জাহেলিয়াত যুগে মানুষের সম্মান হানি

জাহেলিয়াত যুগে মানুষের সম্মান হানি

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আশা করছি মহান আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ্য আছেন। আলোর বাণী.কম ওয়েব সাইটের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আলহামদু লিল্লাহ আপনাদের দো‘আয় আমিও ভালো আছি। আজকে আপনাদের সামনে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো সম্মান হানি, আশা করি বিষয়টি আপনাদেরকে ভালো লাগবে, আর ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ,,

ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবরা নারীদের প্রতি বিষম বৈষম্য প্রদর্শন করত। তাদের তারা মানুষ হিসেবে গণ্য করতেও সংকোচ করত। তাদের উপর চলত অমানবিক নির্যাতন। কিন্তু ইসলাম এসে নারীদের প্রতি কি ধরণের সম্মান দেয়, তার একটি পর্যালোচনা এ নিবন্ধে তুলে ধরা হলো।

জাহেলিয়াতের যুগে স্বামীর তালাক অথবা মৃত্যুর পর তার পছন্দানুযায়ী অপর কোনো পুরুষের নিকট বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নারীদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। ফলে একজন নারী তালাকপ্রাপ্তা বা স্বামীহারা হলে তাকে অসহনীয় যন্ত্রণা ও সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হত এবং তাকে বাধ্য হয়ে অতি কষ্টে কালাতিপাত ও জীবন-যাপন করতে হত।

বর্বর জাহিলিয়াত যুগের মানুষের ওপর কোরআনের এই নির্দেশ প্রয়োগের প্রয়োজন পড়লোঃ আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন,, তোমাদের দাসীগণ স্বীয় সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন-লিস্পায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করো না। (সুরা নুর আয়াত নং ৩৩)। এ থেকে অনুমান করা চলে তাদের দৃষ্টিতে নারীত্বের মর্যাদা কতটুকু ছিলো। হাদীস সূত্রে জানা যায়, জাহেলিয়াত যুগে নারীদেরকে বন্ধকও রাখা হতো। মুহাম্মদ ইবনে মুসলিমা (রাঃ) বলেন আম যখন কা‘আবের নিটক গিয়ে শয্য ঋণদানের আবেদন করলাম তখন কা‘ব বল্ল,,তোমাদের ন্ত্রীলোকদের আমার নিকট বন্ধক রাখো। তারা বললেন আমরা কিভাবে আপনার নিকট আমাদের স্ত্রীলোকদের বন্ধক রাখতে পারি? অথচ আপনি হলেন আরবের সবচেয়ে সুন্দর ও সুশ্রী ব্যক্তি। (বুখারী)



উক্ত ঘটনা থেকেও অনুমতি হয় জাহেলী যুগের নারী সমাজ কতো নিগৃহীত ছিলো আর তাদের ইজ্জত-সম্মান কতো নিম্ন ভাবা হতো। বর্র্বর যুগের বিবাহ-প্রথা অবশ্যই ছিলো। কিন্তু তার ধরন কি ছিলো বলতে গেলে তার বেশীর ভাগই ছিলো ব্যভিচার। এতটুকু তো অবশ্যই বলা চলে যে নারীর ইজ্জত-সম্মান বলতে কিছুই ছিলো না।কিন্তু ইসলাম নারীদের এ দুর্ভোগের প্রতিকার করে তাদের লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার হাত থেকে উদ্ধার করেছে। ইসলাম তাদের পুনরায় নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ করে দেয়।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দেবে, অতঃপর তারা তাদের ইদ্দতে পৌঁছবে তখন তোমরা তাদেরকে বাধা দিয়ো না যে, তারা তাদের স্বামীদেরকে বিয়ে করবে যদি তারা পরস্পরে তাদের মধ্যে বিধি মোতাবেক সম্মত হয়। এটা উপদেশ তাকে দেওয়া হচ্ছে যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে। এটি তোমাদের জন্য অধিক শুদ্ধ ও অধিক পবিত্র। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। (সূরা আল-বাকারাহ আয়াত নং ২৩২)।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণী.কম এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment