কুরবানীর পশুর প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকী রয়েছে কী?

কুরবানীর পশুর প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকী রয়েছে কী?

আল্লাহ পাক কিছু মাস দিন ও রাত্রিকে অপরাপর থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন যাতে তা মুসলিমের আমল বৃদ্ধিতে সহযোগী হয়। তাঁর আনুগত্যে ও ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং কর্মঠ মনে নতুন কর্মোদ্যম পুনঃ পুনঃ জাগরিত হয়। অধিক সওয়াবের আশায় সেই কাজে মনের লোভ জেগে ওঠে এবং তার বড় অংশ হাসিলও করে থাকে বান্দা। যাতে মৃত্যু আসার পূর্বে যথা সময়ে তার প্রস্তুতি এবং পুনরুত্থানের জন্য যথেষ্ট পাথেয় সংগ্রহ করে নিতে পারে।

শরীয়তে নির্দিষ্ট ইবাদতের মৌসম এই জন্যই করা হয়েছে যাতে ঐ সময়ে ইবাদতে অধিক মনোযোগ ও প্রয়াস লাভ হয় এবং অন্যান্য সময়ে অসম্পূর্ণ অথবা স্বল্প ইবাদতের পরিপূর্ণতা ও আধিক্য অর্জন এবং তাওবাহ করার সুযোগ লাভ হয়।

কিন্ত কুরবানীর পশুর প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকী রয়েছে এটা ঠিক নয়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে কাত করে শুইয়ে দিল, তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, হে ইবরাহীম তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি। (সূরা সাফফাত আয়াত নং ১০৩-১০৫)।

কুরবানীর পশুর প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকী রয়েছে এ মর্মে হাদীসটি সহীহ নয় ! এ মর্মে হাদীসটি যঈফ (ইবনু মাজাহ হাঃ ৩১২৭, মিশকাত হাঃ ১৪৭৬)। এই সনদে আয়িযুল্লাহ নামে একজন দুর্বল ও নাফে আবু দাঊদ নামে একজন পরিত্যাজ্য রাবী রয়েছে (তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং ৭২৩০ ও ৩১৩৩)।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কুরবানীর বিধান রেখেছিলাম, যাতে তারা উক্ত পশু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে এ জন্য যে, তিনি চতুষ্পদ জন্তু থেকে তাদের জন্য রিযিক নির্ধারণ করেছেন। (সূরা হাজ্জ আয়াত নং৩৪)

আলোচ্য প্রশ্ন উত্তরগুলি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন প্রশ্ন উত্তর পোষ্ট করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment