কুরআন তেলাওয়াত ও সাদাক্বা

কুরআন তেলাওয়াত ও সাদাক্বাঃ

ইবনু আব্বাস  (রাঃ) হতে বর্ণীত। তিনি বলেন রসুল (সাঃ) অধিক দানশীল ছিলেন। রমযান মাসে তিনি আরও বেশী দান করতেন। কারণ জিবরীল (আঃ) রমযান  মাসের প্রত্যেক রাত্রে তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন। রসুল (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-আরে নিকট কুরআন পেশ করতেন। যখন জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি ঝড়ের ন্যায় অধিকহারে দান করতেন।(বুখারী হাঃ১৯০২,১ম খন্ড ২৫৫পৃঃ)।

রসুল (সাঃ) বলেন নিশ্চয় জিবরীল (আঃ) প্রত্যেক বছর এক বার কুরআন পেশ করতেন। আর এই বছর তিনি  দুইবার আমার কাছে কুরআন পেশ করেছেন। উক্ত হাদীসটি রমযানের বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে। (বুখারী হাঃ৬২৮৬)।

রমযানে কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব যে কত তা উক্ত আলোচনায় ফুটে উঠেছে। একদিকে কুরআন নাযিল হয়েছে রমযান মাসে ,অন্য দিকে রমযান মাসেই প্রতি বছর রসুল (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-এর কাছে কুরআন শুনাতেন। তাই রমযানে কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্বের অন্ত নেই।

উল্লেখ্য যে রমযান কিংবা অন্য যেকোন সময়ে মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন খতম করা জায়েয নয়। এটা বিদ‘আত প্রথা যা পরিত্যাগ করা অপরিহার্য। মৃত ব্যাক্তির জন্য জীবিতদের করণীয় হল দু‘আ করা সাদাক্বা করা ঋণ পরিশোধ করা,ক্বাযা সিয়াম থাকলে পূরণ করা বা ফিদইয়া দেয়া,সামর্থ্য থাকলে তার পক্ষ থেকে হজ্জ করা। তবে যে তার পক্ষ থেকে হজ্জ করবে তাকে আগে নিজের হজ্জ করতে হবে। অন্যথা বদলি হজ্জ হবে না। (বুখারী হাঃ২২৯৮) (মুসলিম হাঃ১৬৩১) (বুখারী হাঃ১৯৫২-১৯৫৩) (মুসলিম হাঃ১১৪৯) (নাসাঈ হাঃ২৬৩৩-২৬৩৪) (মিশকাত হাঃ১৬৫৫)।

ছিয়াম ভঙ্গের কারণঃ

১।ইচ্ছাকৃত ভাবে খানা-পিনা করা,বমি করা,সূর্যাস্তের পূর্বেই হায়েয নিফাস শুরু হওয়া। এমনটি হলে কেবল ক্বাযা ওয়াজিব হয়।

২।ইচ্ছাকৃত ভাবে স্ত্রী সহবাস করা। এতে ক্বাযা ও কাফ্ফারা দু‘টিই ওয়াজিব হবে। এক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই কাফ্ফারা স্বরুপ একটানা দু‘মাস ছিয়াম পালন করতে হবে অথবা ষাট জন মিসকীনকে খানা খাওয়াতে হবে।(বুখারী হাঃ১৯৩৬,১/২৫৯-২৬০পৃঃ,মিশকাত হাঃ২০০৪)

৩।অসুস্থতা ও সফরের কারণে ছিয়াম ভঙ্গ করা যায়।  আল্লাহ বলেন যে ব্যাক্তি অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে সে ছিয়াম ভঙ্গ করে সে অন্য দিনে তার ক্বাযা করে নিবে। (সুরা বাক্বারাহ=১৮৫, মুসলিম হাঃ১১২১)।

৪।গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী নারী নিজের বা শিশুর জীবণের আশংকা করলে ছিয়াম ভঙ্গ করবে। সক্ষম হলে পরে পূরণ কওের নিবে। অন্যথা ফিদইয়া দিবে।(আবু দাউদ হাঃ২৪০৮,১/৩২৭পৃঃ)।

৫। আল্লাহর পথে জিহাদে থাকার সময় শরীরে শক্তি বজায় রাখা কিংবা শক্তি বৃদ্ধির জন্য ছিয়াম ভঙ্গ করা। (মুসলিম হাঃ১১২০)।

উল্লেখ্য যে ভুল করে খেলে বা পান করলে অনিচ্ছায় বমি হলে দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হলে ছিয়াম নষ্ট হয় না।(বুখারী হাঃ১৯৩৩,১/২৫৯পৃঃ)। ছিয়াম অবস্থায় যেকোন সময় মিসওয়াক করা যায়। মিসওয়াক করা যাবে না মর্মে সমাজে যে কথা প্রচলিত আছে তা সঠিক নয়। বরং কাঁচা হোক কিংবা শুকনা হোক যেকোন ডাল অথবা পেস্টযুক্ত ব্রাশ দ্বারা ছিয়াম অবস্থায় মিসওয়াক করা যাবে।(বুখারী হাঃ১/২৫৯পৃঃ)

কোনো কিছুর আঘাতে শরীর থেকে রক্ত বের হলে বা কাউকে রক্ত দিলে এবং রক্ত পরীক্ষা করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না।(দারকুতনি হাঃ৭; বায়হাক্বী-সুনানুল কুবরা হাঃ৮০০৮৬)।

ছিয়াম অবস্থায় শ্বাসকষ্টের কারণে ইনহেইলার গ্রহণ করা যাবে। অনুরুপ ছিয়াম অবস্থায় ইনজেকশন এবং ইনশুলিনও নেওয়া যাবেভ। কারণ এগুলো খাদ্য নয়। (বুখারী হাঃ১৯৩৮,১/২৬০)।

ই‘তিকাফঃ

২০ রমযান মাগরিবের পর ই‘তিকাফের জন্য তৈরি করা জায়গায় প্রবেশ করবে। কারণ রসুল (সাঃ) রমযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন। আর শেষের দশক শুরু হয় ২০ রমযানের সূর্য ডুবার পর থেকে। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে মাগরিবের পর ই‘তিকাফ থেকে বের হবে। উল্লেখ্য যে হাদীস ২১ তারিখে ফজরের পর ই‘তিকাফের জায়গায় প্রবেশ করার কথা বলা হয়েছে। তার অর্থ হল- জনগণ থেকে সম্পূর্ণ একাকী হওয়া। (মুসলিম হাঃ১১৭২,১/৩৭১)।

ই‘তিকাফের জন্য জুম‘আ মসজিদ শর্ত। বাড়িতে ই‘তিকাফ করার শারঈ কোন বিধান নেই। মহিলারাও পর্দার মধ্যে থেকে মসজিদে ই‘তিকাফ করবে। (আবু দাউদ হাঃ২৪৭৩,১/৩৩৫)।রসুল (সাঃ)-এর স্ত্রীগণ মসজিদেই ই‘তিকাফ করতেন।(আবু দাউদ হাঃ২৪৭৬,১/৩৩৫)।

ই‘তিকাফ অবস্থায় মহিলারা ঋতুবতী হলে ই‘তিকাফ বাতিল হবে।তাই ই‘তিকাফ থেকে বের হয়ে যাবে।পবিত্র হওয়ার পর সময় থাকলে চাইলে আবার শুরু করতে পারে।(ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ১/৩৪৬পৃঃ)।

কোনো কোনো এলাকায় ই‘তিকাফকারী ব্যক্তিকে ঈদের দিন সকালে মুসল্লীরা স্বাগতম জানিয়ে মসজিদ থেকে বের করে মাঠে নিয়ে যায় ,এটা বিদ‘আত।বরং শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে মাগরিবের পর ই‘তিকাফ থেকে বের হয়ে আসবে।(ফাতাওয়া উছায়মীন ২০/১৭০পৃঃ)।

প্রচলিত আছে যে সমাজে কেউ ই‘তিকাফ না করলে সবাই পাপী হবে। এ কাথা ঠিক নয়। কারণ ই‘তিকাফ একটি সুন্নাত ইবাদত যা করলে ছওয়াব আছে না করলে গোনাহ নেই। এটাকে ফরযে কেফায়হ বলার কোন দলীল নেই। আসবে।(ফাতাওয়া উছায়মীন ২০/১২৬পৃঃ)।

Leave a Comment