তৈলাক্ত ত্বকের পরিচর্যা

 তৈলাক্ত ত্বকের পরিচর্যা

এই গরমে ত্বকের নানা সমস্যা তো হতেই পারে। আর যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের ভোগান্তি যেন আরও বেশি। ঘামের কারণে কমবেশি সবারই হয় অস্বস্তি, আবার গরমে তৈলাক্ত ত্বকে বাইরের ধুলা-ময়লা আটকে গিয়েও সমস্যা হতে পারে। ব্রণের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। আর মেক–আপের ব্যাপারেও থাকতে হয় সতর্ক। তৈলাক্ত ত্বকে প্রসাধনী ব্যবহার এবং এ ধরনের ত্বকের যত্ন প্রসঙ্গে পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা শাকিল। জেনে নিন তাঁর পরামর্শ—

ত্বক তৈলাক্ত হলে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়। আপনার ত্বক তৈলাক্ত ধরনের হওয়াতে সাধারণত ব্রণ (Acne) বা ব্যাকহেড (Blackhead) এসবের ‍উৎপাত আপনার ত্বকে দেখা যায়। আপনার ত্বকের দরকার নিবিড় পরিচর্যা ও সঠিক যত্ন। মনে রাখবেন আপনার শরীরের তৈলগ্রন্থি থেকে রাতেই বেশি পরিমাণ তেল নিঃসৃত হয়, সেজন্য সকাল বেলাতেই আপনার ত্বক পরিচর্যার কাজ শুরু করা উচিৎ। প্রতদিন ২বার সকালে ও সন্ধায় বা রাতে প্রথমেই ক্লিনজিং পদ্ধতি অনুসরণ করুন। ক্লিজিং করার ক্ষেত্রে গায়ে মাখা সাবান, প্রথম কুসুম কুসুম গরম পানি এবং পরে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে পারেন। এসবের বদলে তৈলাক্ত ত্বকে উপোযোগী যে কোনো নামী প্রস্তুতকারকের ক্লিনিজিং মিল্ক ব্যবহার করতে পারেন। ক্লিনজিং করার পর নরম তোয়ালে ব্যবহার করুন। এটাই উপযোগী।

ক্লিনজিং করার পর ফ্রেশনিং করুন। নামী উৎপাদকের আ্যাস্টিনজেন্ট লোশন বেছে নিয়ে ফ্রেশনিং করতে পারেন। এর বদলে প্রাকৃতিক উপাদানের যে কোনো একটি বেছে নিয়ে করতে পরেন। ফ্রেশনিং করার পর নরম তোয়ালে ব্যবহার করবেন। ক্লিনজিং করার পরই প্রতিদিন ২বার ফ্রেশনিং করবেন। ফ্রেশনিং শেষ হলে আরম্ব করুন ময়শ্চারাইজিং। ময়শ্চারাইজিং লোশন কম পরিমাণে ব্যবহার করবেন। অর্থাৎ লোশনের হালকা প্রলেব লাগাবেন মাত্র। ময়শ্চারাইজিং করবেন প্রতিদিন ১বার সকালে, ক্লিনাজং ও ফ্রেশনিং করার ঠিক পরে।



প্রতিদিন ১বার সন্ধায় বা রাতে ক্লিনজিং ও ফ্রেশনিং করার ঠিক পরেই করুন কন্ডিশনিং। আপনার ত্বক তৈলাক্ত, তাই মুখন্ডলে কোনো রকম ক্রিম ব্যবহার করবেন না। ক্রিমের বদলে অল্প পরিমাণে ময়শ্চারাইজিং লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করুন। কেবল গলায় ত্বকে হালকাভাবে ক্রিমের প্রলেব লাগাতে পারেন। এবং মুলতানি মাটি, চন্দনের গুঁড়া, কাগজিলেবুর রস এবং সর তোলা দুধ বা টকদই একত্রে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন ১০-১৫ মিনিট। এতে ত্বকের বাড়তি তেল ও ময়লা বেরিয়ে যাবে। তবে কাগজিলেবুর রস সরাসরি ব্যবহার না করে এটিকে গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে তারপর ব্যবহার করুন। আর চন্দনের পরিবর্তে চাইলে ভিজিয়ে রাখা মসুরের ডাল বেটে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ১বার বা সম্ভব হলে ২বার সাকালে গোসলের ঠিক একঘন্টা আগে স্টিমুলেটিং পদ্ধতি অনুসরন করুন। স্টিমুলেটিং করার আগেই সেরে নিন ক্লিনজিং ফ্রেশনিং ও ময়শ্চারাইজিং। নিজের পছন্দমতো বেছে তৈলাক্ত ত্বকের উপযুক্ত যে কোনো মাস্ক বা ফেসপ্যাক, যা আগে তৈরি করে রাখতে হবে। সপ্তাহে দু‘দিন স্টিমুলেটিং করলেন দু‘ দিনের জন্য আলাদা আলাদা মাস্ক বা ফেসপ্যাক বেছে নিয়ে ব্যবহার করবেন।

এক্সফোলিয়েটিং পদ্ধতি অনুসরন করুন সপ্তাহে একবার সকালে ক্লিনজিং করার পরে। গোসল করার সময় এটি করবেন। এছাড়া প্রাকৃতিক উপাদান হিসাবে মিহি খাবার লবণ ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো খুবই উপযোগী। তৈলাক্ত ত্বকের একটু বেশি যত্ন ও সঠিক পরিচর্যার প্রয়োজন। পরিচর্যার জন্যে যে ৬টি পদ্ধতির কথা বলা হলো তা যদি নিয়মিত অনুসরণ করেন তাহলে অল্পদিনের মধ্যেই অতিরিক্ত তেলা ভাবের বদলে ত্বক হয়ে উঠবে ঝরঝরে তাজা। এতে আপনারই চেহারাই যেনো বদলে যাবে।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment