ঈদের তাকবীর দেয়ার বিবরণ

ঈদের তাকবীর দেয়ার বিবরণঃ

সালাতুল ঈদায়েনে তাকবীরে তাহরীমার পর ক্বিরাআতের পূর্বে প্রথম রাক‘আসে সাত ,দ্বিতীয় রাক‘আতে পাঁচ মোট ১২ তাকবীর দেওয়া সুন্নাত। (আবু দাউদ হাঃ১১৫১ ও ১১৫২,, ১/১৬৩পৃঃ) (ইবনে মাযাহ হাঃ১২৬৩,,৯১পৃঃ) (মিশকাত হাঃ১৪৪১)।

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণীত, রসুল (সাঃ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাতে রুকুর দুই তাকবীর ছাড়া প্রথমে সাত আর পরে পাঁচ তাকবীর দিতেন। (ইবনু মাযাহ হাঃ১২৮০,, ৯১পৃঃ) (আবু দাউদ হাঃ১১৪৯,,১/১৬৩পৃঃ)।

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ (রাঃ) বলেন আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেছেন ঈদুল ফিতর-এর প্রথম রাক‘আতে সাত তাকবীর দিতে হবে এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে পাঁচ তাকবীর দিতে হবে। আর উভয় রাক‘আতে ক্বিরাআত পড়তে হবে তাকবীরের পর।(আবু দাউদ হাঃ১১৫১ ও ১১৫২,,১/১৬৩)।

৬তাকবীরের পক্ষে রসুল (সাঃ) থেকে সরাসরী কোন সহীহ হাদীস বর্ণীত হয়নি। এর পক্ষে যা কিছু বলা হয় সবই বিভিন্ন ব্যক্তির অভিমত অপব্যাখ্যা যঈফ ও মুনকার বর্ণনা। {বিস্তারিত  দেখুন সহীহ হাদীসের কষ্টি পাথরে ঈদের তাকবীর বইয়ে}

ঈদুল ফিতরের দিনে কিছু খেয়ে  ঈদ মাঠে যাবে । পক্ষান্তরে ঈদুল আযহারের দিনে না খেয়ে যাবে এবং সালাতের পর অথবা নিজ কুরবানীর গোস্ত বা কলিজা দ্বারা প্রথমে নাস্তা করবে। (বুখারী হাঃ৯৫৩,, ১/১৩০) (মিশকাত হাঃ১৪৩৩) (তিরমিযি হাঃ৫৪২,,১/১২০পৃঃ)।ঈদের সালাত খোলা মাঠে পড়া সুন্নত। (বুখারী হাঃ৯৫৬,,১/১৩১পৃঃ) (মিশকাত হাঃ১৪২৬)।

বৃষ্টি বা অন্য কোন বিশেষ সমস্যা ছাড়া মসজিদ যত বড়ই হোক সেখানে ঈদের সালাত হবে না। রসুল (সাঃ) ঈদের সালাত কখনো মসজিদে পড়েননি। বরং মসজিদে সববীর মত বিশাল জায়গা থাকা সত্ত্বেও তিনি তার সামনে খোলা স্থানে ঈদের সালাত পড়তেন। বৃষ্টির কারণে তিনি একবার মসজিদে পড়েছিলেন এ মর্র্মে যে বর্ণনা এসেছে তার সনদ যঈফ। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৫/২২পৃঃ) (যঈফ আবু দাউদ হাঃ১১৬০) (মিশকাত হাঃ১৪৪৮)।

ঈদের মাঠে গিয়ে সালাতের জন্য ডাকাডাকি করা সালাতের পূর্বে আলোচনা করা বক্তব্য দেওয়া নিষিদ্ধ। বরং সকলে নিজ নিজ তাকবীর তাসবীহ পাঠ করবে। (মুসলিম হাঃ২০৪৯) (মিশকাত হাঃ১৪৫১)।

ঈদের খুৎবা হবে একটি। রসুল (সাঃ)ঈদায়নের সালাত শেষে দাঁড়িয়ে একটি খুৎবা দিয়েছেন। দুই খুৎবা দেওয়ার প্রমাণ বর্ণীত হাদীস যঈফ। খুৎবার সময় ইমাম হাতে লাঠি রাখবেন। (বুখারী হাঃ৯৭৮, ১/১৩৩পৃঃ) (মুসলিম হাঃ৮৮৫) (মিশকাত হাঃ১৪২৯)। যঈফ ইবনে মাযাহ হাঃ১২৮৯৮,পৃঃ৯১)।

নারী-পুরুষ সকলেই ঈদগাহে ঈদের জামা‘আতে শরীক হবে। ঋতুবতী মহিলাগণ খুৎবা ও দু‘আ শরীক হবে সালাত আদায় করবে না। পৃথকভাবে মহিলারা জামা‘আত করতে পারবে না। তবে ঈদগাহে জায়গা না থকলে মহিলারা পর্দার সাথে পৃথক ঈদের জামা‘আত করতে পারবে। তখন একজন পুরুষ ব্যক্তি তাদের সালাত পড়িয়ে দিবে। (বুখারী হাঃ৯৭৪, ১/৩৩পৃঃ) (মিশকাত হাঃ১৪৩১) (বুখারী হাঃ৯৮৭-এর অনুচ্ছেদ-২৫)।

ঈদের সালাতের পর মুনাজাতের নামে যে প্রথা চালু আছে শরী‘আতেদ তার কোন ভিত্তি নেই। খুৎবার পরে রসুল (সাঃ) পুনুরায় ঈদ মাঠে বসেছেন এর প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং খুৎবার মধ্যেই ইমাম সকলের জন্য দু‘আ করবেন। এ সময় মুক্তাদীগণ ইমামের দু‘আয় আমিন আমিন বলবে। (বুখারী হাঃ৯৭৭,৯৭৮,১/৩৩পৃঃ) (মুসলিম হাঃ৮৮৫) (মিশকাত হাঃ১৪২৯)।

ঈদ মাঠে বা ঈদের দিন পরস্পর কোলাকুলি করা শরী‘আত সম্মত নয়। মুসলিম সমাজে এটি বিদ‘আতের প্রচলন মাত্র। বরং পরস্পরের সাক্ষাতে ( তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা) বলবে। সফর থেকে আসা ব্যক্তির সাথে কোলাকুলি করা যায়। (ফাৎহুল বারী ৩/৫৬৭পৃঃ)।

ঈদের সালাত পড়ার পর কবর যিয়ারত করারও কোন ভিত্তি নেই। এই বিত‘আদ অভ্যাস সত্বর পরিত্যাজ্য। বরং যেকোন সময় যেকোন দিনে কবর যিয়ারত করবে।(মুসলিম হাঃ৯৭৫ ১ম খন্ড ৩১৩পৃঃ) (মিশকাত হাঃ১৭৬৭)।

ঈদ মাঠ সজ্জিত করা আলোকসজ্জা করা, ঈদ উপলক্ষে পটকা ফোটানো,বাঁশি বাজানো ও মেলায় যাওয়া বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।রসুল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখে , সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। ঈদের খুশির নামে গান-বাজনা বেপর্দা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতাসহ যাবতীয় জাহেলী কর্মকান্ড হারাম। (আবু দাঊদ হাঃ৪০৩১) (মিশকাত হাঃ৪৩৪৭)।

ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে বের হওয়ার পর থেকে সালাত শেষ করা পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করবে। আর ঈদুল আযহার সময় ৯ যিলহজ্জ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর সালাতের পর পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করবে। তবে  যিলহজ্জ এর প্রথম দিন হতে কুরবানীর পরের তিনদিন পর্যন্তও তাকবীর পাঠ করা যায়। মহিলারাও নিম্নস্বরে তাকবীর পাঠ করবে।(বুখারী হাঃ৯৬৯-এর অনুচ্ছেদ দ্রঃ১/১৩২পৃঃ)

তাকবীরের শব্দাবলী নির্দিষ্ট নেই। তবে ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) পড়েছেন, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লা-হিল হামদ।(মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ হাঃ৫৬৯৭, ২/৭৩পৃঃ)।

শাওয়ালের ছিয়ামঃ যে ব্যক্তি রমযানের ছিয়াম পালন করে শাওয়াল মাসে ছয়টি ছিয়াম পালন করল, সে যেন সারা বছর ছিয়াম পালন করল। ( মুসলিম হাঃ১১৬৪, ১/৩৬৯পৃঃ) (মিশকাত হাঃ২০৪৭) (বাংলা মিশকাত হাঃ১৯৪৮, ৪/২৪২২পৃঃ)।

 

Leave a Comment