চন্দ্র ও  সূর্যগ্রহণের সালাত কি ভাবে আদায় করতে  হবে?

চন্দ্র ও  সূর্যগ্রহণের সালাত কি ভাবে আদায় করতে  হবে?

সূর্যগ্রহণ দেখার বা উদযাপন করার কোনো বিষয় নয়। সূর্যগ্রহণের সুন্নাত আমল হচ্ছে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা দোয়া করা নামাজ পড়া এবং সাদাকা করা। রসুল (সাঃ) এসব আমলগুলোর মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ অতিবাহিত করেছেন।

আরবিতে সূর্যগ্রহণকে ‘কুসুফ’ বলা হয়। আর সূর্যগ্রহণের নামাজকে সালাতুল কুসুফ বলা হয়। দশম হিজরিতে যখন মদিনায় সূর্যগ্রহণ হয় তখন রসুল (সাঃ) ঘোষণা দিয়ে লোকদেরকে নামাজের জন্য সমবেত করেছিলেন। সম্ভবত সে সময় তিনি জীবনের সর্বাধিক দীর্ঘ নামাজের জামা‘আতের ইমামতি করেছিলেন।সূর্যগ্রহণ দেখার বা উদযাপন করার কোনো বিষয় নয়। সূর্যগ্রহণের সুন্নাত আমল হচ্ছে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, দোয়া করা, নামাজ পড়া এবং সাদকা করা। রসুল (সাঃ) এসব আমলগুলোর মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ অতিবাহিত করেছেন।

সূর্যগ্রহণ নিয়ে অনর্থক মাতামাতি, তা দেখতে যাওয়া কিংবা গল্প-গুজবে সময় ব্যয় না করে নামাজ ও প্রার্থনায় নিয়োজিত থাকা জরুরি। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সতর্ক করার জন্য আকাশ-মহাকাশে বিভিন্ন নির্দশন দিয়েছেন।সুরা বনি ইসরাঈলে আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন- অর্থাৎ আর আমি ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই নিদর্শনাবলি প্রেরণ করি। (সুরা বনি ইসরাঈল আয়াত নং৫৯)।

তাই সূর্যগ্রহণের সময় অনর্থক গল্প-গুজব হাসি-তামাশা ছেড়ে অন্তরে ভয় জাগ্রত রাখাই মুমিন মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। হাদিসেও তা প্রমাণিত। সে কারণেই আল্লাহর প্রকৃত বান্দারা সূর্যগ্রহণের সময় তার ভয়ে ভীত থাকেন। রসুল (সাঃ) রসুল (সাঃ) সূর্যগ্রহণের সময় নামাজ পড়তেন।



সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সালাত দুই  রাকআত।  যা দীর্ঘ কিরা‘আত রুকু  ও সিজদাহ সহকারে আদায় করতে হয়। তবে এ ছালাতের প্রত্যেক রাক‘আতে দুই বা ততোধিক রুকু ও দুইটি সিজদাহ রয়েছে। তথা দুই রাক‘আত সালাতে মোট রুকু হবে চারটি বা ছয়টি এবং সিজদাহ হবে চারটি। এ সালাতে জামা‘আতে আদায় করা সুন্নাত। মিশকাত হাঃ ১৪৮৫)।

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণীত, তিনি বলেন রসুল (সাঃ)-এর সময় একবার সূর্যগ্রহন হলো, তখন রসুল (সাঃ)  লোকদের নিয়ে সালাত  আদায় করলেন। তিনি  দীর্ঘ সময় ক্বিরাত  করেন অতঃপর দীর্ঘকক্ষণ রুকু করেন। অবশ্য তা প্রথম ক্বিয়ামের চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। আবার তিনি রুকু করেন এবং সে রুকুও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকুর চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল।  অতঃপর তিনি সিজদা করেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা করেন। অতঃপর তিনি প্রথম রাক‘আতে যা করেছিলেন তার অনুরুপ দ্বিতীয় রাক‘আতে করেন।  (বুখারী হাঃ ১০৪৪)। তবে  প্রতি রাক‘আতে ৮/১০ রুকুর হাদীসগুলো দুর্বল।

আলোচ্য প্রশ্ন উত্তরগুলি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন প্রশ্ন উত্তর পোষ্ট করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment