জানাযা নামাজে সূরা ফাতিহা পড়তেই হবে কী?

জানাযা নামাজে সূরা ফাতিহা পড়তেই হবে কী?

জানাযা নামাযে সুরা ফাতিহা পড়া রসুল (সাঃ)-এর তরীকা আদর্শ,সুন্নাত। হযরত তালহা বিন আব্দিল্লাহ বিন আওফ বলেন, আমি ইবনে আব্বাসের পেছনে জানাযা নামায পড়লাম। তিনি জানাযা নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন। জানাযা শেষে বললেন: (আমি উঁচু আওয়াজে পড়লাম) যাতে লোকেরা জানতে পারে যে সূরা ফাতিহা পড়া সুন্নাত অর্থাৎ নবীর আদর্শ। (সহীহ বুখারী হাঃ১৩৩৫)। আর নবীর আদর্শ ও সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব। রসুল (সাঃ) বলেছেন তোমরা আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। তাছাড়া জানাযার নামাযও নামায। আর রসুল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়ল না তার নামায হয়নি। (সহীহ বুখারী হাঃ৭৫৬)।

হানাফী মাযহাবে জানাযা নামাজে সূরা ফাতিহা, সূরা পড়ার নিয়তে বৈধ নয় তবে ছানা ও দু‘আর নিয়তে পড়া জায়েয। সুরা ফাতিহা সূরা পড়ার নিয়তে অবৈধ হওয়ার পক্ষে তাদের কোনো নির্ভরযোগ্য দলীল নেই। বরং তারা এক্ষেত্রে ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর একটি আসার পেশ করে, যেখানে তিনি বলেছেন রসুল (সাঃ) আমাদের জন্য জানাযার নামায কোনো কিরাত নির্ধারন করেননি বরং বলেছেন, যখন ইমাম তাকবীর দিবে তখন তুমিও তাকবীর দিবে এবং ইচ্ছেমত উত্তম কথা নির্বাচন করবে। তবে হাদীসটি কোনো হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায় না। (সুবুলুস সালামঃ১/৪৮৭)।



জানাযা নামাযে কিরাত ও দু‘আ চুপি চুপি পড়বে। ইবনে কুদামাহ বলেন: এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে কোনো বিতর্ক নেই।(আল মুগনীঃ২/৩৬৩)। ইমাম আহমাদ বলেন: ইবনে আব্বাস উচ্চস্বরে সুরা ফাতিহা পড়েছিলেন তাদেরকে জানানোর জন্য। আর উচিৎ হলো যে দু‘আগুলো নবী (সাঃ) পড়তেন সেগুলো আরবীতে মুখস্ত করে জানাযা নামাজে পড়া। যদি না পারে তাহলে বাংলাতে দু‘আ করবে। (আল্লাহ ভালো জানেন)

আলোচ্য প্রশ্ন উত্তরগুলি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন প্রশ্ন উত্তর পোষ্ট করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment