস পূর্বে শা‘বানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্রে।

ঐ রাতে আমরা তো ইহা অবতীর্ণ করেছি এক মুবারক রজনীতে, আামরা তো সতর্ককারী, এই রজনীতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীককৃত হয়। হাফেয ইবিনে কাছীর স্বীয় তাফসীরে বলেন এখানে মুবারক রজনী অর্থ লায়লাতুল ক্বদর। যেমন  সুরায়ে ক্বদরে ১ম আয়াতে আল্লাহ  তা‘আলা বলেন, নিশ্চয়েই আমরা ইহা নাযিল করেছি ক্বদরের রাত্রিতে। আর সেটি হলো রমযান মাসে। আবার আল্লাহ তা‘আলা বলেন, রমযান মাসই হল সে মাস যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। (সুরা বাকারা আয়াত নং ১৮৫)।

এক্ষেত্রে ঐ রাত্রিকে মদ্য শাবান বা শবেবরাত বলে ইকরিমা প্রমুখ হতে যে কথা বলা হয়ে থাকে তা সঙ্গত কারণেই অগ্রহণ যোগ্য। এই রাতে এক শাবান হতে আরেক শাবান পর্যন্ত বান্দার রুযী বিয়ে-শাদী, জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি লিপিবদ্ধ হয় বলে যে হাদীস মসূহের বিরোধী হওয়ার কারণে অগ্রহণ যোগ্য। তিনি বলেন ক্বদর রজনীতেই লওহে মাহফূযে সংরক্ষিত ভাগ্যলিপি হতে পৃথক করে আগামী এক বছরের নির্দেশাবলী তথা মৃত্যু, রিযিক ও অন্যান্য ঘটনাবলী যা সংঘটিত হবে, সেগুলো লেখক ফেরেশতাগণের নিকট প্রদান করা হয়। এরুপ ভাবেই বর্ণীত হয়েছে হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর, মুজাহিদ, আবু মালিক, যাহহাক প্রমুখ সালাফে ছলেহীনের নিকট হতে। (তাফসির ইবনে কাছির ৪র্থ খন্ড ১৪৮পৃঃ)।

তাক্বদীর সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে অসংখ আয়াত রয়েছে যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা যা কিছু করেছে, সবই আমলনামায় লিপিবদ্ধ আছে। ছোট ও বড় সবই লিপিবদ্ধ আছে। মুত্তাক্বীরা থাকবে জান্নাতে ও নির্ঝরিণীতে। (সুরা ক্বমার আয়াত নং ৫২,৫৩,৫৪)। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) বলেছেন, আসমান ও যমিন সৃষ্টির পঞ্চম হাজার বছর পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় বান্দাদের তাক্বদীর লিখে রেখেছেন। (মুসলিম, মিশকাত হাঃ ৭৯)। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে রসুল (সাঃ) বলেন তোমার ভাগ্যে যা আছে তা ঘটবে, এবিষয়ে কলম শুকিয়ে গেছে, পুনরায় তাক্বতীর লখতে হবে না। (বুখারী, মিশকাত হাঃ ৮৮; মিশকাত দিল্লী ১৩৫০হিঃ, ২০পৃঃ।



এখানে শবেবরাতে প্রতি বছর ভাগ্য লিপিবদ্ধ হয় বলে যে ধরনা প্রচলিত আছে, তার কোন সহীহ ভিত্তি নেই। বরং লায়লাতুল বারাআত বা ভাগ্যরজনী নামটিই সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইসলামী শরী‘আতে এই নামের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

এরপর বাকি রইল এই রাতে গুনাহ মাফ হওয়ার বিষয়। সেজন্য দিনে সিয়াম পালন ও রাতে ইবাদত করতে হয়। অন্তত ১০০রাক‘আত সালাত আদায় করতে হয়। প্রতি রাক‘আতে সুরায়ে ফাতিহা ও ১০বার করে সুরায়ে ইখলাস তথা ক্বুল হযওয়াল্লাহু আহাদ পড়তে হয়। এই সালাতটি গোমল করে আদায় করলে গোসলের প্রতি ফোটা পানিতে ৭০০ রাক‘আত নফল সালাতের সওয়াব পাওয়া যায় ইত্যাদি। যার সহীহ হাদীসের কোনো প্রমান নেই।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment