ক্বদর রাত্রি জাগরণ ও ফিতরের আলোচনাঃ

ক্বদর রাত্রি জাগরণ ও ফিতরের আলোচনাঃ

ক্বদরের রাত্রির জন্য বিশেষ কোন ছালাতের কথা হাদীসে বর্ণীত হয়নি। তাই অন্যান্য রাতের মতই ছালাত আদায় করবে। তবে ক্বদরের রাত্র্রিগুলোতে ছালাতকে বেশী বেশী কুরআন তেলাওয়াত ও তাসবীহ-তাহলীলের মাধ্যমে দীর্ঘ করবে। যেমন রসুল (সাঃ) তিন রাত করেছিলেন। (তিরময হাঃ৮০৬, মশকাত হাঃ১২৯৮)।এই রাতে বেশী বেশী ছালাত আদায়ের কোন সুযোগ নেই। কারণ রসুল (সাঃ) রমযান বা রমযানের বাইরে রাত্রিতে ১১ রাক‘আতের অধিক নফল ছালাত আদায় করতেন না।(বুখারী হাঃ২০১৩)।

শুধু ২৭-এর রাত্রে নয় বরং২১,২৩,২৫,২৭,ও ২৯ এই পাচঁ রাত্রিতেই ক্বদর তালাশ করা সুন্নত। (বুখারী হাঃ২০১৭,১/২৭০পৃঃ)। উল্লেখ্য যে, মুশলিমে বর্ণীত হাদীস ২৭রমযানের কথা এসেছে তা একজন ছাহাবীর দাবী ও বিশ্লেষণ।(মুসলিম হাঃ৭২৬,১১৬৯,১/৩৭০পৃঃ(মিশকাত হাঃ২০৮৮)।

তাই রসুল (সাঃ)-এর পক্ষ থেকে বর্ণীত একাধিক স্পষ্ট হাদীসের প্রতি আমল করাই কর্তব্য, যাতে কেবল বেজড় রাত্রির কথা এসেছে। রসুল (সাঃ) ক্বদর রাত্রিকে নির্দিষ্ট করতে চাইলেও আল্লাহ তাঁকে ভুলিয়ে দিয়েছেন। আর এর মধ্যেই কল্যান রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট রাত্রের প্রতি ঝোঁক থাকা অমল নয়। (বুখারী হাঃ২০২৩,১/২৭১পৃঃ) (মিশকাত হাঃ২০৯৫)।

ক্বদরের রাত্রির আলামত সম্পর্কে রসুল (সাঃ) বলেছেন পরের দিন সকালে সূর্য উঠবে কিন্তু কিরণের তেজ থাকবে না। (মুসলিম হাঃ৭২৬,১১৬৯) মিশকাত হাঃ২০৮৮)।

ক্বদরের দু‘আ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুববুন তুহিববুল ,আফওয়া ফা‘ফু আন্নি। অর্থ: হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল আপনি ক্ষমা পছন্দ করেন।সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুণ। (ইবনে মাযাহ হাঃ৩৮৫০) মিশকাত হাঃ২০৯১) (তিরমিযি হাঃ৩৫১৩)।

রমযানের শেষ দশকের রাত্রিগুলোতে বক্তব্য ও খানার আয়োজন করা জায়েয নয়।এই রাত্রিগুলোতে রসুল (সাঃ) এবং ছাহাবীগণ দীর্ঘ সময় ধরে ছালাত আদায় করতেন। তিনি শেষ দশকে ইবাদতের জন্য কঠোর পরি্রিম করতেন। বেশী বেশী কুরআন তেলাওয়াত করতেন দু‘আ করতেন।(বুখারী হাঃ২০২৪) (আবু দাউদ হাঃ১৩৭৫) (মিশকাত হাঃ১১৫পৃঃ হাঃ১৩০২/২০৯১) ইবনু মাযাহ হাঃ১৭৬৭)।

যাকাতুল ফিতরঃ

প্রত্যেকে মাথাপিছু একছা পরিমান খাদ্যবস্তু দ্বারা ফিতরা আদায় করবে। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন রসুল (সাঃ) ক্রীতদাস ও স্বাধীন পুরুষ ও নারী ছোট ও বড় সকলের উপর মাথাপিছু একছা খেজুর যব ইত্যাদি খাদ্যবস্তু দ্বারা ফিতরা দেয়াকে ফরয করেছেন এবং তা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই আমাদেরকে আদায় করার নির্দেশ দান করেছেন। (বুখারী হাঃ১৫০৩-৫,১/২০৪-২০৫পৃঃ) (মুসলিম হাঃ২৩২৯) (মিশকাত হাঃ১৮১৫,১৮১৬)। উল্লেখ্য যে একছা  বর্তমানের হিসাবে আড়াই কেজি চাউল সমান অথবা প্রমাণ সাইজ হাতের পূর্ণ চার অন্জলী চাউল।

টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে না। রসুল (সাঃ)-এর যুগে মুদ্রার প্রচলন থাকা সত্ত্বেও তিনি খাদ্যবস্তু দ্বারা ফিতরা আদায় করেছিলেন। ইমাম মালেক ও ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন টাকা দিয়ে ফিতরা দিলে ফিতরা আদায় হবে না। তাই খাদ্যবস্তু দ্বারা ফিতরা দেওয়াই সুন্নত।(বুখারী হাঃ১৫০৩,১/২০৪-২০৫পৃঃ) (মুসলিম হাঃ১৮১৫-১৮১৬) (ফাতাওয়া উছায়মীনঃ১৮/২৭৯পৃঃ)।

গম দ্বারা অর্ধ ছা ফিতরা দেয়ার যে হাদীস বর্ণীত হয়েছে তা যঈফ। মু‘আবিয়া (রাঃ) গমের অর্ধ ছা ফিতরা দেয়ার মত প্রকাশ করলে ছাহাবী আবু সাঈদ খুদরী অন্যান্য ছাহাবী মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর ইজতিহাদী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং রসুল (সাঃ)-এর নির্দেশ ও প্রথম যুগের আমলের উপরেই কায়েম থাকেন। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন গমের অর্ধ ছা‘ফিতরা দেয়া সংক্রান্ত মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর বক্তব্য গ্রহন করার মধ্যে ত্রূটি রয়েছে। কারণ এটি একজন ছাহাবীর আমল যার বিরোধিতা করেছেন আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)সহ অন্যান্য ছাহাবী, যারা রসুল (সাঃ) এর সাথে তার চেয়ে বেশী দিন অবস্থঅন করেছিলেন এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তারা বেশী জানতেন।তাই ইরাকী ছা অনুযায়ী গমের অর্ধ ছা‘ ফিতরা দেয়া যাবে না। (মুসলিম হাঃ২৩৩৪)ফাতহুল বারী ৪/৩৭৮পৃঃ)।

সাদাক্বাতুল  ফিতর বন্ঠনের খাত হিসাবে হাদীছে মিসকীন ও ফক্বীরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই মিসকীন ও ফকিরকে অগ্রধিকার দিতে হবে। (আবু দাউদ হাঃ১৬০৯,১/২২৭পৃঃ

যাকাত ফিতরা ওশর বা কুরবানির চামড়া অর্থ দ্বারা মসজিদের ইমাম ও মুওয়াযিনের বেতন দেওয়া যাবে না। কারণ এ মালে নির্দিষ্ট ব্যক্তির হক রয়েছে (সুরা তওবাঃ৬০)। ইমাম ও মুয়াযিন তাদের অন্তর্ভুক্ত নন। অবশ্যই তারা যদি ঐ ৮ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হন তাহলে পাবেন। (সুরা নিসাঃ ৬)।

 

 

Leave a Comment