কাকে যাকাত দেয়া জায়েয এবং কাকে দেয়া জায়েয নয়

কাকে যাকাত দেয়া জায়েয এবং কাকে দেয়া জায়েয নয়?

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন ,যাকাত শুধুমাত্র ফকির, মিসকিন (যাকাত আদায়কারী কর্মচারীবৃন্দু এবং ইসলামের প্রতি অনুরাগী লোকদের  আকৃষ্ট করার জন্য ,দাসত্ব থেকে মুক্তি এবং ঋণগ্রস্থদের ঋণ পরিশধের জন্য যুদ্ধ সামগ্রীহীন ইসলামী যোদ্ধাদের অস্ত্র ক্রয়ের জন্য এবং নিঃস্ব মুসাফিরকে দিতে হবে) এ আট প্রকার ব্যক্তি যাকাতের মাল গ্রহণ করতে পারবে। এ আট প্রকার হতে যাদেরকে তাদের মন জয় করার জন্য দেয়া হতো তারা বাদ পড়বে। যেহুতু আল্লাহ তা‘আলা এখন ইসলামকে বিজয়ী এবং তাদের অমুখাপেক্ষী করেছেন। ফকির ঐ ব্যক্তি যার সামান্য সম্পদ রয়েছে, মিসকিন ঐ ব্যক্তি যার কিছুই নেই। যাকাত আদায়ের কর্মচারীকে ইসলামী রাষ্টপ্রধান তার কাজের পরিমাণ অনুযায়ী বেতন প্রদান করবেন। আর দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য  চুক্তিবদ্ধ দাসকে যাকাতের টাকা দেয়া যাবে না। ঋণী ব্যক্তি যার ঋণ আদায়ের সামর্থ্য নেই এবং আল্লাহর রাস্তায় যে জিহাদে যেতে  অক্ষম আর মুসাফির যার দেশে সম্পদ রয়েছে ,অথচ সে এমন স্থানে রয়েছে যেখানে তার কোনো কিছু নেই, এগুলোই হলো যাকাত ব্যয়ের ক্ষেত্রসমূহ।

নব মুসলিমকে যাকাত প্রদানের বিধানঃ  যেসব অন্তর ঈমানের প্রতি আকৃষ্ট করা হয়েছে। ঐসব কাফেরদেরকে বোঝায় যারা ইসলামের প্রথম যুগে যে কোনো উপায়ে মহানবী (সাঃ)-কে সাহায্য করত। আর মহানবী (সাঃ) তাদের প্রতি মনোতুষ্টির জন্য যাকাতের মাল প্রদান করতেন, অথবা ঐ সব নব মুসলিমদেরকে বোঝায় যাদেরকে ইসলামী আদের্শে স্থির থাকার জন্য যাকাতের মাল দেয়া হতো। তার পর যখন ইসলাম বিজয়ী শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠত হয়েছে এবং তাদের সাহায্যের অমুখোপেক্ষী হয়েছে, তখন তারা যাকাত প্রদানের খাত থেকে বাদ পড়ে।

ফকির ও মিসকিনের পরিচয়ঃ ফকির ও মিসকিনের সংজ্ঞায় ইমাম আবু হানিফা ও শাফেয়ী (রঃ)- এর মতপার্থক্য রয়েছে।ইমাম আবু হানীফা (রঃ)- এর মতে ফকির সেই ব্যক্তি যার সামান্য পরিমাণ সম্পদ আছে। আর  মিসকিন হলো যার কিছুই নেই।ইমাম শাফেয়ী (রঃ)-এর মতে যার সামান্য কিছু সম্পদ রয়েছে সে মিসকিন, আর যার কিছুই  নেই সে ফকির।

যাকাত আদায় কারীর বেতন ভাতার বিধানঃ যাকাত ওশর ইত্যদি আদায় করার জন্য মুসলিম শাসক ইসলামী রাষ্ট্রে যে কর্মচারী নিয়োগ করে থাকেন, তাদেরকে যাকাত ও ওশরের তহবিল থেকে বেতন ভাতা প্রদান করা যাবে। আর কর্মচারীদের জন্য তা যাকাত হিসাবে গ্রহণ করার হুকুম হিসাবে বিবেচিত হবে না। কারণ তারা তা নিজেদের জন্য শ্রমের বিনিময়ে বেতন হিসাবে গ্রহণ করেছে যাকাত হিসাবে নয়।



গোলাম আযাদকরনের যাকাত ব্যয়ের বিধানঃ গোলাম আযাদ করার দ্বারা এমন গোলামকে বোঝায় যাকে  যাকে মুনিব নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে আযাদ করে দেয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এরুপ গোলামকে মুকাতাব বলা হয়। এ শ্যেণীর গোলামকে যাকাত দেয়া জায়েয। কোনো ব্যক্তি যদি এমন ঋণী হয়ে পড়ে, যা আদায় করার কোনো ক্ষমতা তার নেই, তাহলে তাকে যাকাত গ্রহণ করা জায়েয। তাছাড়া ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির নিকট যদি ঋণের পরিমাণ অর্থ বাদ দিলে নেসাব পরিমান মাল না থাকে, তাহলে তাকে যাকাত দেয়া যাবে। আর যদি ঋণ পরিশোধ করার পরও নেসাব পরিমাণ মাল থাকে তাহলে যাকাত দেয়া যাবে না।

যাদেরকে যাকাতের মাল প্রদান করা নিষেধঃ  শরীয় নীতিমালায় নিম্নক্ত ১০টি খাতে যাকাতের মাল প্রদান করা নিষিদ্ধ। যথা-

১) যিম্মীকে। যেহেতু এটা মুসলিম দরিদ্রদের হক। রসুল (সাঃ) বলেছেন হে মুয়ায! ধনীদের থেকে যাকাতের মাল গ্রহণ করে দরিদ্রদের কাছে পৌঁছিয়ে দেবে।

২) মসজিদ নির্মান মসজিদ মহান আল্লাহর সর্বোত্তম ঘর। আর যাকাত গরিবদের হক। যাকাতের অর্থ মসজিদে প্রদান করলে গরিবরা দূর্ভগে পড়বে।

৩) যাকাতের মাল দ্বারা গোলাম খরীদ করা। এতে যাকাতের মামলের কোনো মালিকানা সাব্যস্ত হয় না।

৪) কাফনের কাপড় ক্রয় করা। কেননা এতে মাইয়েতের মর্যাদাহানি ঘটে।

৫) ধনী লোককে যাকাত দেয়া যাবে না।

৬) পিতা, দাদা এভাবে যত ঊর্ধ্বে যাক না কেন, ছেলে নাতী এভাবে যত নিম্নে যাক না কেন এবং স্বীয় মাতা ও দাদা-নানী ইত্যদি ঊর্ধ্বস্তরে যতই হোক, তাদেরকে যাকাত দেয়া যাবে না। কেননা এ সকল অবস্থায় মালিকানা পাওয়া যায় না। মূলত এতে নিজের কাছেই মাল রাখা বোঝায়।

৭) ইমাম আবু হানীফা (রঃ)- এর মতে  স্ত্রী স্বামীকে যাকাত দিতে পারবে না। তবে সাহেবাইনের মতে এটচা বৈধ।

৮) নিজস্ব মুকতাব গোলাম এবং ধনী ব্যক্তির গোলামকে যাকাত দেয়া যাবে না।

৯) যাকাতের মাল এক শহর হতে অন্য  শহরে স্থানান্তর করা মাকরুহ। তবে অন্য শহরে নজের ঘনিষ্ট লোক থাকলে বা ঐ শহরে বেশি অভাব হলে তথায় স্থানান্তুর করা জায়েয।

১০) হাশেমী বংশের লোক ও তাদের গোলামকে যাকাত দেয়া যাবে না।

হে আল্লাহ আমাদের  উক্ত বিষয়ের উপর আমল করার জন্য বিশেষ জ্ঞান দান করুন, এবং যাকাত আদায় ও  যাদেরকে দেওয়া যাবে এবং যাদেরকে দেওয়া যাবে না সি বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন করার তৌফিক দিন আমিন।

Leave a Comment