কাবিল তার সুন্দরি বোনকে বিবাহ করতে না পারায় হাবিলকে হত্যা করছিলো কী?

কাবিল তার সুন্দরি বোনকে বিবাহ করতে না পারায় হাবিলকে হত্যা করছিলো কী?

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আশা করছি মহান আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ্য আছেন। আলোর বাণী.কম ওয়েব সাইটের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আলহামদু লিল্লাহ আপনাদের দো‘আয় আমিও ভালো আছি। আজকে আপনাদের সামনে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো কাবিল তার সুন্দরি বোনকে বিবাহ করতে না পারায় হাবিলকে হত্যা করছিলো কী? আশা করি বিষয়টি আপনাদেরকে ভালো লাগবে, আর ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ!



আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রসূল (সাঃ) বলেছেন যখন কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হবে তখন তার পাপের একাংশ আদমের প্রথম সন্তানের উপর বর্তাবে। (বুখারী হাঃ ৬৮৬৭)।

তাই সমাজে প্রচলিত উক্ত ঘটনাটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং মিথ্যা ভিত্তিহীন। মূলত হাবীল-কাবিলের দন্দ্বটি ছিল কুরবানী কবুল হওয়া না হওয়ার নিয়ে। বোনকে বিবাহ করা নিয়ে নয়। এ মর্মে দু‘টি সহীহ হাদীস বর্ণনা পাওয়া যায়।

ক) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন মেষ পালক সন্তানটি সাদা শিং ওয়ালা প্রশস্ত চোখবিশিষ্ট একটি মেষ কুরবানী করেন। আর জমি চাষকারী সন্তানটি এক স্তপ খাদ্য কুরবানী করেন। আল্লাহ মেষটি কবুল করেন এবং তাকে জান্নাতে ৪০ বছর লালন পালন করেন। আর সেটি মেষ যা ইবরাহীম (আঃ) সন্তানের বিনিময়ে কুরবানী করেন। তাফসীরে ইবনে কাসীর (সুরা আল-মায়েদা আয়াত নং ২০-২৭)।

কুরআনুল করীম কোন কিচ্ছা-কাহিনী অথবা ইতিহাস গ্রন্থ নয় যে, তাতে কোন ঘটনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করা হবে। এত সত্ত্বেও অতীত ঘটনাবলী এবং বিগত জাতি সমূহের ইতিবৃত্তের মধ্যে অনেক শিক্ষা ও উপদেশ নিহিত রয়েছে। এগুলোই ইতিহাসের আসল প্রাণ। তন্মধ্যে অনেক অবস্থা ও ঘটনা এমনও রয়েছে যেগুলোর উপর শরীআতের বিভিন্ন বিধি-বিধান ভিত্তিশীল। এসব উপকারিতার পরিপ্রেক্ষিতে কুরআনুল কারীমের সামগ্রিক রীতি এই যে, স্থানে স্থানে বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করে, অধিকাংশ স্থানে পূর্ণ ঘটনা এক জায়গায় বর্ণনা করে না, বরং ঘটনার যে অংশের সাথে আলোচ্য বিষয়বস্তুর সম্পর্ক থাকে সে অংশটুকুই বর্ণনা করা হয়। আদম (আঃ) পুত্রদ্বয়ের কাহিনীটিও এই বিজ্ঞ রীতির ভিত্তিতে বর্ণনা করা হচ্ছে। এতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য অনেক শিক্ষা ও উপদেশ এবং প্রসঙ্গক্রমে শরীআতের অনেক বিধি-বিধানের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।



খ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন ,আদম (আঃ)-এর দু‘সন্তান কুরবানী করেছিলেন। তাদের একজনের কুরবানী কবুল হয়েছিল অপরজনের কুরবানী কবুল হয়নি। দু‘জনের একজন ছিল চাষি অপরজন ছিলো মেষ পালক। মেষপালক তার প্রিয় সুন্দর মোটাতাজা উত্তম মেষ কুরবানী করেছিল। অপরজন গমের চেয়ে ছোট খুব নিম্মমানের এক শ্রেণীর শস্য কুরবানী করেছিলেন। আল্লাহ মেষপালকের কুরবানী কবুল করেছিলেন। আর চাষীর কুরবানী কবুল করেননি।

আর আদমের দু’ছেলের কাহিনী আপনি তাদেরকে যথাযথভাবে শুনান। যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল অতঃপর একজন থেকে কবুল করা হল এবং অন্যজনের কবুল করা হল না। সে বলল, অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব। অন্যজন বলল, আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের পক্ষ হতে কবুল করেন।(সুরা আল-মায়েদা আয়াত নং ২৭)।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment