কন্যা সন্তাকে জীবন্ত হত্যা

কন্যা সন্তাকে জীবন্ত হত্যা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আশা করছি মহান আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ্য আছেন। আলোর বাণী.কম ওয়েব সাইটের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আলহামদু লিল্লাহ আপনাদের দো‘আয় আমিও ভালো আছি। আজকে আপনাদের সামনে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো কন্যা সন্তাকে জীবন্ত হত্যা, আশা বিষয়টি আপনাদেরকে ভালো লাগবে, আর ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ,,

কন্যা সন্তান মানেই অলুক্ষণে  অপমানের বস্তু ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষিত। ইসলামপূর্ব যুগের অবস্থা ছিল এমন। কন্যা সন্তান জন্মদান ছিল আজন্ম পাপ। সমাজ সংসারে তাদের ছিল না কোনো অবস্থান। কন্যা সন্তানকে অপমাণের বিষয় মনে করেই বাবা কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। পাথর নিক্ষেপে মেরে ফেলত। ইসলাম দিয়েছে কন্যা সন্তানের বেঁচে থাকার অধিকার। দিয়েছে সৃষ্টির সর্বোত্তম মর্যাদার আসন। জাগো নিউজে কন্যা সন্তানের অধিকারের কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো,,,,

আইয়ামে জাহিলিয়াতের ইতিহাস খুললে দেখা যায় নারীরা সমাজে অবহেলিত ছিল। সেই সময় নারীদেরকে জিন্দা কবর দেওয়া হতো। সাহাবী দাহিয়াতুল কালবী নিজ হাতে নিজের মেয়েকে জিন্দা কবর দিয়েছেন। বড় ভয়ানক অনুভূতি ছিলো বর্বর যুগের অসহায় মেয়েদের সম্পর্কে। কাজেই জাহেলী যুগের অধিকাংশ লোক যদি এই হীনতা থেকে বাঁচার জন্য তাদের কন্যা সন্তানদের জীবন্ত মেরে ফেলে থাকে তাতে আশ্চর্যের কিছুই নেই। এই নির্দয়তার প্রতি ইঙ্গিত করেই কোরআনে ঘোষনা হয়েছে,, যখন জীবন্ত কবরস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? (সুরা তাকভীর আয়াত নং ৮-৯)।



সামাজিক অপমান ও গ্লানি ছাড়া পবিত্র কোরআন থেকেই এত্ত জানা যায় যে, অর্থসংকটের ভ্রান্ত ধারনা তাদেরকে সন্তান হত্যার মত জঘন্য অপরাধে উদ্ভদ্ব করেছিলো। সেই দিকে ইঙ্গিত করেই পবিত্র কোরআনে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন আর দারিদ্রের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, আমিই তোমাদেরকে ও তাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি। (সুরা আল আন-আম আয়াত নং ১৫১)। অন্যত্র মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন তোমাদের সন্তানদেরকে দারিদ্যর ভয়ে হত্যা কর না। তাদেরকে ও তোমাদেরকে আমিই রিযিক দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই সন্তানের হত্যা মহাপাপ। (সুরা বণী ইসরঈল আয়াত নং ৩১)।

এ স্বভাব বিরোধী কার্যকলাপের দরুন জাহেলী যুগে নারীর সংখ্যা হ্রাস পেতে পেতে শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল, যে অবস্থা সৃষ্টি করেছে কন্যা হত্যার এই নৃশংস রীতি ভারতবর্ষের কোনো কোনো জাতির মধ্যে। অর্থাৎ তাদেরকে একজন নারীর জন্য বিপুল পরিমান অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। আর এভাবেই ননারীর অস্তিত্ব তাদের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যেমনিভাবে আরব জাহেলিয়াতের কোন কোন বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, স্ত্রীকে তারা পরম শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখতো। অবশ্য তার অর্থ ছিল এই যে, একজন স্ত্রী লাভ করার জন্য তাদের বিপুল অর্থ-সম্পদ খরচ করতে হতো। ইসলাম মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে, সমাজ-সংসারে তাদের সম্মানিত করেছে। ইসলাম সব সময় নারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার নির্দেশনা দিয়েছে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। (সুরা নিসা আয়াত নং ১৯)।  আল্লাহ তা‘আলা বলেন,যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে সবই আল্লাহর । তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন যাকে ইচ্ছা আযাব দান করবেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুণাময়। ( আল ইমরান আয়াত নং ১২৯)।

আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন। আপনাদের এই সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা করতে মোটিভেট করে এবং সব সময় আলোর বাণীর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment