ক্বিয়ামতের মাঠে কুরবানীর পশুর লোম শিং ও খুর উপস্থিত হবে কী?

ক্বিয়ামতের মাঠে কুরবানীর পশুর লোম শিং ও খুর উপস্থিত হবে কী?

ইদুল আযহার আনন্দ ও উদ্দেশ্য হলো নিজের পশু জবেহ করে তা গরীব, আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিলিয়ে সৃষ্টির স্রষ্টাকে খুশি করা এবং তার নৈকট্য লাভ করা।

আল্লাহ কখনোই দেখেন না, কে কত লাখ টাকার পশু জবেহ করলো। বরং তিনি এই কুরবানি দ্বারা পরীক্ষা করেন যে, তার বান্দাদের মধ্যে কোন বান্দা একনিষ্ঠভাবে কুরবানি দিয়ে তার আদেশ পালন করছে। তাই তো বিচার দিনের স্বামী তার মহা গ্রন্থে বলেছেন, প্রভুর কাছে কুরবানির পশুর গোস্ত, রক্ত কোন কিছুই পৌঁছায় না, পৌঁছায় কেবল তোমাদের আত্মশুদ্ধি।এ বিষয়ে যে হাদীসটি বর্ণীত হয়েছে তা যঈফ, হাদিসটি হলো। (তিরমিযী হাঃ ১৪৯৩, মিশকাত হাঃ ১৪৭০, সিলসিলা যঈফা হাঃ ৫২৬)।

এ ছাড়া উক্ত হাদীস কোরআনের আয়াতের বিরোধী। কারন আল্লাহ তা‘আলা বলেন আল্লাহর নিকট কুরবানীর গোশত ও রক্ত পৌঁছে না। বরং তোমাদের তাক্বওয়া তাঁর নিকট পৌঁছে। আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোস্ত ও রক্ত বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি সে সবকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর তাকবীর পাঠ করতে পার, এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন, সুতরাং তুমি সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দাও। (সুরা হজ্জ আয়াত নং ৩৭)। হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণীত তিনি বলেন রসুল (সাঃ)কুরবানীর দিন মানুষের আমল সমূহের মধ্যে অন্য কোনো আমলই আল্লাহর নিকট কুরবানি অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় নয়।

অবশ্যই কিয়ামতের দিন কুরবানির পশু তার শিং লোম ও খুর নিয়ে উপস্থিত হবে। যে কুরবানি শুধু আল্লাহর জন্য করা হয়, নিশ্চয় সেই কুরবানির রক্ত জমিনে পতিত হওয়ার পূর্বেই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। অতএব তোমরা একনিষ্ঠতা ও আন্তরিক আগ্রহ নিয়ে কুরবানি আদায় কর।(তিরমিজি)  আল্লাহ তা’য়ালা এই কুরবানির মাধ্যমে আমাদের কে করোনার ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করুন। সুন্দর সজীবতার সাথে জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন, আমীন।

আলোচ্য প্রশ্ন উত্তরগুলি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন প্রশ্ন উত্তর পোষ্ট করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment