কী কী কারণে মসজিদ স্থানন্তর করা যায়?

কী কী কারণে মসজিদ স্থানন্তর করা যায়?

যেসব কারণেন মসজিদ স্থানান্তর করা যায় সেসব কারণ গুলো নিম্নে দেওয়া হলো-

মসজিদে মুছল্লিদের জায়গা সংকুলান না হলে মসজিদ স্থান্তর করা যাবে।পার্শ্বে মসজিদ সম্প্রসারনের সুযোগ না থাকলে বা পার্শ্বের মসজিদে মসল্লিদের জায়গা না ধরলে। সমজিদে যাওয়ার মতো উপাযুক্ত রাস্তা না থাকলে। দাতার পক্ষ হতে মসজিদ ওয়াক্বফ করার বিষয়টি স্পষ্ট না হলে, মসজিদ বা মসজিদের আসবাব পত্র নিরাপদে না থাকলে। কোনো এলাকার সকল মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেলে। সাথে সাথে মসজিদের আসবাবপত্র বিক্রয় করে বিক্রয়লব্দ অর্থ নতুন মসজিদে ব্যয় করাও শরীআত সম্মত। মসজিদের মুতাওয়াল্লী বা কমিটি উক্ত মসজিদের স্থান বিক্রয় করে তার অর্থ দিয়ে অন্য স্থানে জমি ক্রয় করে অথবা কেউ দান করলে সেখঅনে নতুন মসজিদ নির্মাণ করতে পারেন। হযরত ওমর (রাঃ)-এর যুগে কূফার শাসক ছিলেন সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। একদা মসজিদ হতে বায়তুল মালের অথ চুরি হলে সে ঘটনা উমার (রাঃ) কে জানানো হয়, তখন তিনি মসজিদ স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন এবং মসজিদ স্থানান্ত করা হয়। পরে পরিত্যক্ত মসজিদের স্থানটি খেজুর বিক্রেতাদের স্থানে পরিণত হয়। (ইবনু তায়মিয়্যা ফাতাওয়াঃ ৩১/২১৬-২১৭)।

৩৮। হে ঈমানদার লোকেরা তোমাদের কি হয়েছে তোমাদেরকে যখন আল্লাহর পথে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তখন তোমরা যমিনের উপর বোঝায় নুয়ে পড়ছ? তোমরা কি পরকালের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে পছন্দ করে নিয়েছ? এই যদি হয়ে থাকে তা হলে তোমাদের জেনে রাখা উচিৎ যে দুনিয়ার জীবনের এসব সাজ-সরঞ্জাম পরকালে খুব সামান্যই বোধ হবে।

৩৯। তোমরা যদি যুদ্ধ যাত্রা না কর তাহলে তোমাদের পীড়া দায়ক শাস্তি দেয়া হবে এবং তোমাদের স্থলে অপর কোন লোক সমষ্টিকে (ভিন্ন আদর্শের কোন দলকে) প্রতিষ্ঠিত করা হবে তোমরা আল্লাহর কোন ক্ষতিই করতে পারবেনা। তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তির আধার।

৪০। তোমরা যদি তাকে (নবীকে) সাহায্য না কর তাহলে সেজন্য কোনই পরোয়া নেই। আল্লাহ সেই সময় তা সাহায্য করেছেন, যখন কাফেররা তাকে বহিষ্কার করে দিয়েছিল যখন সে মাত্র দু’জনের দ্বিতীয় ছিল। যখন তারা দুজন গুহায় অবস্থিত ছিল তখন সে তা সংগীকে বলেছিল চিন্তাভাবনা করোনা, আল্লাহ আমাদের সংগে রয়েছেন। তখন আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় গভীর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাকে সাহায্য করলেন এমন সব সৈন্যবাহিনী দিয়ে, যা তোমাদের দৃষ্টিগোচর হত না এবং কাফেদের কথাকে নিচু করে দিলেন। আর আল্লাহর কথা তো সর্বোচ্চই। আল্লাহ বড়ই শক্তিমান ও সুবিজ্ঞ বিবেচক।

৪১। তোমরা বের হয়ে পড় হালকাভাবে কিংবা ভারী-ভারাক্রান্ত হয়ে। আর জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল-সামান ও নিজেদের জান প্রাণ সংগে নিয়ে এ তোমাদের জন্য কল্যাণময় যদি তোমরা জান। (সুরা তওবা আয়াত নং ৩৮,৩৯,৪০,৪১)



উল্লেখ্য ওয়াক্কাফের সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না এবং কাউকে হেবা করাও যাবে না মর্মে বর্ণীত হাদীসটির ব্যাপারে কতিপয় আলেম বলে থাকেন যে, যেহেতু মসজিদের সম্পত্তি ওয়াক্বফকৃত তাই তাকে পরিবর্তন করা যাবে না। ইমাম ইবনু তায়মিয়্যা (রাঃ) এ কথার উত্তরে বলনে, ওয়াক্বফের সম্পত্তি বিক্রি করে তার চেয়ে উন্নতমানের সম্পত্তি ক্রয় করলে ওয়াক্বফকে নষ্ট করা হয় না বা পরিবর্তন করাও হয় না। যেমনটি উমার (রাঃ) করেছেন। তাছাড়া একটি ঘোড়া যা জিহাদের জন্য ওয়াক্বফ করা হয়েছে, সেটি বৃদ্বাবস্থায় বিক্রি করে তার চেয়ে উন্নতমানের ঘোড়া ক্রয় করে জিহাদের জন্য রেখে দেওয়াতে ওয়াক্বফের কোনো পরিবর্তন হয় না; বরং আরও ভালো হয়। (ইবনু তায়মিয়্যা মাজমূ ফাতাওয়া,৩১/২১৪)।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment