জাহেলী যুগে কন্যা জন্মের পর পিতার প্রতিক্রিয়া

জাহেলী যুগে কন্যা জন্মের পর পিতার প্রতিক্রিয়া

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতু লাল্লাহ, আশা করছি মহান আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ্য আছেন। আলোর বাণী.কম ওয়েব সাইটের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আলহামদু লিল্লাহ আপনাদের দো‘আয় আমিও ভালো আছি। আজকে আপনাদের সামনে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো, জাহেলী যুগে কন্যা জন্মের পর পিতার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো, আশা বিষয়টি আপনাদেরকে ভালো লাগবে, আর ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ,,

ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে প্রধানত দুটি কারণে কন্যাসন্তানকে জীবিত অবস্থায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো। একটি কারণ হলো তারা মনে করত ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। ফলে কন্যাসন্তানকে আল্লাহর প্রতি সোপর্দ করাই শ্রেয়। দ্বিতীয় কারণ হলো, কন্যাদের ভরণ-পোষণের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে দরিদ্র হওয়ার আশঙ্কা, যুদ্ধে পরাজিত হলে শত্রূরা কন্যাদের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার ভয় ও বিয়ে দিলে জামাতার কাছে অপমানিত হওয়ার ভয়।

কন্যা সন্তান জন্মের সংবাদ শুনে পিতার অন্তরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতো কোরান মাজীদে তা নিম্নোক্ত ব্যক্ত হয়েছে। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তান জন্মের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে এক অসহয়নীয় মর্মজ্বালায় ভুগতে থাকে। তাকে যে কন্যা সনন্তান জন্মানোর সংবাদ দেয়া হয়েছে, তার লজ্জায় সে মানুষ থেকে মুখ লুকিয়ে ফেলে। সে চিন্তা করে হীনতা সত্বেও তাকে জীবন্ত রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে। (সুরা নাহল আয়াত নং ৫৮,৫৯)। পবিত্র কোরআনে অন্যত্র সংক্ষেপে এ বিষয়টির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি যে কন্যা সন্তার আরোপ করে তাদের কাউকে সেই কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দিলে তার মুখাবয়ব কালো হয়ে যায় এবং সে এক অসহ্য বেদনায় কাতর হয়ে পড়ে। (সুরা আয যুখরুফ আয়াত নং ১৭)।



জাহেলী চিন্তা-চেতনার অসারত্বের ‍উল্লেখ করে কোরআনেই বলা হয়েছে, একদিকে বর্বরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলে অভিহিত করতো, অর্থাৎ পবিত্র দেবী‘র কল্পনাও তারা মনে পোষণ করতো, আর অন্যদিকে তারা কন্যা সন্তানের পিতা হওয়ার গ্লানি সইতেও প্রস্তুত ছিল না। এই বৈপরীত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে কোরআনে ঘোষণা করেছেন। তোমাদের রব কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান নির্ধারিত করেছেন এবং তিনি নিজে ফেরেশতাদেরকে কন্যারুপে গ্রহণ কছেন? নিশ্চেই তোমরা অতি বড় ভয়ানক কথা বলছো। (সুরা বাণী ইসলঈল আয়াত নং ৪০)। আর সংবাদ আকারে এ কথাই এরুপ ভাষায়ও কোরআনে বর্ণনা করা হয়েছে, তারা নির্ধাণ করে আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান, অথচ তিনি পবিত্র মহিমান্বিত আর নিজেদের জন্য সিতর করে নিজেদের পছন্দসই বস্তু। (সুরা আন নাহল আয়াত নং ৫৭)।

মানবতার ধর্ম ইসলাম আরবে প্রচলিত কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দেওয়ার এ ঘৃণিত রীতি চিরতরে বন্ধ করে কন্যা সন্তানকে ছেলে সন্তানের মতো জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার দেয়। এমনকি কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মহান আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কোরআনের সূরা আত তাকভিরে ইরশাদ করেন, জীবন্ত প্রোথিত কন্যা সন্তানকে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে কোন অপরাধে তোমাকে হত্যা করা হয়েছিল। ইসলামপূর্ব যুগে নারীদের সব ধরনের শোষণ বঞ্চনা অবহেলা অবজ্ঞা এবং অত্যাচার-নির্যাতন থেকে পরিত্রাণ দিয়ে সম্মান মযাদা এবং গৌরবময় সামাজিক জীব হিসেবে জীবনযাপনের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইসলাম নারীদেরকে জীবনের প্রথম লগ্নে কারও কন্যা যৌবনে এসে কারও বধূ এবং জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে কারও মমতাময়ী মা হিসেবে যে সম্মান এবং মর্যাদার স্বর্ণশিখরে অধিষ্ঠিত করেছে তা পৃথিবীতে প্রচলিত অন্যসব ধর্মে সত্যিই বিরল।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণী.কম এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment