দুই ঈদে ও জুমু‘আর দিনে পীরের প্রশংসা করে খুৎবা শুরু করা যাবে কী?

দুই ঈদে ও জুমু‘আর দিনে পীরের প্রশংসা করে খুৎবা শুরু করা যাবে কী?

আপনার এলাকায় পীরের প্রভাব বেশী যার কারনে ঈদ ও জুমু‘আর দিনে তাদের সম্পর্কে প্রশংসা মূলক বাক্য বলে খুৎবা শুরু করতে হয় এবং তারা পীরের পায়ে সিজদা করে মসজিদ বাদ দিয়ে পীরের আস্থানায় আযান দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, এমন সময় আপনি কি করবেন?এবং এদের পিছনে নামায হবে কী?

এ জাতীয় কর্মকান্ডে অভস্যস্ত ব্যক্তিরা শির্কে জড়িত। কেননা সাধারনভাবে কোনো ব্যক্তির গুণ বা সৌন্দর্যের মুগ্ধ হয়ে তার প্রশংসা করা যায় না যাতে তার ব্যক্তিত্বের অসাধারনভাবে বড় করে তোলা হয় এবং সে আল্লাহর সমকক্ষতার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। মূলত এইরুপ প্রশংসাই মানুষকে তাদের পুজার কঠিন পাপে নিমজ্জিত করে। সে জন্য রসুল (সাঃ) প্রত্যেক ঈমানদার লোককে বলেছেন যখন অধিক প্রশংসাকারীদেরকে দেখবে তখন তাদের মুখের ‍উপর ধুলি নিক্ষেপ করো। (মুসলিম হাঃ৩০০২)সহীহ।

এবং তোমরা ইবাদত (সিজদা) করো (তাঁরই) আল্লাহরই জন্যে অতএব তোমরা সিজদা করো তাই, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদায় পতিত হও আর তাঁর বন্দেগী কর। দ্বিতীয় সিজদা হবে আল্লাহর জন্য। ( সুরা আন নাজম আয়াত নং৬২)। অন্য কাউকে  সিজদা করা বৈধ নয় বরং তা স্পষ্ট শির্ক কারন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো লোকের প্রতি সিজদা করার কোনো সুযোগ নেই। (তিরমিযী হাঃ১১৫৯, ইবনু মাজাহ হাঃ১৮৫৩)।



তাই যারা শির্কের মতো এমন বড় পাপের কাজে লিপ্ত তাদের পিছনে নামায আদায় করা যাবে না। কারন এ ধরনের শির্কের সাথে জড়িত থাকলে ঈমাণ আমল ও ইসলাম কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। অবশ্যই তারা কুফরী করেছে, যারা বলেছে নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন মারইয়ামের পুত্র মাসীহ। আর মাসীহ বলেছে হে বনী ইসরাঈল তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদাত কর। নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে  তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।  (সুরা আল-মায়েদা আয়াত নং ৭২)।

আলোচ্য প্রশ্ন উত্তরগুলি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন প্রশ্ন উত্তর পোষ্ট করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment